বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসির জন্য এসেছে ইতিবাচক একটি খবর। ব্যালন ডি’অর কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে, এই মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার জিততে ইউরোপের কোনো ক্লাবে খেলা বাধ্যতামূলক নয়। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে খেললেও ব্যালন ডি’অর জয়ের লড়াইয়ে মেসির অবস্থানে কোনো প্রভাব পড়বে না।
বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার আগে ব্যালন ডি’অর নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। এমন সময় আয়োজকদের এই ব্যাখ্যা মেসির নবম ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে।
ব্যালন ডি’অরের ইতিহাসে শুরুতে কেবল ইউরোপের লিগে খেলা ইউরোপীয় ফুটবলারদের পুরস্কৃত করা হতো। পরে ১৯৯৫ সালে অন্যান্য দেশের খেলোয়াড়দের জন্য সুযোগ উন্মুক্ত হলেও ইউরোপের ক্লাবে খেলার শর্ত বহাল ছিল। অবশেষে ২০০৭ সালে সেই শর্ত বাতিল করা হয়। এরপর থেকে বিশ্বের সেরা পারফর্মারকেই পুরস্কারটি দেওয়া হচ্ছে, তিনি যে মহাদেশেই খেলুন না কেন।
আয়োজক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ১৮টি ব্যালন ডি’অর আসরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অধিকাংশ বিজয়ী ইউরোপের ক্লাবে খেললেও নিয়মগতভাবে ইউরোপে খেলতেই হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
তারা আরও উল্লেখ করেছে, এখন পর্যন্ত ইউরোপের বাইরের কোনো ক্লাবের হয়ে খেলতে খেলতে ব্যালন ডি’অর জেতা একমাত্র ফুটবলার লিওনেল মেসি। ২০২৩ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ের সময় তিনি ইতোমধ্যেই ইন্টার মায়ামির খেলোয়াড় ছিলেন। সেই সাফল্যের মাধ্যমে তিনি ইতিহাসে প্রথম পুরুষ ফুটবলার হিসেবে ইউরোপের বাইরের ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করে এই পুরস্কার জেতেন।
বিবৃতির শেষাংশে আয়োজকরা বলেন, ব্যালন ডি’অরের ক্ষেত্রে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়। প্রয়োজন শুধু সেরা পারফরম্যান্স।
এদিকে ২০২৬ বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন ৩৯ বছর বয়সী মেসি। সাত ম্যাচে আট গোল করার পাশাপাশি চারটি গোলে সহায়তা করেছেন তিনি। তার নেতৃত্বেই টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা।
এখন স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে নিজের সেরা খেলাটা উপহার দিতে পারলে নবম ব্যালন ডি’অর জয়ের দাবিদার হিসেবে মেসির অবস্থান আরও শক্ত হবে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন