Amar Sangbad
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ২০ মাঘ ১৪২৯

‘সেচ মৌসুমে অগ্রাধিকার দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক

জানুয়ারি ২৪, ২০২৩, ০৭:৫৭ পিএম


‘সেচ মৌসুমে অগ্রাধিকার দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে’

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, সেচ মৌসুমে অগ্রাধিকার দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। সার্বিক সমন্বয়ের মাধ্যমে তদারকি জোরদার করেতে পারলে কৃষকরা উপকৃত হবে। রক্ষনাবেক্ষনের নামে যেন অযথা সময় অপচয় না করা হয়। বিদ্যুৎ ঘাটতির সম্ভাবনা দেখা দিলে তা সংশ্লিষ্ট বিতরণ কোম্পানিসমূহকে বিকল্প উপায়ে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী আজ বিদ্যুৎ ভবনে সেচ মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, চাহিদার সাথে সমন্বয় রেখে উৎপাদনও বাড়ানো হচ্ছে। কৃষকরা সেচের সময় পিক ও অফ পিক আওয়ার মেনে চললে ভালো ফল পাওয়া যাবে। পিডিবি’র চাহিদা মতো প্রাকৃতিক গ্যাস এবং জ্বালানি তেল সরবরাহের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়। এ সময় তিনি বিপিসিকে চাহিদার অতিরিক্ত ফার্নেস অয়েল ক্রয়ের বিষয়ে নির্দেশনা দেন।    

প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি হতে সেচ মৌসুম শুরু হয় যা ৩১ মে পর্যন্ত চালু থাকে। এ সময় বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। উল্লেখ্য যে, গত সেচ মৌসুমে এপ্রিল ২০২২ মাসে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ১৪৭৮২ মেগাওয়াট। চলতি (২০২৩) সেচ মৌসুমে বিদ্যুতের সম্ভাব্য চাহিদা ১৬,০০০ মেগাওয়াট। চলতি সেচ মৌসুমে মোট সেচ সংযোগের সংখ্যা ৪,৬৫,৪৫৬ টি, যার জন্য বিদ্যুৎ লাগবে ২৪,০০ মেগাওয়াট।

চলতি সেচ মৌসুমে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য গ্যাস, ফার্নেস অয়েল ও ডিজেল সরবরাহ বৃদ্ধি করা, যে সকল গ্যাস ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসমূহ নির্বিঘেœ বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম, সে সব বিদ্যুৎ কেন্দ্রে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহ করা, চলতি সেচ মৌসুমে জ্বালানি পরিবহনের ক্ষেত্রে যাতে কোন প্রকার সমস্যা না হয় সে বিষয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগ, বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএ ও বিপিসি‍‍`র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) যোগাযোগ করে জ্বালানি পরিবহণ নিশ্চিত করা, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি), পেট্রোবাংলা ও বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রসমূহে জ্বালানি তেল, গ্যাস এবং কয়লার সুষ্ঠু সরবরাহ নিশ্চিত করা, সেচে পানির সাশ্রয়ী ব্যবহারের লক্ষ্যে অলটারনেট ওয়েট এন্ড ড্রাই পদ্ধতি জনপ্রিয় করতে ব্যাপক প্রচারণা চালানো, সেচ পাম্পে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য গ্রিড উপকেন্দ্র, সঞ্চালন  লাইন, বিতরণ লাইন ও উপকেন্দ্রসমূহ সংরক্ষণ ও মেরামত কাজ জরুরি ভিত্তিতে সম্পন্ন করা, ওভারলোডেড সাবস্টেশনসমূহ ও সঞ্চালন লাইন আপ গ্রেডেশনের কাজ দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে ন্যূনতম ০২ (দুই) মাসের উৎপাদন সক্ষমতা রাখার জন্য জ্বালানি তেলের মজুদ নিশ্চিত করা, সেচ মৌসুমে জরুরি সময়ে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষার্থে সংশ্লিষ্ট সংস্থা/কোম্পানিসমূহ ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা নির্ধারণ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে লাইভ মনিটরিং-এর ব্যবস্থা করা, সেচ পাম্পে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ তদারকির জন্য মনিটরিং কমিটি গঠন এবং গঠিত মনিটরিং কমিটির কার্যক্রম জোরদার করা ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করা হয়। আলোচনাকালে বিপিসি, পেট্রোবাংলা, জন নিরাপত্তা বিভাগ, জ্বালানি বিভাগ, নৌ পরিবহণ মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, বিআইডব্লিউটিসি তাদের গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরেন।

আন্তঃমন্ত্রণালয় এই সমন্বয় সভায় অন্যান্যের মাঝে বিদ্যুৎ সচিব মোঃ হাবিবুর রহমান, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো: মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি)-এর চেয়ারম্যান মোহাং সেলিম উদ্দিন, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জনেন্দ্র নাথ সরকার ও পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন উপস্থিত ছিলেন।

এবি

Link copied!