লাইসেন্স ফিরে পাবে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল, মানতে হবে এক শর্ত

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুন ২৯, ২০২৬, ১২:০০ পিএম
লাইসেন্স ফিরে পাবে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল, মানতে হবে এক শর্ত

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স পুনর্বহালের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যদি এক মাসের মধ্যে নিহত ছয় শিশুর পরিবারের জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে আন্তরিকতা দেখায়, তাহলে হাসপাতালটির লাইসেন্স পুনরায় চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

সোমবার জনপ্রিয় শিল্পী, সাংবাদিক ও লেখক আমিরুল মোমেনীন মানিক নিজের ফেসবুক পোস্টে মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর এ তথ্য জানান। তিনি লিখেছেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাকে জানিয়েছেন, আদ্-দ্বীনের লাইসেন্স বাতিল করা হয়নি, বরং সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করা হলে হাসপাতালটি আবারও কার্যক্রম চালানোর সুযোগ পেতে পারে।

ফেসবুক পোস্টে আমিরুল মোমেনীন মানিক আরও উল্লেখ করেন, হাসপাতালটির পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন মন্ত্রী। পাশাপাশি বিকল্প স্বাস্থ্যসেবায় হামদর্দের কার্যক্রম ও বর্তমান ব্যবস্থাপনার প্রশংসাও করেছেন তিনি। স্বাস্থ্যখাত নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে মন্ত্রী পরিবর্তনের প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরেছেন বলে জানান মানিক।

এর আগে রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল নয়, স্থগিত করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিষয়টি সরকার পর্যালোচনা করছে এবং হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়াই উদ্দেশ্য নয়; বরং স্বাস্থ্যসেবায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠাই সরকারের লক্ষ্য।

সংসদে আলোচনার সময় কয়েকজন সদস্য আদ্-দ্বীনের স্বল্প ব্যয়ে ডায়ালাইসিস সেবার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। জবাবে মন্ত্রী বলেন, ভালো কাজ থাকলেও গুরুতর অনিয়মের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। যারা দায়িত্বে অবহেলা করেছেন বা অপরাধ করেছেন, তাদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে দেশের সব হাসপাতালকে একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থার আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

লাইসেন্স স্থগিতের প্রসঙ্গে বিরোধীদলের সমালোচনার জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যখাতের সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিকভাবে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। তিনি বলেন, মালিকপক্ষের অবহেলা ও একগুঁয়েমির কারণে পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তন এনে নতুন প্রধান নির্বাহী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এরপরও সরকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।

তবে লাইসেন্সের বর্তমান অবস্থান নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। তিনি বলেন, এটি হয়তো শব্দ ব্যবহারের পার্থক্য হতে পারে, তবে তার জানা অনুযায়ী লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছে এবং সরকার প্রক্রিয়াগতভাবে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

অন্যদিকে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন জানিয়েছেন, আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজের ভবিষ্যৎ বিষয়ে সিদ্ধান্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, কলেজের শিক্ষার্থীদের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে এবং তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

এএন