‘সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে ভবিষ্যৎ জীবন’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গায় দুই দিনব্যাপী সর্বজনীন পেনশন মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে।
বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে থেকে দিবসটি উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের কলেজ রোড ঘুরে জেলা শিল্পকলার মুক্তমঞ্চে এসে শেষ হয়।
সেখানে ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে দুই দিনব্যাপী মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান। পরে জেলা শিল্পকলার মুক্তমঞ্চে এক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক শারমিন আক্তারের সভাপতিত্বে এবং চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মুন্সী আবু সাইফের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, সরকারি ট্রেজারি ফান্ডের মাধ্যমে জাতীয় পেনশনের অন্তর্ভুক্ত হতে হবে। অনেকেই মনে করতে পারেন এই টাকা অরক্ষিত, কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের ট্রেজারি বন্ড অত্যন্ত সুরক্ষিতভাবে আপনার আমানত গচ্ছিত রাখবে। ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী মানুষেরা ব্যাংকের মাধ্যমে সঞ্চয় করবেন এবং ৬০ বছর বয়সে গিয়ে সেটি পেনশন আকারে পাবেন। যখন আর্থিক সাপোর্ট খুবই প্রয়োজন, তখন এই পেনশনের টাকাটি দেওয়া হবে। যদি কেউ ৬০ বছরের পূর্বেই মৃত্যুবরণ করেন, তবে তাঁর নমিনিকে গচ্ছিত টাকার সুদ সমেত ফেরত দেওয়া হবে। মাসিক চাঁদা জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে যদি আয়ের কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি ঘটে, তবে চাঁদা কমবেশিও করা যেতে পারে।
ড. মো. সুরাতুজ্জামান আরও বলেন, বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে এরকম পেনশন ব্যবস্থা চালু আছে। ২০৩০ সালের মধ্যেই অন্তত ৪ কোটি মানুষকে এই পেনশন সেবার আওতায় আনতে চায় সরকার। এই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকার ইতোমধ্যে ১০০ মিলিয়ন ডলার বা ১ হাজার ২৪০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। শেষ বয়সের অবলম্বন হিসেবে এই পেনশনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রত্যেকটি পরিবারে অন্তত একজন করে হলেও এই পেনশন সেবার আওতায় আসা উচিত।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক শারমিন আক্তার। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার, সিভিল সার্জন ডা. হাদি জিয়া উদ্দিন আহমেদ এবং জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের অর্থ ও প্রশাসন সদস্য শেখ কামরুল হাসান।
এবারের মেলায় সোনালী ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, ডাচ-বাংলা ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংকসহ সমাজসেবা কার্যালয়, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, যুব উন্নয়ন, হর্টিকালচার এবং বিকাশ ও নগদের স্টল দেওয়া হয়েছে। আলোচনা অনুষ্ঠানের মাঝে মাঝে জেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
জেএইচআর