সমাজের অন্ধকার, সহিংসতা ও নেতিবাচকতার গল্প নয়; শিশুদের সাফল্য, স্বপ্ন ও সম্ভাবনার গল্পই দেখতে চাই বলে মন্তব্য করেছেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন।
শুক্রবার সকালে নগরীর অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে খেলাঘর আসর বরিশাল জেলা কমিটির দুই দিনব্যাপী সম্মেলন ও শিশু সমাবেশের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়। পরে ফেস্টুন ও পায়রা উড়িয়ে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের সূচনা করা হয়।
বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বলেন, শিশুদের চাঁদের মতো সুন্দর মুখগুলোকে অন্ধকার ও সহিংসতার পরিবেশ থেকে রক্ষা করা এবং তাদের বিকাশের পথ সুগম করা সমাজের সবার দায়িত্ব। নানা কারণে অনেক শিশু ঘরে-বাইরে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে এবং তাদের সম্ভাবনা অকালে ঝরে যাচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
তিনি বলেন, শিশুদের সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা নিজেদের প্রতিভা বিকশিত করতে পারে। শিশুদের জন্য নিরাপদ, মানবিক ও আনন্দময় পরিবেশ গড়ে তোলার দায়িত্ব সমাজের সকলের।
বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর সমাজে শিশু-কিশোরদের জন্য সুস্থ বিনোদন ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, আজকের শিশুরাই আগামীর নেতৃত্ব দেবে। তাদের বিকাশে এ ধরনের আয়োজন আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন।
প্রশাসক আরও বলেন, শিশুদের প্রতিভা বিকাশে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। ‘নতুন কুঁড়ি’র মতো প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিশুদের সৃজনশীল বিকাশের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এসব উদ্যোগ আত্মবিশ্বাসী ও যোগ্য নাগরিক গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
বরিশালকে শিশু ও নারীবান্ধব, পাশাপাশি মাদকমুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, শিশুদের সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। খেলাঘরের মতো সংগঠন শিশু-কিশোরদের সৃজনশীল, মানবিক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
খেলাঘর বরিশাল জেলা কমিটির সভাপতি ও সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির চেয়ারম্যান পঙ্কজ রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খেলাঘর কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন ড. শিল্পী কাজী মোজাম্মেল হোসেন, প্রেসিডিয়াম সদস্য জীবন কৃষ্ণ দে এবং সাধারণ সম্পাদক রেজাউল কবীর।
ড. শিল্পী কাজী মোজাম্মেল হোসেন বলেন, খেলাঘরের কার্যক্রমের মাধ্যমে যে নতুন প্রজন্ম গড়ে উঠছে, তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, মানবিক মূল্যবোধ ও প্রগতিশীল চিন্তা ধারণ করে দেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে খেলাঘর দীর্ঘ ৭৪ বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক তৌছিক আহমেদ রাহাত, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শুভঙ্কর চক্রবর্তী, আবুল কালাম টিপুসহ অন্যরা। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এম জি
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন