টুঙ্গিপাড়ায় বারখাল পুনঃখনন পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক

টুঙ্গিপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি প্রকাশিত: জুন ১৯, ২০২৬, ০৮:৪৫ পিএম
টুঙ্গিপাড়ায় বারখাল পুনঃখনন পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে পুনঃখনন করা ১ হাজার ৮০০ মিটার দীর্ঘ বারখাল পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফ উজ জামান।

শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেল ৪টায় নৌকাযোগে খালটি পরিদর্শন করে তিনি খননকাজের অগ্রগতি ও এর সম্ভাব্য সুফল সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের খাল পুনরুদ্ধার ও দখলমুক্ত করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। টুঙ্গিপাড়ায় বিভিন্ন মৎস্য প্রকল্পের দখলে থাকা খালগুলোও পর্যায়ক্রমে উন্মুক্ত করা হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, খাল পুনঃখননের ফলে দেশীয় প্রজাতির মাছের সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে কৃষকরা সহজে নৌপথে ধান ও অন্যান্য কৃষিপণ্য পরিবহন করতে পারবেন। এতে কৃষক ও মৎস্যজীবী উভয়েই উপকৃত হবেন এবং স্থানীয় অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জহিরুল আলম। তিনি বলেন, প্রকল্প অনুযায়ী যে পরিমাণ খননের কথা ছিল, অনেক স্থানে তার চেয়েও বেশি গভীরতা নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে খালটি এলাকার কৃষক, মৎস্যজীবী ও সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

খাল পরিদর্শনের সময় জেলা প্রশাসক নৌকাভ্রমণের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেন, আমি গ্রামীণ পরিবেশে বড় হয়েছি। নৌকায় করে পুরো খাল ঘুরে দেখতে খুব ভালো লাগছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাকুড়তিয়া বাজার জামে মসজিদ এলাকা থেকে পারঝনঝনিয়া খাল পর্যন্ত বারখালটি পুনঃখনন করা হয়েছে। দীর্ঘদিন নাব্যতা সংকট ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় কৃষক ও মৎস্যজীবীরা নানা সমস্যায় পড়েছিলেন। পুনঃখননের ফলে খালটির পানি ধারণক্ষমতা বেড়েছে এবং নৌযান চলাচলের সুবিধা সৃষ্টি হয়েছে।

ইউএনও জহিরুল আলম জানান, প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে EGPP প্রকল্পের আওতায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের তত্ত্বাবধানে খালটি পুনঃখনন করা হয়েছে। এর ফলে কৃষি, মৎস্য ও গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হওয়ায় তারা খাল পুনঃখনন কার্যক্রমকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, এ উদ্যোগ কৃষি উৎপাদন, মাছ আহরণ এবং গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করবে।

এম জি