আমার সংবাদ ডেস্ক
মার্চ ১৪, ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম
দেশের রাজনীতির এক ক্রান্তিলগ্নে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস। রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে দীর্ঘ সময় ধরে চলা তাঁর মস্তিষ্কের দ্বিতীয় দফার অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এই অস্ত্রোপচার শেষ হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র বা আইসিইউতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি উচ্চপর্যায়ের মেডিকেল বোর্ডের অধীনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এর আগে গত বুধবার ১১ মার্চ ইফতারের সময় হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় মির্জা আব্বাসকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গতকাল শুক্রবার বিকেলেই তাঁর মস্তিষ্কে প্রথম দফার অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। তবে শারীরিক জটিলতা বিবেচনায় চিকিৎসকরা দ্রুত দ্বিতীয় দফার অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন।
মেডিকেল বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারটি অত্যন্ত জটিল হলেও তা সফল হয়েছে। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচার পরবর্তী ৭২ ঘণ্টা তাঁর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রাজনৈতিক গুরুদায়িত্বের মাঝেও প্রবীণ এই নেতার অসুস্থতার খবরে বিচলিত হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল জুমার নামাজের পর তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে ছুটে যান। প্রধানমন্ত্রী মির্জা আব্বাসের শয্যাপাশে বেশ কিছুক্ষণ অবস্থান করেন এবং কর্তব্যরত চিকিৎসকদের কাছ থেকে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।
এ সময় তিনি মির্জা আব্বাসের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন এবং প্রবীণ এই নেতার সুচিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় যেকোনো ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা প্রদান করেন।
হাসপাতাল সূত্র ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। মেডিকেল বোর্ড যদি আকাশপথে ভ্রমণের অনুমতি দেয়, তবে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া হবে। এর মধ্যেই তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়ার প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে তাঁর পরিবার। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সসহ যাবতীয় প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
মির্জা আব্বাসের অসুস্থতার খবরে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ লক্ষ্য করা গেছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা দেশবাসীর কাছে তাঁর দ্রুত আরোগ্যের জন্য দোয়া চেয়েছেন। রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদে জুমার নামাজের পর তাঁর সুস্থতা কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
যখন দেশের রাজনীতিতে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন এবং সংবিধান সংস্কারের মতো বিষয়গুলো নিয়ে বিতর্ক চলছে, তখন মির্জা আব্বাসের মতো একজন অভিজ্ঞ নেতার অসুস্থতা রাজনৈতিক অঙ্গনে এক বড় শূন্যতা তৈরি করেছে। এখন সবার প্রার্থনা এবং অপেক্ষা তাঁর সুস্থ হয়ে দ্রুত কর্মক্ষেত্রে ফিরে আসার।
জেএইচআর