Amar Sangbad
ঢাকা শুক্রবার, ১২ আগস্ট, ২০২২, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯

শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত

রাজারহাট পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবি

রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

জুলাই ৬, ২০২২, ০৮:০৮ পিএম


রাজারহাট পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবি

নানা কারণে ঐতিহ্যবাহী রাজারহাট পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিনা বেতনে ছুটিতে থাকা রাজারহাট পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবি জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকগণ। 

একই দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ দাখিল করেছেন-উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শামসুল আলম সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন।

এর আগে গত এপ্রিল মাসে শিক্ষকদের আন্দোলনের মুখে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি বিধি অনুযায়ী ওই প্রধান শিক্ষককে বিনা বেতনে অস্বাভাবিক ছুটি প্রদান করেন। 

প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে বহু বিয়ে, মুক্তিযোদ্ধা সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য, বিদ্যালয়ের বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ, জাল সার্টিফিকেটে নিয়োগ গ্রহণ, সহকারি শিক্ষককে লাঞ্চিত ও শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের সাথে অস্বাভাবিক আচরন সহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠে।

জানা গেছে, রাজারহাট উপজেলা শহরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘রাজারহাট পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়’। ১৯৪৯ইং সনে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে অত্র এলাকার মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষা বিস্তারে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে আসছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ৬ষ্ট থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত ১ হাজার ২১৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। 

ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে উল্লেখিত অনিয়মের অভিযোগে গত এপ্রিল মাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ তার অপসারন দাবীতে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সভা সহ নানা কর্মসূচী পালন করেন। 

একপর্যায়ে আন্দোলনের মুখে গত ৬ এপ্রিল বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভায় শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সিদ্ধান্তক্রমে ওই প্রধান শিক্ষককে বাধ্যতামূলক ছুটির আওতায় চলতি বছরের ৬অক্টোবর পর্যন্ত ৬ মাসের অস্বাভাবিক ছুটি প্রদান করা হয়। 

 এদিকে প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলামকে স্থায়ীভাবে অপসারণের দাবি তুলেছেন শিক্ষক ও অভিভাবকগণ। সম্প্রতি একই দাবিতে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের নেতাকর্মীগন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দাখিল করেছেন। ফলে নানা কারনে বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে।

 বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অভিভাবক বাদশা মিয়া বলেন, আশরাফুল ইসলাম সার্টিফিকেট জালিয়াতি করে নিয়োগ নিয়েছিল। তিনি বিদ্যালয়ের ১০লক্ষাধিক টাকা আত্মসাত করেছেন এবং প্রধান শিক্ষক হওয়ার পর পূর্বের স্ত্রী থাকা সত্বেও নতুন করে আরো ২/৩টি বিবাহ ও বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটিয়েছেন। 

বিদ্যালয়ের আইসিটি শিক্ষক ফরহাদ আলী জানান, প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম রুগ্ন মানুষিকতার লোক। প্রায়ই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাথে অস্বাভাবিক আচরণ করতো। তার বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তিনি একাধিক শিক্ষককে লাঞ্চিত করতেও দ্বিধা করেননি।

অস্বাভাবিক ছুটিতে থাকা প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শিক্ষকরা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ করার ক্ষমতা রাখে না। বহু বিবাহের বিষয়ে তিনি বলেন“এটা আমার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়”। তবে সার্টিফিকেট জালিয়াতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সাক্ষাতে কথা বলবো বলে ফোন কেটে দেন।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও রাজারহাট উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাহিদ ইকবাল সোহরাওয়ার্দী বাপ্পী বলেন, আশরাফুলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও শিক্ষক/শিক্ষার্থী, অভিভাবকদের সাথে অস্বাভাবিক আচরনের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের বৃহৎ স্বার্থে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি, অভিভাবক সদস্য বৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে সভা করে বিধি অনুযায়ী তাকে ৬ মাসের অস্বাভাবিক ছুটি প্রদান করা হয়েছে। এরপর বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে তাকে স্থায়ী ভাবে অপসারণ সহ আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণকরা হবে।

কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শামসুল আলম বলেন, বিদ্যালয়টিতে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে জেনে আমি সরেজমিনে গিয়েছি। শিক্ষক ও অভিভাবকদের অভিযোগ থেকে প্রধান শিক্ষকের আর্থিক অনিয়ম, বহু বিবাহ, মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে কটুক্তি, শিক্ষক-অভিভাবকদের সাথে অসাদাচরণ সহ বিভিন্ন অনিয়মের কথা শুনে মনে হয়েছে বিদ্যালয় কমিটি কিংবা শিক্ষকদের অনেক আগেই বিষয়টি আমাকে অবহিত করা উচিত ছিল এবং বিধি অনুযায়ী প্রধান শিক্ষককে শোকজ সহ অন্যান্য পদক্ষেপ নিতে পারতো। এখনো লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান।

আমারসংবাদ/এআই