পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেননি, বরং রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে তার মন্ত্রিত্ব থেকে অপসারণ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সদস্য সর্বমিত্র চাকমা।
মঙ্গলবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে সুপারিশ নিয়ে বিরোধের জেরে এই পরিবর্তন এসেছে এবং বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।
সর্বমিত্র চাকমা লেখেন, ‘ঈদের ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসে পদত্যাগ করলেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। তিনি গতকাল সোমবার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং তা গৃহীত হয়। সরকার গঠনের সাড়ে তিন মাসের মাথায় তার পদত্যাগ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।’
পার্বত্যবাসী বিএনপির উপর আস্থা রেখেছিল উল্লেখ করে ডাকসুর এ সদস্য বলেন, ‘ফলস্বরূপ, তিনটি আসনেই বিএনপি জয় লাভ করে। অত্যন্ত সজ্জন ব্যক্তি রাঙামাটি আসনের এমপি দীপেন দেওয়ান পাহাড়ের পাহাড়ি-বাঙালি উভয় সম্প্রদায়ের শ্রদ্ধার পাত্র।’
‘অসুস্থতার কারণ উল্লেখ করলেও, দীপেন দেওয়ান পার্বত্যমন্ত্রীর পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেননি’ বলে দাবি করেন সর্বমিত্র।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘স্রেফ জেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে সুপারিশের দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তার মন্ত্রিত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছে মাত্র তিন মাসের মাথায়। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দ্বন্দ্বে এভাবে মন্ত্রিত্ব কেড়ে নেওয়ার নজির খুব একটা নেই। পার্বত্যবাসীর মনে এ দাগ থেকে যাবে!’
এদিকে দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ প্রত্যাহার ও পুনর্বহালের দাবিতে রাঙামাটিতে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের একটি অংশ বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে। সোমবার বিকেলে কাঁঠালতলী এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, ৬৩ বছর বয়সী দীপেন দেওয়ান ছাত্রজীবনে ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে সরকারি চাকরি (জুডিশিয়াল সার্ভিস) ছেড়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হন তিনি। রাজনৈতিক জীবনে দীর্ঘ সময় দলীয় ও প্রশাসনিক দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন