Amar Sangbad
ঢাকা শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ২১ মাঘ ১৪২৯

বিএনপি-জামায়াত কে কাকে ছেড়ে গেছে প্রশ্ন আওয়ামী লীগের

নিজস্ব প্রতিবেদক

আগস্ট ২৮, ২০২২, ০৬:২৪ পিএম


বিএনপি-জামায়াত কে কাকে ছেড়ে গেছে প্রশ্ন আওয়ামী লীগের

বিএনপি-জামায়াতের চরিত্র এক বলে দাবি করে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা বলেছেন, জামায়াতে ইসলাম না কি বিএনপির সাথে আর নেই। আসলে বিএনপিকে জামায়াত ছেড়ে গেছে! না কি জামায়াতকে বিএনপি ছেড়ে গেছে! তা বোধগম্য নয়।

কারণ ওদের চরিত্র এক, লক্ষ্যও এক। বিএনপি-জামায়াতের লক্ষ্য বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসকে মুছে ফেলা। আজ রোববার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের আয়োজিত জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় দলটির নেতারা এসব কথা বলেন। 

ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি ইব্রাহিম হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান হৃদয়ের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, মহানগর উত্তরের আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য প্রমুখ।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, বিএনপিকে জামায়াত ছেড়ে গেছে! না কি জামায়াতকে বিএনপি ছেড়ে গেছে! তা বোধগম্য নয়। কারণ ওদের চরিত্র এক, লক্ষ্যও এক।
তারা (বিএনপি-জামায়াত) বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসকে মুছে ফেলতে চায়। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করাই তাদের উদ্দেশ্যে। 

রোববার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের আয়োজিত জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপিকে হুশিয়ারী দিয়ে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, আওয়ামী লীগে ভোট দেওয়ার অপরাধে ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে বিএনপি নেতারা ভাইয়ের সামনে বোনকে ধর্ষণ করেছে। পিতার সামনে কন্যাকে ধর্ষণ করেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ এসব কিছুই করেনি। 

আমরা তো ইচ্ছে করলে গত সাড়ে ১৩ বছরে আপনাদেরকে পিষে দিতে পারতাম। কিন্তু নেত্রী শেখ হাসিনার গণতন্ত্র বিশ্বাস করে বলেই আমাদেরকে সেটা করতে দেননি। করতে দেয়নি বলেই যারা আমাদেরকে রাজনৈতিক অফিসে ঢুকতে দেয় নাই, তারা আজকে গণতন্ত্রের কথা বলে। 

সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কথা বলতেই থাকে। তার পরেও বলে আমাদেরকে (বিএনপি) কথা বলতে দিচ্ছে না। এতটা নির্লজ্জ-বেহায়া।

তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারনী ফোরামে এই নেতা বলেন, এই প্রজন্ম ১৫ আগস্ট দেখেনি, এই প্রজন্ম ২১ আগস্ট দেখেনি, ১৭ই আগস্ট সারাদেশে এক যুগে সিরিজ বোমা হামলা দেখেনি। এ প্রজন্ম জিয়াউর রহমানের অত্যাচার দেখেনি। 

এই প্রজন্ম হাওয়া ভবনের কর্তা দণ্ডিত পলাতক তারেক রহমানের রক্তের হোলি খেলা দেখেনি। এই তরুণ প্রজন্মকে বুঝতে হবে সমাজের শত্রু  কারা, দেশের সার্থবিরোধী কারা এ বিষয়গুলো জানতে হবে।

আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান বলেন, বিএনপির বড় উইকেট পড়ে গেছে। জামায়াতে ইসলাম বলেছে বিএনপির সাথে তারা আর নেই। বিএনপি নৈরাজ্য করে ক্ষমতায় আসতে পারবে না, নৈরাজ্য করলে ছাত্রলীগ বসে থাকবে না। 

তিনি বলেন, গুমের নামে অনেকে নাটক করে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল বাচেলেত ঢাকায় এলে মির্জা ফখরুল ভাবলেন তাদের ক্ষমতায় বসাবে। তারা যখন বলছে, বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সংকট নেই তখন বিএনপির মুখ এখন চুপসে গেছে।

সভায় দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, দেশের অশুভ শক্তির বিষবৃক্ষ কারা- তাদেরকে চিহ্নিত করে প্রতিহত করতে হবে। 

কোন ব্যর্থ রাজাকারেরা অথবা কোন ক্ষুনিরা যাতে দেশে আর একটা নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্যই তরুণ প্রজন্মকে সতর্ক থাকতে হবে। আগামী লড়াই হবে এই অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই। এ লড়াই আমাদের জিততে হবে এর কোন বিকল্প নেই।


আমারসংবাদ/টিএইচ

Link copied!