নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক এবং ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, মাদক সম্রাটকে বলব, কর্মীদের হাতে মাদক তুলে দেবেন না। সেই কর্মী মাদক খেয়ে একদিন আপনার ওপরেই আঘাত করবে। কর্মীদের মাদক থেকে দূরে রেখে সুস্থ রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনুন।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর দৈনিক বাংলা মোড়ে লিফলেট বিতরণকালে মাদকের বিরুদ্ধে অভিনব ও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে এসব কথা বলেছেন।
তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষের কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, যদি নেশা করতেই হয়, তবে বুড়িগঙ্গার পানি খান, তবুও মাদক সেবন করবেন না।” ঢাকা-৮ আসনকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি এই মন্তব্য করেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তাঁর বক্তব্যে নাম উল্লেখ না করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে ‘মাদক সম্রাট’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতা তাঁর কর্মীদের হাতে অস্ত্র ও মাদক তুলে দিচ্ছেন।
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের উদাসীনতার অভিযোগ তুলে পাটওয়ারী বলেন, নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী মাত্র ২০টি বিলবোর্ড থাকার কথা। কিন্তু এখানে একজন মাদক সম্রাট শত শত বিলবোর্ড লাগিয়েছেন। প্রশ্ন জাগে, এই টাকাগুলো কোথা থেকে আসে? এগুলো কি মাদক বিক্রির টাকা নাকি চাঁদাবাজির?
তিনি আরও জানান যে, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ‘ক্রাউড ফান্ডিং’ বা গণ-চাঁদার মাধ্যমে সংগ্রহ করা অর্থে তাঁরা অল্প কিছু ব্যানার-পোস্টার লাগালেও রাতের আঁধারে সেগুলো ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। এই বিষয়ে প্রশাসন ও প্রতিপক্ষের মধ্যে গোপন সমঝোতা রয়েছে বলেও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোট কারচুপি বা কেন্দ্র দখলের যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করার ডাক দিয়েছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, ১২ তারিখে যারা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বা কেন্দ্র দখলের চিন্তা করবে, তাদের হাত-পা ভেঙে পিলারের সাথে বেঁধে রাখবেন। আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ চাই, যেখানে কেন্দ্র দখলের কোনো জায়গা নেই।
অনলাইন গেমসের মাধ্যমে যুবসমাজের বিপথগামী হওয়ার বিষয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, যারা মাঠে আসতে পারে না, তারা ঘরে বসে গেমসের আড়ালে চাঁদাবাজি ও মাদক বাণিজ্যের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এই সামাজিক ব্যাধি থেকে তরুণদের বাঁচাতে তিনি সর্বস্তরের মানুষের প্রতিবাদের আহ্বান জানান।
ঢাকা-৮ আসনে মির্জা আব্বাসের মতো হেভিওয়েট প্রার্থীর বিপরীতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর এই আক্রমণাত্মক ও সাহসী প্রচারণা ভোটের সমীকরণকে বেশ জটিল করে তুলেছে। একদিকে অভিজ্ঞতার দাপট, অন্যদিকে ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয়—এই দ্বিমুখী লড়াইয়ের চূড়ান্ত রায় এখন ভোটারদের হাতে।
এএন