তারেক রহমান

জয়ী হলে প্রাধান্য পাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬, ০৯:৪৮ এএম
জয়ী হলে প্রাধান্য পাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন

ভোর থেকেই রাজধানীর আকাশ ছিল কিছুটা কুয়াশাচ্ছন্ন, কিন্তু নির্বাচনী উত্তাপ ছিল তুঙ্গে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শুরু হওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আজ সকালে সপরিবারে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর গুলশান মডেল স্কুল ও কলেজ কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে তিনি নিজের রায় প্রদান করেন। তাঁর আগমনে কেন্দ্রে উপস্থিত সাধারণ ভোটার ও গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য লক্ষ্য করা যায়। তারেক রহমানের সঙ্গে ভোট দিতে আসেন তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং কন্যা ব্যারিস্টার জায়মা রহমান। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় পরিবারের এই সক্রিয় অংশগ্রহণ সাধারণ মানুষের নজর কেড়েছে।

আজকের ভোটের চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে সকাল সাড়ে ৭টায় এবং শেষ হবে বিকেল সাড়ে ৪টায়। তারেক রহমান গুলশান মডেল স্কুল ও কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেন। তিনি ঢাকা-১৭ এবং বগুড়া-৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোট দেওয়ার পর উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তারেক রহমান জয়ের ব্যাপারে তাঁর প্রবল আত্মবিশ্বাসের কথা জানান। তিনি বলেন, জনগণ আজ তাদের রায়ের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচন করছে। আমি বিশ্বাস করি, যদি নিরপেক্ষভাবে ভোট সম্পন্ন হয়, তবে ধানের শীষের বিজয় সুনিশ্চিত।

নির্বাচনী প্রচারণার সময় থেকে শুরু করে ভোটের আগের রাত পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটা কিছু অপ্রীতিকর ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, গত রাতে দেশের কিছু প্রান্ত থেকে আমরা কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত খবর পেয়েছি, যা আমাদের কাম্য ছিল না। তবে আমরা আশা করি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই ধরনের বিশৃঙ্খলা কঠোর হাতে দমন করবে। কোনো ষড়যন্ত্রই জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন রুখতে পারবে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, যদি তাঁর দল সরকার গঠন করতে পারে, তবে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আমূল উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা আনয়নই হবে তাদের প্রধান অগ্রাধিকার।

এবারের নির্বাচনটি নানা কারণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সারা দেশে ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ চললেও শেরপুর-৩ আসনের প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে সেখানে নির্বাচন স্থগিত রাখা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে দলগত ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট প্রার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। এই নির্বাচনে ৫০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে। নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের বিষয়টি এবারও আলোচনায় এসেছে। দেখা গেছে, মোট প্রার্থীর মধ্যে নারী প্রার্থী মাত্র ৮৩ জন যেখানে দলীয় ৬৩ ও স্বতন্ত্র ২০ জন। অন্যদিকে পুরুষ প্রার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৯৪৫ জন। লিঙ্গ বৈষম্য হ্রাসে ভবিষ্যতে আরও কাজ করার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরুর অনেক আগে থেকেই কেন্দ্রগুলোর সামনে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। বিশেষ করে নারী ও তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। গুলশান, বনানীসহ রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্রে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির শীর্ষ নেতাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে দেখা গেছে। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে গত বুধবার থেকেই প্রতিটি কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছে দেয় নির্বাচন কমিশন। রাতভর কেন্দ্রগুলোতে কড়া পাহারায় ছিল পুলিশ, আনসার ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে দেশের সাধারণ মানুষকে সাহসের সঙ্গে কেন্দ্রে আসার আহ্বান জানান। তিনি মনে করেন, মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণই যেকোনো রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের সবচেয়ে বড় জবাব। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ সচেতন। তারা জানে কীভাবে তাদের অধিকার রক্ষা করতে হয়। আজ বিকেল পর্যন্ত যদি পরিবেশ শান্তিপূর্ণ থাকে, তবে একটি ঐতিহাসিক ফলাফল আমরা দেখতে পাব।

তারেক রহমানের এবারের নির্বাচন দুটি গুরুত্বপূর্ণ আসন থেকে লড়া তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ঢাকা-১৭ যা রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র এবং বগুড়া-৬ যা বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত, আসন দুটিতে তাঁর জয় বা পরাজয় দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে, এরপর শুরু হবে ভোট গণনার কাজ। সারাদেশ এখন তাকিয়ে আছে নির্বাচন কমিশনের ফলাফলের দিকে, কার হাতে যাচ্ছে আগামী দিনের বাংলাদেশের নেতৃত্ব।

জেএইচআর