ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ভারতের ক্রিকেট রাজনীতি ও মোস্তাফিজ ইস্যুতে টাইগারদের বিশ্বকাপ নিয়ে শঙ্কা

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ক্রীড়া প্রতিবেদক

জানুয়ারি ১৩, ২০২৬, ০২:৪২ পিএম

ভারতের ক্রিকেট রাজনীতি ও মোস্তাফিজ ইস্যুতে টাইগারদের বিশ্বকাপ নিয়ে শঙ্কা

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ক্রিকেটে এখন উত্তাল হাওয়া। ক্রিকেটের মাঠ ছাপিয়ে আলোচনা এখন নিরাপত্তার টেবিল আর কূটনৈতিক দরকষাকষিতে। বিশেষ করে ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের ম্যাচ খেলা কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে আইসিসির একটি ‘ইন্টারনাল থ্রেট অ্যাসেসমেন্ট রিপোর্ট’ বা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাঝুঁকি মূল্যায়ন প্রতিবেদন নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ফলে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে শঙ্কা। 

ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সাম্প্রতিক বক্তব্য এবং বিসিবির ব্যাখ্যার পর সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে নানা প্রশ্নের উদয় হয়েছে। সেই সব জটিল প্রশ্নের সহজ উত্তর এবং পুরো পরিস্থিতির একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরা হলো এই প্রতিবেদনে।

কী এই ‘ইন্টারনাল থ্রেট অ্যাসেসমেন্ট রিপোর্ট’?

আইসিসির প্রতিটি বড় ইভেন্টের আগে একটি স্বাধীন নিরাপত্তা দল স্বাগতিক দেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। তারা একটি প্রতিবেদন তৈরি করে যা সব দেশের ক্রিকেট বোর্ডকে দেওয়া হয়। এই রিপোর্টের কাজ হলো—স্রেফ পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা। এটি কোনো ‘আদেশ’ নয়। রিপোর্টে বলা হয় না যে, “অমুক দেশ খেলবে” বা “খেলবে না”। সেখানে শুধু ঝুঁকির জায়গাগুলো চিহ্নিত করা হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট দেশ ঠিক করে তারা সেই ঝুঁকি নিয়ে খেলতে যাবে কি না, নাকি নিরাপত্তা আরও বাড়ানোর দাবি জানাবে।

মোস্তাফিজ ইস্যু: খেলার মাঠ থেকে নিরাপত্তার থ্রেট

এবারের রিপোর্টে সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো টাইগার পেসার মোস্তাফিজুর রহমানের নাম আসা। আইপিএল থেকে তাকে বাদ দেওয়া নিয়ে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তাকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে নিরাপত্তা শঙ্কার মেঘ।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, যেহেতু মোস্তাফিজকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে একটি উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তাই ভারতের মাটিতে তার উপস্থিতি একটি বড় নিরাপত্তা ইস্যু হয়ে দাঁড়াতে পারে। আইসিসি সরাসরি মোস্তাফিজকে ছাড়া বাংলাদেশে যেতে বলেনি, বরং এটি বুঝিয়েছে যে তাকে নিয়ে গেলে বাড়তি ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

তিনটি প্রধান ঝুঁকির জায়গা

আইসিসির নিয়োগ করা সেই স্বাধীন নিরাপত্তা বিশ্লেষক দল তাদের প্রতিবেদনে তিনটি বিষয়কে হাইলাইট করেছে:

১. মোস্তাফিজুর রহমান প্রসঙ্গ: আইপিএল কেন্দ্রিক জটিলতার কারণে ভারতের সমর্থকদের রোষানল বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির শিকার হতে পারেন এই তারকা পেসার।

২. জার্সি ও সমর্থক: ভারতের স্টেডিয়ামগুলোতে বাংলাদেশের জার্সি গায়ে সমর্থকদের যাতায়াত বা অবস্থান করাটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। অর্থাৎ, সাধারণ সমর্থকদের নিরাপত্তাও এখানে প্রশ্নের মুখে।

৩. রাজনৈতিক উত্তাপ: বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন এবং দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সমীকরণ ভারতের মাটিতে উত্তাপ ছড়াতে পারে, যার আঁচ লাগতে পারে ক্রিকেটারদের গায়েও।

আসিফ নজরুলের অবস্থান ও বিসিবির ব্যাখ্যা

যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এই রিপোর্টকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছেন। তার মতে, আইসিসির নিরাপত্তা দলের এই পর্যবেক্ষণ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করে যে, বর্তমানে ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলার মতো পরিস্থিতি নেই। তিনি মনে করেন, যেখানে দলের সেরা খেলোয়াড় বা সমর্থকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত নয়, সেখানে খেলতে যাওয়া যুক্তিসংগত হতে পারে না।

তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) পুরো বিষয়টি নিয়ে কিছুটা ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নিয়েছে। বিসিবি জানিয়েছে, এটি মূলত একটি নিয়মিত রিপোর্ট যা আইসিসি সব বোর্ডকেই দেয়। এটিকে বাংলাদেশের ভেন্যু পরিবর্তনের আবেদনের সরাসরি ‘না’ বা ‘হ্যাঁ’ উত্তর হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। ভেন্যু পরিবর্তনের বিষয়ে আইসিসির আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের জন্য এখনও অপেক্ষা করছে বিসিবি।

আইসিসির এই দলটিতে কারা থাকেন?

এটি কোনো রাজনৈতিক দল নয়। এই নিরাপত্তা বিশ্লেষক দলে থাকেন আইসিসির নিজস্ব নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, স্বাগতিক দেশের (এক্ষেত্রে ভারত) বিভিন্ন গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থার প্রতিনিধি এবং অনেক সময় আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সদস্যরা। ফলে এই রিপোর্টে ভারতের নিজস্ব নিরাপত্তা সংস্থাগুলোরও যে শঙ্কা মিশে আছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

ইতিহাস কী বলে?

ক্রিকেট বিশ্বে এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। অতীতেও নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে অস্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ডের মতো দেশগুলো বাংলাদেশ বা পাকিস্তান সফর বাতিল করেছে। তবে বিশ্বকাপের মতো একটি বৈশ্বিক ইভেন্টে ভেন্যু নিয়ে এমন জটিলতা টুর্নামেন্টের চাকচিক্যকে ম্লান করে দেয়।

সামনে কী অপেক্ষা করছে?

পরিস্থিতি এখন এমন এক পর্যায়ে যেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বল আইসিসির কোর্টে। বিসিবি এরই মধ্যে ভারতের বদলে অন্য কোনো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো আয়োজনের অনুরোধ করেছে। অন্যদিকে ভারত সরকার ও বিসিসিআই তাদের নিরাপত্তা সক্ষমতার কথা জোর দিয়ে বলছে।

কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়—যেখানে একজন খেলোয়াড় বা একজন সমর্থকের নিরাপত্তা নিয়ে খোদ আইসিসির স্বাধীন দল সংশয় প্রকাশ করে, সেখানে কেবল ‘আশ্বাসে’ ভর করে দল পাঠানো কি ঠিক হবে?

ক্রিকেট কেবল ব্যাটে-বলের লড়াই নয়, এটি জাতীয় মর্যাদারও বিষয়। মোস্তাফিজ বা অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা থাকলে তা পুরো দলের মনোবল ভেঙে দিতে পারে।

পরিশেষে, আইসিসির এই রিপোর্টটি কোনো চূড়ান্ত রায় নয়, বরং এটি একটি ‘সতর্কবার্তা’। বাংলাদেশ সরকার এবং বিসিবিকে এখন খুব সুচারুভাবে এই পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে। একদিকে যেমন খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন, অন্যদিকে বিশ্বকাপের মতো আসর থেকে ছিটকে পড়া বা না খেলার নেতিবাচক দিকগুলোও মাথায় রাখতে হবে। তবে একটি কথা পরিষ্কার—নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস হতে পারে না।

শাপলা চত্বরের সেই উদাহরণের মতো, রাস্তার পানি না সরা পর্যন্ত বা গণ্ডগোল না থামা পর্যন্ত মতিঝিলের অফিসে না যাওয়াটাই যেমন বুদ্ধিমানের কাজ, বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়েও কি তেমন কোনো সাহসী সিদ্ধান্তের সময় এসেছে? উত্তর মিলবে খুব শীঘ্রই।

এএন

Link copied!