আশরাফুল আলম, চুয়াডাঙ্গা
জুন ৪, ২০২৬, ০১:১৯ পিএম
জীবননগরে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর পেটে লাথি মেরে স্বামীর বিরুদ্ধে ভ্রূণ হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী স্ত্রী শিখা খাতুন বুধবার রাত ১০টার সময় অভিযুক্ত স্বামী বিপ্লবের বিরুদ্ধে জীবননগর থানায় একটি ভ্রূণ হত্যার মামলা দায়ের করেছেন। মামলা দায়েরের পরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত বিপ্লবকে গ্রেপ্তার করেছে। ভ্রূণ হত্যার এ ঘটনাটি ঘটেছে জীবননগর উপজেলার কয়া গ্রামের দক্ষিণ পাড়ায়।
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সোলায়মান শেখ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, জীবননগর উপজেলার কয়া গ্রামের সাহাবুলের ছেলে বিপ্লব (২৪)-এর সঙ্গে একই গ্রামের সাইফুল ইসলামের মেয়ে শিখা খাতুনের (১৮) বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিপ্লব বিভিন্ন সময় স্ত্রীর কাছে যৌতুক হিসেবে নগদ টাকা, মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন দাবি করে আসছিলেন। এসব দাবি পূরণ না করায় শিখা খাতুনের ওপর তার স্বামী প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী শিখা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, তিনি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এ অবস্থায় ২৬ মে রাতে স্বামী যৌতুকের দাবিতে তার ওপর ব্যাপক শারীরিক নির্যাতন চালান এবং পেটে লাথি মারেন। পরবর্তীতে ৩১ মে দিনগত রাত প্রায় ১০টার দিকে বিপ্লব বাজার থেকে বাড়ি ফিরে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি এক লাখ টাকা, একটি মোটরসাইকেল ও একটি মোবাইল ফোন দাবি করেন।
এ সময় তিনি জানান, তার বাবা একজন দরিদ্র মানুষ এবং এত টাকা বা মূল্যবান জিনিসপত্র দেওয়া সম্ভব নয়। এ কথা শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে বিপ্লব তাকে বেধড়ক মারধর করেন এবং জোরে পেটে আবারও লাথি মারেন। এতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে জীবননগরের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি করেন। পরবর্তীতে ১ জুন বিকেলে জীবননগর মনোয়ারা সনো সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাম করালে চিকিৎসক জানান, গর্ভের সন্তানের কোনো হার্টবিট পাওয়া যায়নি। পরে এক ঘণ্টা অক্সিজেন দেওয়ার পর পুনরায় আল্ট্রাসনোগ্রাম করলেও একই ফল পাওয়া যায়। এরপর বুধবার সকাল ১১টার দিকে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে তিনি একটি মৃত সন্তান প্রসব করেন।
ভুক্তভোগী শিখা খাতুন আরও বলেন, তার স্বামী তার বাবার আর্থিক অবস্থা জেনেশুনেই তাকে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই টাকা, মোবাইল ও মোটরসাইকেলের জন্য চাপ দিতে থাকেন। দাবি পূরণ না করায় প্রায়ই তাকে মারধর করা হতো। ঘটনার দিন পেটে লাথি মারার পর তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। হাসপাতালে নেওয়ার পর জানতে পারেন তার সাত মাসের সন্তান আর বেঁচে নেই।
এ বিষয়ে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সোলায়মান শেখ বলেন, এ ঘটনায় শিখা খাতুন বাদী হয়ে তার স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় ভ্রূণ হত্যা মামলা করেছেন। মামলার পর বিপ্লবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। যৌতুকের দাবিতে এমন নির্মম নির্যাতনের ঘটনায় দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এএন