‘শাপলা কলি’ প্রতীক নিয়ে একক লড়াইয়ে নামছে এনসিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: নভেম্বর ২, ২০২৫, ০৫:৫৪ পিএম
 ‘শাপলা কলি’ প্রতীক নিয়ে একক লড়াইয়ে নামছে এনসিপি

নির্বাচন ও প্রতীক ইস্যু নিয়ে দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবার নতুন প্রতীক ‘শাপলা কলি’ বেছে নিয়ে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে দলটি বিএনপি ও জামায়াতের প্রতি কড়া বার্তাও দিয়েছে।

দীর্ঘ কয়েক মাসের জটিলতা শেষে এনসিপি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনের কাছে ‘শাপলা কলি’ প্রতীক বরাদ্দের আবেদন জমা দিয়েছে।

পূর্বে দলটি শাপলা, কলম ও মোবাইল ফোন এই তিন প্রতীক চেয়েছিল।

নির্বাচন কমিশনের নতুন তালিকায় ‘শাপলা কলি’ যুক্ত হওয়ায় দলটি দ্রুত আবেদন করে প্রতীকটি নিজেদের বলে দাবি করেছে।

এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ধানের শীষের বিপরীতে মাঠে দেখা যাবে শাপলা কলি, এটাই হবে জনগণের নতুন প্রতীক।

পাটওয়ারী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, বিএনপির চাঁদাবাজি ও জামায়াতের ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ এই দুই চক্রের রাজনীতির সঙ্গে এনসিপি যুক্ত হতে চায় না।

তিনি জানান, এই দলগুলো যদি নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন না করে, এনসিপি তাদের সঙ্গে কোনো জোটে যাবে না।

দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম যুক্ত করেন, আমাদের রাজনীতি সংস্কারমুখী; যারা সংস্কারের বিপক্ষে, তাদের সঙ্গে ঐক্য সম্ভব নয়।

নির্বাচন কমিশনকে 'ইঞ্জিনিয়ারিং কমিশন' আখ্যা দিয়ে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, 'জনগণ ইতোমধ্যেই ইসির স্বেচ্ছাচারিতা প্রত্যক্ষ করেছে।

তার ভাষায়, 'নির্বাচন যেন প্রযুক্তিগত কৌশলে নয়, বরং জনগণের অংশগ্রহণে হয়।'

দলের প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করে নতুন প্রতীক সংক্রান্ত প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে।

এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছেন, যেখানে অভিযোগ করা হয় গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ২০ অনুচ্ছেদ সংশোধনে বিএনপিকে সুবিধা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

এনসিপির মতে, রাষ্ট্রের উপদেষ্টা কোনো দলের প্রতিনিধি নন; তাই নিরপেক্ষতা নষ্ট হলে গণতন্ত্র দুর্বল হয়।

চিঠিতে আরও বলা হয়, কোনো নিবন্ধিত দল অন্য দলের প্রতীকে নির্বাচন করলে দায়বদ্ধতা ও ভোটার-স্বচ্ছতা হারিয়ে যায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঘোষণা দিয়েছেন, আমাদের দল তিনশ’ আসনেই প্রার্থী দেবে। জোট নয়, জনগণের শক্তিতেই আমরা নির্বাচন করব।

দলটি ইতোমধ্যে প্রার্থী তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে এবং এই মাসের মধ্যেই প্রকাশের ইঙ্গিত দিয়েছে আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, ঢাকা থেকেই আমি প্রার্থী হচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য সংস্কার ও জাতীয় পুনর্গঠনের রাজনীতি।

এনসিপি গত জুনে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করে এবং তখন থেকেই ‘শাপলা’ প্রতীকের দাবি জানিয়ে আসছে।

ইসির প্রাথমিক তালিকায় প্রতীকটি না থাকায় দলটির সঙ্গে কমিশনের কয়েক দফা চিঠি বিনিময় ও বৈঠক হয়।

৩০ অক্টোবর ইসি প্রতীক তালিকা সংশোধন করে ‘শাপলা কলি’ যুক্ত করলে সংকটের অবসান ঘটে।

নতুন প্রতীকের মাধ্যমে এনসিপি এবার নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচয় প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে।

‘শাপলা কলি’ এখন শুধু একটি নির্বাচনী প্রতীক নয়, বরং দলের জন্য হয়ে উঠেছে সংস্কার ও স্বচ্ছতার প্রতীক যা দিয়ে তারা দেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়, শুরু করতে চায়।

ইএইচ