বেনাপোল কাস্টমসের গোডাউন থেকে পণ্য পাচার, গ্রেপ্তার ৩

মিরাজ আহমেদ, মাগুরা প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম
বেনাপোল কাস্টমসের গোডাউন থেকে পণ্য পাচার, গ্রেপ্তার ৩

যশোরের বেনাপোল কাস্টমসের জব্দ পণ্যের গোডাউন থেকে ভারতীয় পণ্য পাচারের অভিযোগে এক কাস্টমস কর্মকর্তাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত একটি কাভার্ড ভ্যান জব্দ এবং প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের বিভিন্ন পণ্য উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে বেনাপোল বাজার এলাকা থেকে তাঁদের আটক করা হয়। পরে বিকেলে বেনাপোল সদর বিজিবি ক্যাম্প থেকে আটক ব্যক্তিদের বেনাপোল পোর্ট থানায় সোপর্দ করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন- বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) শ্রী ইন্দ্রজিৎ মুখার্জী, কাভার্ড ভ্যানের চালক মহসিন আলী ও হেলপার জাহিদ হাসান।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জব্দ হওয়া চালানে উচ্চ শুল্কের ভারতীয় শাড়ি, থ্রিপিস, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রসাধনী এবং আমদানি নিষিদ্ধ ভারতীয় ওষুধ পাওয়া গেছে। এসব পণ্য কাস্টমসের জব্দ তালিকাভুক্ত ছিল। ঘটনার পর বেনাপোল কাস্টমস হাউসের পক্ষ থেকে দুজন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ও তিনজন সিপাহীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

যশোর-৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে একটি কাভার্ড ভ্যানসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মালামালের হিসাব ও সিজারমূল্য নির্ধারণের কাজ চলছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, বেনাপোল বন্দরে শুল্ক ফাঁকি, পণ্য চুরি ও নানা অনিয়মের ঘটনা অধিকাংশ সময় গভীর রাতে সংঘটিত হয়। প্রতিবারই তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থার আশ্বাস দেওয়া হলেও পরিস্থিতির দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা যায় না। বেনাপোলের ব্যবসায়ী জসিম উদ্দীন বলেন, কাস্টমসে বড় ধরনের অনিয়ম সামনে এলে প্রশাসনিক তৎপরতা দেখা যায়। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ঘটনাগুলো প্রথমে শনাক্ত করে বিজিবি। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নিয়মিত অভিযান না থাকলে অনেক চালান গন্তব্যে পৌঁছে যেত।

বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ী রাজ্জাক হোসেন বলেন, কাস্টমসে এর আগেও পণ্য উধাও ও মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকির মতো ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে অনিয়ম বন্ধ হবে না।

সম্প্রতি বেনাপোল বন্দরের ৩৭ নম্বর শেড থেকে কাস্টমসের জব্দ করা প্রায় ছয় কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় পণ্য উধাও হওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ ছাড়া ৪১ নম্বর শেড থেকে প্রায় ২৫ টন আমদানিকৃত পণ্য নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগে তদন্ত চলছে। এর আগে ২৬ নম্বর শেড থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের ঘোষণাবহির্ভূত ভারতীয় শাড়ি ও প্রসাধনী জব্দ করা হয়েছিল। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় বন্দর ও কাস্টমসের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বেনাপোল কাস্টমসের সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেন বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে দুজন এআরও ও তিনজন সিপাহীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেএইচআর