Amar Sangbad
ঢাকা শুক্রবার, ১২ আগস্ট, ২০২২, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯

রংপুর চিড়িয়াখানা

৩২ বছর পর জলহস্তীর ঘরে নতুন অতিথি

রংপুর প্রতিনিধি

রংপুর প্রতিনিধি

আগস্ট ৫, ২০২২, ১১:৫০ এএম


৩২ বছর পর জলহস্তীর ঘরে নতুন অতিথি

রংপুর চিড়িয়াখানা প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ৩২ বছর পর জলহস্তীর বাচ্চা প্রসবের ঘটনা এটিই প্রথম বলে জানা গেছে। আর প্রথমবারের মতো মা হয়ে জলহস্তী ‘জলনূপুর’ মেতেছে আনন্দ উচ্ছ্বাসে।

শাবকটির সঙ্গে কাদা-পানিতে সাঁতার খেলায় কাটছে মা জলনূপুরের সময়। দর্শনার্থীরা এমন দৃশ্য উপভোগ করতে পেরে আনন্দিত। 

বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) সকালের দিকে শাবকটির জন্ম হয়। মা জলনূপুর আট মাস গর্ভধারণের পর প্রসব করে। জলহস্তী শাবকটি বর্তমানে সুস্থ আছে। তবে এটি স্ত্রী নাকি পুরুষ তা এখনও জানা সম্ভব হয়নি।

দর্শনার্থী আরজু মিয়া বলেন, ‘জলহস্তীর বাচ্চা দেখে খুবই ভালো লাগছে। এই প্রথম আমার জীবনে একটি জলহস্তীর ছোট বাচ্চা দেখলাম। 

আরেক দর্শনার্থী নুরুল ইসলাম রবিন বলেন, ‘খবরটি শুনেই ছুটে এলাম দেখতে। দেখে অনেক আনন্দ লাগছে।

রংপুর বিনোদন উদ্যান চিড়িয়াখানা সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৯ সালে রংপুর চিড়িয়াখানা প্রতিষ্ঠিত হয়। এবারই প্রথম জলহস্তী বাচ্চা দিল।

২০১৪ সালে ঢাকা চিড়িয়াখানায় কালাপাহাড়ের জন্ম হয়। জন্মের পর থেকে সেখানেই ছিল। ২০২০ সালের ১৮ আগস্ট কালাপাহাড়কে রংপুরে আনা হয়। এর সঙ্গী জলনূপুরকে পরের বছর ২০২১ সালের জানুয়ারিতে ঢাকা থেকে আনা হয়েছে। বর্তমানে শাবকটিসহ চিড়িয়াখানাতে তিনটি জলহস্তী রয়েছে।

রংপুর বিনোদন উদ্যান চিড়িয়াখানার কর্মকর্তা এইচ এম শাহাদাত জানান, আট মাস প্রতীক্ষার পর এই নতুন অতিথির আগমন। বাচ্চার ওজন ২৯ থেকে ৩০ কেজি হতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা। তারা সর্বোচ্চ যত্ন-আত্তি করছেন, যাতে বাচ্চার সমস্যা না হয়।

রংপুর চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. আমবার আলী তালুকদার জানান, জলনূপুরের গর্ভে বাচ্চা আসার পর থেকেই বিশেষ পরিচর্যা করা হয়। তবে বাচ্চা জন্মের কয়েক মাস আগেই পুরুষ জলহস্তীটি মারা গেছে। বর্তমানে জলনূপুর ও তার বাচ্চা সুস্থ আছে।

জলহস্তী মূলত আফ্রিকার একটি তৃণভোজী স্তন্যপায়ী প্রাণী। ২০০৬ সালে জলহস্তীকে প্রকৃতি সংরক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক ইউনিয়ন (আইইউসিএন) লাল তালিকায় একটি সংকটাপন্ন প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত করে। তখন জলহস্তীর মোট সংখ্যা ছিল এক লাখ ২৫ হাজার থেকে দেড় লাখের মধ্যে।

আইইউসিএন ১৯৯৬ সালের পর থেকে এ বিষয়ে গবেষণা করে চিহ্নিত করেছিল যে জলহস্তীর আনুমানিক সংখ্যা ৭ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। তখন জাম্বিয়ায় ৪০ হাজার এবং তানজানিয়ায় ২০ থেকে ৩০ হাজার জলহস্তী টিকে ছিল।

জলহস্তী সম্পর্কে প্রচলিত একটি মজার ধারণা রয়েছে। বলা হয়, এরা যখন হতাশ হয় বা কোনো বিশেষ কারণে বেশি কষ্ট পায়, তখন এদের শরীর থেকে ঘামের পরিবর্তে রক্ত ঝরে।

এ ধারণা প্রচলিত থাকলেও বিষয়টি সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন প্রাণী বিশেষজ্ঞরা। আসলে জলহস্তীর শরীরে থাকা মিউকাসজাতীয় এক ধরনের তেলতেলে পদার্থ নির্গত হয়। একে রেড অয়েলও বলে। 

এটা ঘামের সঙ্গে মিশে বাতাসের সংস্পর্শে এলে লাল রং ধারণ করে। এটাকে ভুল করে রক্ত মনে করে মানুষজন।

 


আমারসংবাদ/টিএইচ