ইসলামী ব্যাংকের পুরোনো যোগ্য মালিকদের ফিরিয়ে দেওয়া যেতে পারে: বিএবি চেয়ারম্যান

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুন ১৮, ২০২৬, ০১:৫১ এএম
ইসলামী ব্যাংকের পুরোনো যোগ্য মালিকদের ফিরিয়ে দেওয়া যেতে পারে: বিএবি চেয়ারম্যান

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ থেকে কোনো প্রকৃত ও সৎ মালিককে অন্যায়ভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়ে থাকলে, তাঁদের পুনরায় মালিকানায় ফিরিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার। তবে এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভালো ট্র্যাক রেকর্ড এবং ব্যাংকের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতায় কার্যকর ভূমিকা রাখার সক্ষমতা থাকতে হবে।

বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এই কথা জানান তিনি। (উল্লেখ্য, মূল খবরের এক জায়গায় অসাবধানতাবশত ১৭ জানুয়ারি লেখা হলেও খবরটি আজ ১৭ জুনের)।

আবদুল হাই সরকার বলেন, ব্যাংককে সচল ও শক্তিশালী করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। এই লক্ষ্য পূরণে প্রয়োজনে যোগ্য ও অভিজ্ঞ পুরোনো মালিকদের আবারও দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। তিনি মন্তব্য করেন, দেশের আর্থিক খাতের কিছু ‘কালাকানুন’ ব্যবসা ও শিল্পের স্বাভাবিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে। সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী এসব আইন নতুন করে পর্যালোচনা করা উচিত। অতীতের কারও অপরাধের দায় ভবিষ্যতের সৎ ও যোগ্য উদ্যোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না।

তাঁর মতে, নিয়ম-কানুন উপেক্ষা করে ক্ষমতার প্রভাবে ব্যাংক থেকে অর্থ বের করে নেওয়া এক ধরনের লুটপাট। আর এই লুটপাটের ফলেই একটি সুস্থ ও শক্তিশালী ব্যাংক ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়েছে। তিনি দাবি করেন, দেশের ব্যাংকিং খাতের কিছু আইন নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে, যা পুনর্বিবেচনা করা দরকার।

এদিকে আজ ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের প্রধান কার্যালয়ে ব্যাংকটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডি মো. আলতাফ হুসাইনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পরিচালনা পর্ষদের চলতি দায়িত্বে থাকা চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন। সভায় আরও বক্তব্য দেন অতিরিক্ত এমডি প্রকৌশলী মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন মজুমদার ও ড. এম কামাল উদ্দীন জসিম।

সভায় মোহাম্মদ জহির হোসেন বলেন, ইসলামী ব্যাংকের স্থিতিশীলতা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের বিষয় নয়, এটি জাতীয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতারও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। গত কয়েক বছরে নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হলেও প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত শক্তি কখনো হারিয়ে যায় না। সঠিক নেতৃত্ব ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সেই শক্তিকে আবারও জাগিয়ে তোলা সম্ভব।

তিনি আরও জানান, দেশের সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে বাংলাদেশ ব্যাংক কিছু সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্বিক দিকনির্দেশনায় ইসলামী ব্যাংক পরিচালিত হবে, যার ফলে ব্যাংকটির কার্যক্রমে সম্পূর্ণ পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে যথাসময়ে একটি শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

জেএইচআর