কেসিসি প্রশাসক

আগামীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবেশ রক্ষায় এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে

নুরুল আমিন, খুলনা প্রকাশিত: জুন ২৪, ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম
আগামীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবেশ রক্ষায় এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে

বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে খুলনা নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে ‘জলবায়ু পরিবর্তন: আজকের পদক্ষেপ, আগামীর নিরাপত্তা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

বুধবার দুপুরে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘রূপান্তর’ আয়োজিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেসিসি প্রশাসক বলেন, ভৌগোলিক কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের মুখে খুলনা অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা ও একটি বাসযোগ্য শহর নিশ্চিত করতে হলে আমাদের এখনই পরিকল্পিত ও টেকসই পদক্ষেপ নিতে হবে।

আজকের অবহেলা বা অসচেতনতা আগামীর জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন। তাই জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, বরং নাগরিক সমাজ ও সাধারণ মানুষকেও সমানভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

নদ-নদীতে প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলার ভয়াবহতা ও ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে নজরুল ইসলাম মঞ্জু আরও বলেন, যত্রতত্র প্লাস্টিক ও পলিথিন ফেলার কারণে নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে এবং নদীগুলো নাব্যতা হারাচ্ছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্লাস্টিকের ব্যবহার ও বর্জ্য ফেলা বন্ধে সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি কঠোর সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। একই সাথে সুন্দরবন উপকূলের সুরক্ষায় যুব সমাজের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি তরুণ প্রজন্মকে পরিবেশ আন্দোলনে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।

রূপান্তরের নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার গুহের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক সাধন চন্দ্র স্বর্ণকার।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- পরিবেশ অধিদপ্তরের বিভাগীয় উপপরিচালক সরদার শরিফুল ইসলাম, নাগরিক ফোরামের সদস্য সচিব ইকবাল হাসান তুহিন, খুলনা প্রেসক্লাবের মো. জাহিদুল ইসলাম এবং বেলার সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুল।

অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত উন্মুক্ত অধিবেশনে সুন্দরবন সংলগ্ন ১৭টি উপজেলার ‘ইয়ুথ ফর সুন্দরবন’ যুব ফোরামের সদস্য, গণমাধ্যমকর্মী, উন্নয়নকর্মী এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নিয়ে পরিবেশ সুরক্ষায় নিজ নিজ মতামত ব্যক্ত করেন।

জেএইচআর