আসন্ন জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬ সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাগুরা জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা অবহিতকরণ ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় সরকার, পুলিশ প্রশাসন, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ, চিকিৎসক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন মাগুরার সিভিল সার্জন ডা. মো. শামীম কবির। তিনি বলেন, ভিটামিন ‘এ’ শিশুর দৃষ্টিশক্তি রক্ষা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অপুষ্টি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জেলার প্রতিটি শিশুর কাছে এই সেবা পৌঁছে দিতে স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। অভিভাবকদের সচেতন অংশগ্রহণই ক্যাম্পেইনের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, মাগুরা জেলায় এবার মোট ৯৪১টি কেন্দ্রে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে। এর মধ্যে মহাম্মদপুর, শালিখা, শ্রীপুর, মাগুরা পৌরসভা, ৪টি স্থায়ী কেন্দ্র, ১৯৫টি অস্থায়ী কেন্দ্র এবং ১টি অতিরিক্ত কেন্দ্র রয়েছে। জেলায় ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ১৪ হাজার ৩৬৯ জন এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ১ লাখ ১৫ হাজার ৩০৬ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মোট লক্ষ্যমাত্রাভুক্ত শিশুর সংখ্যা ১ লাখ ২৯ হাজার ৬৭৫ জন।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের উপপরিচালক (উপসচিব) ইমতিয়াজ হোসেন বলেন, শিশুদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে। স্বাস্থ্য বিভাগের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মহসিন উদ্দিন ফকির বলেন, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল শিশুদের নানা জটিল রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। কোনো শিশু যেন বাদ না পড়ে, সে বিষয়ে মাঠপর্যায়ে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীদের আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে।
সভায় আরও বক্তব্য দেন- জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক গাজী বশির আহমেদ এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) খায়রুল হাসান (পিপিএম-সেবা)। তাঁরা ক্যাম্পেইন সফল করতে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বক্তারা বলেন, জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন শুধু একটি স্বাস্থ্য কর্মসূচি নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ ও মেধাবী হিসেবে গড়ে তোলার একটি জাতীয় উদ্যোগ। তাই প্রতিটি অভিভাবককে নির্ধারিত কেন্দ্রে গিয়ে তাঁদের শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর আহ্বান জানানো হয়।
জেএইচআর