ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

শাহজালালে কমছে না যাত্রী হয়রানি

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

মার্চ ১৫, ২০২৬, ১২:০৯ এএম

শাহজালালে কমছে না যাত্রী হয়রানি

নানা উদ্যোগেও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি ও অপরাধীদের দৌরাত্ম্য কমছে না। বরং বিমানবন্দরে চোরাকারবারিরা এখন অনেকটাই বেপরোয়া। স্ক্যানার মেশিনের ফাঁক দিয়ে বের হচ্ছে অবৈধ মালামাল। শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদার অতিরিক্ত পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাগেজ মেটাল ডিটেক্টর ও এক্স-রে মেশিনে স্ক্যানের পরও অবশ্যই ম্যানুয়ালভাবে পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে। এমনকি ভিআইপি ও ভিভিআইপি শ্রেণির যাত্রীদের লাগেজও স্ক্রিনিংয়ে অতিরিক্ত মনোযোগ দেয়ার নির্দেশ দেয়া দিয়েছে। তাছাড়া নিরাপত্তা জোরদারে আগ্নেয়াস্ত্র বহনের ক্ষেত্রে আগাম অনুমতির বাধ্যবাধকতা এবং অনুমতির তথ্য সুরক্ষিতভাবে সংরক্ষণ করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি নির্দেশে কোনো নিরাপত্তা ভঙ্গের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত কমিটি গঠন ও দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়ার কথাও বলা হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় সব বিমানবন্দরের সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি, ভেহিকল পেট্রোল, ফুট পেট্রোল বাড়ানোসহ মনিটরিং ব্যবস্থা আরো জোরদার এবং অনাকাক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়ার প্রস্তুতি রাখতে শাহজালালসহ দেশের সব বিমানবন্দরে চিঠি দিয়েছে বেবিচক। চিঠিতে বিমানবন্দরগুলোয় সর্বোচ্চ জনবল রাখা এবং সার্বিক ফায়ার সার্ভিল্যান্স কার্যক্রম জোরদার করার কথা বলা। সে ক্ষেত্রে কেপিআই নিরাপত্তা নীতিমালা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন, বিমানবন্দরে শুধু দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, কর্মচারী ও অনুমোদিত যাত্রীদের প্রবেশ নিশ্চিত করা এবং জনসাধারণের প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা, বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাখা, প্রবেশ ও প্রস্থানপথে সবারই নিরাপত্তা তল্লাশি করা, যাত্রী, কেবিন ব্যাগেজ, কার্গো ও যানবাহনের যথাযথ তল্লাশি নিশ্চিত করা, বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে স্পর্শকাতর এলাকা এবং সীমানাপ্রাচীর এলাকায় নিয়মিত ও ঘনঘন নিরাপত্তা টহল পরিচালনা করার কথা বলা হয়েছে। আর কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি, বস্তু বা কার্যকলাপ শনাক্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে, সিসি ক্যামেরা মনিটরিং সেল ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় রাখতে হবে এবং সন্দেহজনক কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি ইমিগ্রেশন পুলিশকে আরো সক্রিয় হয়ে উঠতে হবে। একেকজন যাত্রী কাউন্টারে আসার পর দ্রুত কার্যক্রম শেষ করতে হবে। কোনো যাত্রীর সঙ্গে খারাপ আচরণ করা যাবে না। তবে এতো নির্দেশনা দেয়ার পরও শাহজালার বিমানবন্দরে অপরাধ থামছে না।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশের ৪৭টি দেশের সঙ্গে বিমান চলাচল চুক্তি রয়েছে। প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ হাজার যাত্রী শাহজালাল দিয়ে আসা-যাওয়া করছে। কিন্তু বিদ্যমান নিরাপত্তার কড়াকড়ির মধ্যেই বিভিন্ন অপরাধী চক্র বিমানবন্দরে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সোনা চোরাচালান থেকে শুরু করে যাত্রীদের লাগেজ চুরির ঘটনাও ঘটছে অহরহ। এমনকি বিমানবন্দরের ক্যানোপি-১ ও ক্যানোপি-২ এলাকায় বেড়েছে দালালের দৌরাত্ম্যও। বিদেশফেরত সহজ-সরল যাত্রীদের কম ভাড়ায় গন্তব্যে পৌঁছে দেয়ার কথা বলে ট্যাক্সিতে তুলে সর্বস্ব লুটে য়োর একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিমানবন্দরের ভেতরেই একটি সংঘবদ্ধ দল যাত্রীদের ট্রলি থেকে ব্যাগ সরিয়ে ফেলা বা মোবাইল ফোন চুরির মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে। তাছাড়া ডিজিটাল সিস্টেমের কথা বলা হলেও ম্যানুয়াল চেকিংয়ের ওপর নির্ভরতা কমেনি, যা প্রক্রিয়াকে আরো ধীরগতির করে তুলছে।

সূত্র আরো জানায়, হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রতি ৩ মিনিটে ইমিগ্রেশনকরা স্থানাঙ্ক ব্যবহার করে তারা এখন সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হানতে পারছে। কুয়েতে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ড্রোন হামলা বা ইসরাইলের গভীরে নিখুঁতভাবে ক্ষেপণাস্ত্র পৌঁছে দেয়া- সবকিছুর পেছনেই রাশিয়ার সরবরাহ করা উচ্চ-প্রযুক্তির গোয়েন্দা তথ্যের অবদান স্পষ্ট। পুতিন ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে এই অভিযোগ অস্বীকার করলেও যুদ্ধের ময়দানে রুশ প্রযুক্তির স্বাক্ষর মুছে ফেলা সম্ভব হচ্ছে না।

চীনের ‘অদৃশ্য’ রাডার ও জিপিএস বিপ্লব : রাশিয়া যদি এই যুদ্ধের ‘চোখ’ হয়, তবে চীন হলো এর ‘মস্তিষ্ক’। বেইজিং দীর্ঘ সময় ধরে অত্যন্ত নীরবে ইরানের ইলেকট্রনিক যুদ্ধের সক্ষমতা বাড়িয়ে তুলেছে। ইরানের সামরিক নেভিগেশন ব্যবস্থাকে তারা মার্কিন জিপিএস থেকে সরিয়ে চীনের নিজস্ব ‘বেইডৌ-৩’ স্যাটেলাইট সিস্টেমে নিয়ে গেছে। এর ফলে ইরানের ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এখন মার্কিন সিগন্যাল জ্যামিং বা বাধা উপেক্ষা করে লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারছে।

চীনের সরবরাহ করা ওয়াইএলসি-এইট-বি অ্যান্টি-স্টেলথ রাডার এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় গেম-চেঞ্জার। যুক্তরাষ্ট্রের গর্ব এফ-৩৫ বা বি-২১ রেইডারের মতো ‘অদৃশ্য’ বিমানগুলো এই রাডারের সামনে পুরোপুরি অদৃশ্য থাকতে পারছে না। এটি মার্কিন বিমান বাহিনীর প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের ওপর বড় ধরনের আঘাত হেনেছে।

সুপারসনিক হুমকি ও রণতরির ঝুঁকি : রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ইরান চীনের কাছ থেকে প্রায় ৫০টি সিএম-৩০২ সুপারসনিক অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার দোরগোড়ায় পৌঁছেছে। শব্দের তিন গুণ বেগে ধেয়ে আসা এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সমুদ্রপৃষ্ঠের খুব কাছ দিয়ে ওড়ে, যার ফলে মার্কিন রণতরিতে থাকা সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলো প্রতিক্রিয়া দেখানোর জন্য মাত্র কয়েক সেকেন্ড সময় পায়। বর্তমানে পারস্য উপসাগরে মোতায়েন থাকা ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ও ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড-এর মতো বিশাল রণতরিগুলো এই চীনা প্রযুক্তির সরাসরি নিশানায় রয়েছে।

অপারেশন ‘রোয়ারিং লায়ন’ ও অন্ধের লড়াই :  যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলও হাত গুটিয়ে বসে নেই। যুদ্ধের শুরুতেই তারা ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ ও ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ পরিচালনা করে ইরানের অনেক রাডার অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দিয়েছে। সাবেক ইসরাইলি বিমানবাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল আইতান বেন এলিয়াহু বলেছেন, ‘রাডার ধ্বংস করা মানে শত্রুকে অন্ধ করে দেয়া।’

পাল্টা দাবি হিসেবে আইআরজিসি মুখপাত্র আলী মোহাম্মদ নাঈনি জানিয়েছেন, ইরানও ১০টি উন্নত মার্কিন রাডার ধ্বংস করেছে। এই ‘অন্ধ করে দেয়ার’ খেলায় দুই পক্ষই চেষ্টা করছে কার প্রযুক্তি আগে প্রতিপক্ষের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে পারে।

যুদ্ধের এক নতুন ব্যাকরণ : দশকের পর দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যে প্রযুক্তিগত একাধিপত্য ছিল, চীন ও রাশিয়ার সরাসরি (গোপন হলেও) হস্তক্ষেপে তা এখন ক্ষয়িষ্ণু। এই যুদ্ধ কেবল সীমানা দখলের নয়, বরং এটি শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই- রাডারের তরঙ্গ বনাম স্যাটেলাইটের ডেটার। চীন-রাশিয়া জোট ইরানকে যে কারিগরি ‘বর্ম’ পরিয়ে দিয়েছে, তা এই সংঘাতকে একটি দীর্ঘস্থায়ী ও রক্তক্ষয়ী সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের বালুচরে আজ যে যুদ্ধ চলছে, তার ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হচ্ছে বেইজিং আর মস্কোর কম্পিউটার ল্যাবে।

Link copied!