আমার সংবাদ ডেস্ক
এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ১০:৪৭ এএম
আজ থেকে ১৩ বছর আগে, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারে ঘটে দেশের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনা রানা প্লাজা ধস। সকালে হঠাৎ করে কয়েক হাজার পোশাক শ্রমিকসহ ধসে পড়ে বহুতল ভবনটি। সরকারি চার্জশিট অনুযায়ী, এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ১১৩৬ জন শ্রমিক এবং গুরুতর আহত হন আরও কয়েক হাজার মানুষ।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে দেশ-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হলেও, সেই দিনের ভয়াবহ স্মৃতি আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন আহত শ্রমিকরা।
রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় অবহেলার মাধ্যমে গণহত্যার অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ার পর ২০১৫ সালে ভবন মালিক সোহেল রানাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। ২০১৬ সালে ঢাকার জেলা জজ আদালতে মামলার বিচার শুরু হলেও, আসামিদের বারবার হাইকোর্টে আপিল ও স্থগিতাদেশের কারণে বিচার কার্যক্রম ২০২২ সাল পর্যন্ত কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।
পরে বিচার পুনরায় শুরু হলেও অগ্রগতি অত্যন্ত ধীর। মামলায় মোট ৫৯৪ জনকে সাক্ষী করা হলেও এখন পর্যন্ত সাক্ষ্য দিয়েছেন মাত্র ১৪৫ জন। গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের আদালতে হাজির করতে বারবার নির্দেশ দেওয়া হলেও পুলিশ তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে আপিল বিভাগ ছয় মাসের মধ্যে মামলাটি নিষ্পত্তির নির্দেশ দিলেও সেই নির্দেশও বাস্তবায়িত হয়নি। এতে বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এ মামলার একমাত্র গ্রেফতার আসামি সোহেল রানার আইনজীবীর দাবি, তার মক্কেল নির্দোষ এবং অন্যায়ভাবে আটক রয়েছেন। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষের অদক্ষতা ও সাক্ষী হাজিরে ব্যর্থতায় বিচার প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে উঠছে।
আগামী ৩০ এপ্রিল মামলাটির পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ যদি পর্যাপ্ত সাক্ষী হাজির করতে পারে, তবে মামলাটি নিষ্পত্তির দিকে এগোতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে, নিহতদের স্মরণে শুক্রবার সকালে রানা প্লাজার সামনে নির্মিত অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান আহত শ্রমিক, নিহতদের স্বজন, শিল্প পুলিশ ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
একইসঙ্গে তারা ক্ষতিপূরণ এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। দিবসটি উপলক্ষে শ্রমিক সংগঠনগুলো বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করে।
১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও, রানা প্লাজার নিহতদের পরিবার ও বেঁচে যাওয়া শ্রমিকদের একটাই দাবি, তা হলো ন্যায়বিচার।
এম জি