ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

এ যেন বিচ্ছিন্ন এক দ্বীপ

আবদুর রহিম ও মুহাজিরুল ইসলাম রাহাত

আবদুর রহিম ও মুহাজিরুল ইসলাম রাহাত

জুন ১৯, ২০২২, ০৯:৫২ এএম

এ যেন বিচ্ছিন্ন এক দ্বীপ

আপনজনের সব কবর ডুবে গেছে। পরিবার আত্মীয় স্বজনদের কারো খোঁজ পাচ্ছি না। মনটা একটুও প্রশান্তি নেই। হে আল্লাহ! তুমিই একমাত্র ভরসা। ঢাকায় বসে এমন আকুতি বিল্লাল হোসেন সাগরের। গত তিন দিনে ভারতীয় পানিতে সিলেট ও সুনামগঞ্জ ৯০ ভাগ তলিয়ে গেছে। ডুবে মরে গেছে চার প্রাণ। এখনো বহু মানুষ নিখোঁজ। মিলছে না সন্ধান। মোবাইলফোনে যোগাযোগ সম্ভব হচ্ছে না। পুরো সিলেটে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন।

এ পরিস্থিতিতে সিলেট যেন একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হয়ে গেছে। দুর্গম এলাকায় আটকেপড়া মানুষ খাবার নয়,  উঁচু এলাকায় জীবন নিয়ে ফিরতে চাচ্ছেন। আউলিয়ার শহরের এখন পা রাখার একটু শুকনো জায়গাও নেই। বিমানবন্দর, রেলস্টেশন, সড়কপথ, হাসপাতাল ও বসতবাড়ি সবই পানির নিচে। হাসপাতালে আইসিইউ রোগীদের নিয়ে মহাসংকটে চিকিৎসাসেবা। নগরের কোথাও বুক সমান কোথাও গলা সমান পানি। 

গত শুক্রবার পর্যন্ত ট্রেনযোগে হাজার হাজার মানুষ সিলে ছাড়তে পারলেও এখন স্টেশনেও পানি ঢুকে পড়েছে। ট্রেন যোগাযোগও বন্ধ। স্থানের তুলনায় আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষের সংখ্যা বেশি হওয়ায় সেখানেও মানবিক বিপর্যয়। গবাধি পশু-পাখির সাথে মানুষ ঠাসাঠাসি করে থাকছে। দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের তীব্র সংকট। নৌকার অভাবে আশ্রয়কেন্দ্রেও আসতে পারছেন না ভানবাসি মানুষ। বন্যার পানিতে ভেসে যাচ্ছে গবাদি পশু-পাখি। এ পরিস্থিতে চরম বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে ৬০ লাখ মানুষ। দুর্গতদের উদ্ধারকাজে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও কোস্টগার্ড যুক্ত হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বন্যাকবলিত এলাকায় নৌকার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে বানভাসি মানুষের কাছে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এমনকি আশ্রয়কেন্দ্রগুলোয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছানো যাচ্ছে না। এ ছাড়া খাদ্যগুদামের আশপাশে পানি থাকায় অনেক ক্ষেত্রে সেখান থেকেও খাদ্যসামগ্রী বের করা সম্ভব হচ্ছে না। সিলেট ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় ৫০ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এই দুই জেলায় বন্যা উপদ্রুত এলাকা থেকে দুর্গতদের উদ্ধার আর জরুরি ত্রাণ সহায়তা পৌঁছাতে সব রকমের চেষ্টা চালাচ্ছে জেলা প্রশাসন। সেনাবাহিনী , নৌবাহিনী ছাড়াও বিমানবাহিনীর দুটি হেলিকাপ্টার ও কোস্টগার্ডের দুটি ডুবুরি দলও উদ্ধার কাজে যুক্ত হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় আটকেপড়াদের উদ্ধারে কাজ শুরু করেছে বিজিবি।

আমার সংবাদকে এ তথ্য জানিয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান। তিনি  বলেন, ‘নৌবাহিনীর ৩৫ জনের একটি দল উদ্ধার কাজ শুরু করেছে। বিকেলে ৬০ জনের আরেকটি বড় দল তাদের সাথে যোগ দেয়। কোস্টগার্ডের দুটি ক্রুজও দুপুরে যুক্ত হয়। একটি সুনামগঞ্জ যায় এবং একটি সিলেটে উদ্ধার কাজে নিয়োজিত থাকবে। এ ছাড়া বিমানবাহিনীর
দুটি হেলিকপ্টার উদ্ধার কাজে নিয়োজিত থাকবে।’ 

তিনি আরও জানান, ‘নৌবাহিনীর একটি দল সিলেট সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নে কাজ শুরু করেছে এবং একটি দল কোম্পানিগঞ্জের দিকে রয়েছে। এ ছাড়া সেনাবাহিনী সিলেট সদর, কোম্পানিগঞ্জ এবং গোয়াইনঘাটে উদ্ধার কাজে নিয়োজিত রয়েছে।’ 

আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই পাওয়া লোকজন জানান, অনেকের ঘরে গলা সমান পানি উঠায় জীবন বাঁচতে তারা আশ্রয়কেন্দ্রে এসেছেন। তবে এখানেও আরেক ভোগান্তি। স্থানের তুলনায় আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষের সংখ্যা বেশি। গবাদি পশু-পাখির সাথে গাদাগাদি করে তাদের রাত কাটাতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত খাবারও পাচ্ছেন না অনেকে। 

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড-পাউবো সিলেট কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বেলা ৩টা পর্যন্ত সিলেটের প্রধান নদী সুরমার কানাইঘাট, শেওলা ও সিলেট পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় অন্যান্য নদ-নদীর পানিও বাড়ছে।

এদিকে সিলেট নগরের বিভিন্ন এলাকায় বানের পানি ঢুকে পড়েছে। এতে অনেক উঁচু এলাকাও এখন প্লাবিত হয়ে পড়ছে। গতকাল নতুন করে নগরের অন্তত ২৫টি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এ অবস্থায় দুর্ঘটনা এড়াতে পুরো জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। মানুষের বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ার পাশাপাশি রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। অসংখ্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও পানি ঢুকেছে। এতে মানুষজন চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। এছাড়া জেলার কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ, জৈন্তাপুর, দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও সিলেট সদর উপজেলায়ও পানি বেড়ে চলছে বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন।

বিদ্যুৎহীন পুরো সিলেট : সিলেটের কুমারগাঁও গ্রিড উপকেন্দ্র ঢলের পানি ঢুকে পড়ায় বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রটি বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফলে পুরো সিলেটে ও সুনামগঞ্জে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়েছে। গতকাল শনিবার দুপুর সোয়া ১২টা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়। বিদ্যুৎ বিভাগের সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল কাদের জানান, পানি উঠে যাওয়ায় আপাতত সাব-স্টেশনটি বন্ধ করা হয়েছে। তবে আমরা চেষ্টা করছি পানি সেচে দ্রততম সময়ের মধ্যে এটি আবার চালু করতে। 

রেল যোগাযোগ বন্ধ : এদিকে পানি বাড়ায় গতকাল দুপুর থেকে সিলেটের সাথে সব রুটের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। তবে ঢাকাগামীসহ অন্যান্য রুটের যাত্রীরা জেলার ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মাইজগাঁও স্টেশন থেকে যাতায়াত করতে পারবেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। 

স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত : বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় দুর্ঘটনা এড়াতে পুরো জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে হাসপাতালে রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হয়ে পড়েছে। গতকাল দুপুরে সিলেটের শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল ও এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। পানি ঢুকে পড়েছে শামসুদ্দিন হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারেও। এতে দুর্ঘটনা এড়াতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। সেই সাথে জেনারেটর কক্ষে পানি ঢুকে পড়ায় জেনারেটরও চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।

ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া জানান, হাসপাতালে বন্যার পানি প্রবেশ করায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। সেই সাথে হাসপাতালের জেনারেটর কক্ষে পানি প্রবেশ করেছে। তাই জেনারেটরও চালু করা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘আমরা বিকল্প পদ্ধতিতে হাসপাতালের আইসিসিইউ ও সিসিইউয়ে থাকা রোগীদের জন্য জেনারেটরের ব্যবস্থা করতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি।’ অন্যদিকে গতকাল সকালে শহীদ ডা. শামসুদ্দিন হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে বন্যার পানি প্রবেশ করে। এরপর দুর্ঘটনা এড়াতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করা হয়। ওই হাসপাতালের জেনারেটর কক্ষে পানি ঢুকে পড়েছে। তাই জেনারেটরও চালু করা সম্ভব হয়নি। 

সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আনোয়ার সাদাত জানিয়েছেন, ‘জেলায় মোট ৩৫০টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০০টি কেন্দ্রের আশ্রয়গ্রহণকারীদের তথ্য জেলা প্রশাসনের কাছে রয়েছে। সে হিসাবে ২০০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৬ হাজার ৮৪৪ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।’ বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সিলেট শাখার সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম চৌধুরী কিম আমার সংবাদকে জানান, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে আছে। বর্জ্য ও বিভিন্ন প্লাস্টিকজাত দ্রব্য সুরমার তলদেশে শক্তভাবে বসে আছে। তাই সুরমা নদী খননের দাবি আমরা অসংখ্যবার জানিয়েছি। সেই দাবি আমলে নিলে নদীর পানি উপচে বন্যা হতো না, সিলেট নগরের ছড়া ও খালের পানিও অনায়াসে নেমে যেতে পারত। তিনি বলেন, দ্রুত সুরমা, কুশিয়ারাসহ সিলেটের অন্য নদ-নদীর খনন করা প্রয়োজন। তবেই এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব।

সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘সুরমা, কুশিয়ারাসহ সিলেটের অন্য নদ-নদীর খনন করা প্রয়োজন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার আমরা সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলেছি তবুও তারা কার্যত কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না।’ সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আনোয়ার সাদাত জানান, এই মুহূর্তে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বলা যাচ্ছে না। তবে এ পর্যন্ত জেলার প্রায় ১০ লাখ মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। জেলার সবকটি উপজেলাসহ প্রায় ৮০ ভাগ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বুধবার থেকে এ পর্যন্ত বন্যায় মারা গেছেন চারজন। তবে নিখোঁজের কোনো তথ্য তার জানা নেই বলে জানান তিনি।

রৌমারীতে লাখো মানুষ পানিবন্দি : আমাদের রৌমারী কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি বেলাল হোসেন জানিয়েছেন, ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি  ঢল ও ভারী বর্ষণে কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার  সবগুলো নদ-নদীর পানি বেড়েই চলছে । এতে ৮০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে এবং প্রায় ৯০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পরেছেন। গতকাল শনিবার রৌমারী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় রৌমারী উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নেই বন্যার পানি ঢুকে পরেছে। বাড়ির চতুর্থ দিকে থইথই করছে পানি এবং প্রায় দুই শতাধিক পরিবারের ঘরের ভেতরেও পানি প্রবেশ করেছে। কেউবা ঘরের ভেতর উঁচু করে মাচান দিয়ে তার উপরে কোনোমতে সময় কাটাচ্ছেন। 

এসব এলাকার মানুষ নৌকা ও কলাগাছের ভেলায় করে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করছে। দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো.আবু সাঈদ  জানান, আমার  ওয়ার্ডের কাউনিয়ার চর, আমবাড়ি, চরগয়টা পাড়া, কেল্লাবাড়ি, গ্রামের সব বাড়ির চারপাশে পানি প্রবেশ করেছে। এতে প্রায় এক হাজর পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং প্রায় শতাধিক পরিবারের ঘরের ভেতরে পানি প্রবেশ করেছে। 

এছাড়া কয়েকটি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। রৌমারী উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি অফিসার আমিনুল ইসলাম (কাজল) বলেন, উপজেলায় প্রায় ধুই হাজার ৮৫০ হেক্টর পাট, দুই হাজার ৩২০ হেক্টর রোপা আউশ, ৯৫ হেক্টর তিল, প্রায় ৮০ হেক্টর আখ, ৩৭৫ হেক্টর শাকসবজি এবং অন্য ফসল প্রায় ২০ হেক্টর পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে করে হাজার হাজার কৃষক ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

নেত্রকোনায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি : নেত্রকোনায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।  গতকাল বিকাল পর্যন্ত সাত উপজেলার ৪০টি ইউনিয়নে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। সেই সাথে ভেঙে পড়েছে রেল যোগাযোগও। নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এম এল সৈকত জানান, নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সোমেশ্বরী নদের পানি সামান্য কমলেও কলমাকান্দায় উব্ধাখালি, নেত্রকোনা ও মোহনগঞ্জে কংশ ও খালিয়াজুরীতে ধনু নদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্রাথমিক হিসাবে সাতটি উপজেলার কমপক্ষে ৫০০ বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। বন্যাকবলিত এলাকার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। 

এদিকে বারহাট্টা উপজেলার অতীতপুরের রেল স্টেশনের কাছে ইসলামপুর গ্রামে ৩৬ নং রেল সেতুটি ধসে গেলে ঢাকা-মোহনগঞ্জ ভায়া নেত্রকোনার সাথে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষ জানায়, পানির স্রোত না কমলে সেতু মেরামত করা যাবে না, ট্রেন ও চলবে না। তবে নেত্রকোনা শহরের বড় রেল স্টেশন পর্যন্ত ট্রেন চালানো যায় কি-না তা দেখা হচ্ছে। হাওর উপজেলা মোহনগঞ্জ এবং খারিয়াজুরীর বন্য পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। সেখানে অনেকেই স্থানাভাবে আশ্রয় পাচ্ছেন না।

টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢলে আখাউড়ার ১২ গ্রাম প্লাবিত : আখাউড়া প্রতিনিধি জানিয়েছে, দুই দিনের টানা বৃস্টি ও ভারতীয় পাহাড়ি ঢলের পানিতে  ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় সীমান্ত এলাকার অন্তত ১২টি গ্রামের নিমাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানির তীব্র স্রোতে কর্নেল বাজার এলাকায় হাওড়া নদীর বাঁধ ভেঙে গেছে। পানির তোড়ে বাঁধ সংলগ্ন কেটি পিচ ঢালাই সড়কের প্রায় ৩০ ফুট অংশ ভেঙে কয়েকটি গ্রামের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। শুক্রবার দুপুর থেকে বৃষ্টি শুরু হয়। গতকাল ভোরে সীমান্তবর্তী মনিয়ন্দ ইউনিয়নের কর্নেল বাজার সংলগ্ন হাওড়া নদীর বাঁধ ভেঙে যায় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অংগ্যজাই মারমা বলেন, ‘আকস্মিক এ বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নিয়েছে। স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ২৮টি পরিবারকে একটি স্কুলে আশ্রয় দেয়া হয়েছে। তাদেরকে ৩০ কেটি চাল ও নগদ এক হাজার ৫০০ টাকা দেয়া হবে।

Link copied!