বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব, সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
সোমবার বিকেলে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
হাসপাতাল ও পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আজ বিকেলে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি না-ফেরার দেশে পাড়ি জমান। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ দেশজুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।
তোফায়েল আহমেদ ছিলেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক জীবন্ত কিংবদন্তি। ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মহানায়ক হিসেবে তিনি ছাত্রসমাজ তথা আপামর জনতার প্রিয় নেতা হয়ে ওঠেন। সেই আন্দোলনের সফল পরিণতিতে তিনি শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অন্যতম সংগঠক এবং মুজিব বাহিনীর অঞ্চলভিত্তিক অধিনায়ক হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
স্বাধীনতার পর তিনি দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, যার মধ্যে বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় অন্যতম। ভোলা থেকে বারবার নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার জন্য সর্বমহলে সমাদৃত ছিলেন। তাঁর এই মহাপ্রয়াণে দেশের একটি রাজনৈতিক অধ্যায়ের অবসান ঘটল।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তাঁর জানাজা ও দাফনের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তাঁর মরদেহ কোথায় নেওয়া হবে, তা কিছুক্ষণের মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন