নিজস্ব প্রতিবেদক
নভেম্বর ১০, ২০২৫, ১১:৪০ পিএম
বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক সংস্কার ও জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, সংস্কারের পথে না হাঁটলে বিএনপি রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে পড়বে।
সোমবার রাজধানীর বাংলামোটরে জাতীয় শ্রমিক শক্তির আয়োজিত ‘জুলাই সনদে শ্রমিক শ্রেণির রাজনৈতিক অবমূল্যায়ন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে যে সংকট তৈরি হচ্ছে, তার জন্য বিএনপি ও জামায়াত উভয়ই দায়ী। জনগণ এখন আর একক নেতৃত্বে বিশ্বাস করে না তারা চায় দলগুলোর মধ্যে সংস্কার ও জবাবদিহি।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, যদি এই রিফর্ম প্রক্রিয়া থেমে যায় বা নির্বাচন বিলম্বিত হয়, তবে দায় নিতে হবে ঐ দুই দলকেই। সরকার যদি পক্ষপাতমূলক আচরণ করে, তাহলে এনসিপি শহীদ পরিবারদের নিয়ে রাজপথে নামবে।
বিএনপির প্রতি সরাসরি সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, এক ফ্যাসিস্টকে সরিয়ে আরেক ফ্যাসিস্ট আনলে দেশ বদলাবে না। শেখ হাসিনা পালিয়েছেন, কিন্তু প্রশ্ন হলো তারেক রহমান পালাবেন কোথায়? সময় এসেছে আত্মসমালোচনার।
তিনি বলেন, একাত্তরের শহীদদের নাম নিয়ে রাজনীতি করা কিংবা শহীদ পরিবারের আবেগকে ব্যবহার করা এসব নব্য ফ্যাসিবাদেরই লক্ষণ। জনগণ এখন অনেক সচেতন, তারা কারও প্রতারণা বরদাশত করবে না।
রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের ভূমিকা প্রসঙ্গে এনসিপি নেতা বলেন, যেভাবে জেনারেশন জেড আপনাদের ভালোবাসতে জানে, তেমনি ভুল ধরতেও জানে। পুরোনো নেতৃত্ব যদি নিজেদের সংশোধন না করে, এই প্রজন্মই আপনাদের ইতিহাসে পাঠাবে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বিএনপি এক সময় প্রার্থী খুঁজে পেত না, এখন আবার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর নিয়োগে ব্যস্ত। কিন্তু জনগণের ভালোবাসা কেনা যায় না এটা ব্যালট রেভ্যুলেশন বা বুলেট রেভ্যুলশন, যেভাবেই হোক জনগণের জয় হবেই।
শ্রমিক শ্রেণির প্রতি সরকারের উদাসীনতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, শ্রম কমিশনের কোনো রিপোর্ট বাস্তবায়িত হয়নি। যারা বছরের পর বছর শ্রমিকদের অধিকারের কথা বলেছে, তারা এখন কয়েকটি সিটের জন্য নীতির সঙ্গে আপস করছে। এটা দুঃখজনক।
এ সময় তিনি শ্রমিকদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা বলয় গড়ে তোলার দাবি জানান এবং বলেন, শ্রমজীবী মানুষকে নিরাপত্তা দিতে না পারলে জাতীয় ঐক্য সম্ভব নয়।
পররাষ্ট্রনীতিতেও পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা কোনো দেশের দাসত্ব চাই না, কোনো দলের দাসত্বও না। বাংলাদেশকে ন্যায্যতার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গড়তে হবে। ধর্মকে বিভেদের অস্ত্র বানানো যাবে না।
নারীদের ভূমিকা প্রসঙ্গে নাসীরুদ্দীন বলেন, দেশের আন্দোলনে মায়েরা ও মেয়েরা অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন। কিন্তু রাজনৈতিক সংস্কারের আলোচনায় তাদের জায়গা নেই। দলের প্রধান নারী হলেই সমাজ নারীবান্ধব হয় না নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই প্রকৃত নারীবান্ধব রাজনীতি।
ইএইচ