Amar Sangbad
ঢাকা বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ২৬ মাঘ ১৪২৯

সুনামগঞ্জ পাউবো’র অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে কৃষক-জনতার ক্ষোভ

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

জানুয়ারি ২৩, ২০২৩, ০৪:৩৭ পিএম


সুনামগঞ্জ পাউবো’র অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে কৃষক-জনতার ক্ষোভ

হাওরের ফসল রক্ষা বাধঁ নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য সরকার পানি উন্নয়ণ বোর্ডের মাধ্যমে ২০৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭৫৪ কি.মি. ভাঙ্গন ও রাস্তা মেরামতের জন্য ১০৮৯টি পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি হাওরের ভাঙ্গন মেরামত ও সংস্কারে স্থানীয় কৃষকদের সম্পৃক্ত না করেই প্রতিটি উপজেলা প্রশাসনের কিছু চিহ্নিত দালাল ও সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহনের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রতিটি বাধেঁর মধ্যে প্রকাশ্যে পিআইসি’র সভাপতি ও সদস্যদের নাম মোবাইল নম্বর সম্ভলিত সাইন বোর্ড থাকার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত বেশীর ভাগ বাধেই সাটানো হয়নি। অনিয়ম দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে গঠিত পিআইসি দ্বারা হাওরের ফসল রক্ষা সম্ভব নয় বলে স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ থাকলেও জেলা প্রশাসন কিংবা হাওরের ফসল রক্ষা বাধ বাস্তবায়ন কমিটির কোন তদারকি চোখে পড়েনি। দিরাই উপজেলার বৃহৎ বাদালিয়া হাওরের জলডোবা বাধঁ নির্মানে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপন করে স্থানীয় কৃষকরা মানববন্ধন করেছেন।

মানববন্ধনে বক্তারা জানান, সরকারের অর্থ লুটপাটের অংশ হিসেবে যেখানে একটি কিংবা দুটি পিআইসি’র মাধ্যমে মাত্র ৩০-৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে আড়াইশ ফুট ভাঙ্গন মেরামত করা যেতো সেখানে ৫টি পিআইসি’র মাধ্যমে ১৫শ ফুট বিল ঘুরিয়ে ৯৮ লাখ টাকা ব্যয় করা হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষক সাদিকুল ইসলাম জানান, আমাদের জলডোবা ভাঙ্গনটি মাত্র আড়াইশ ফুট ভাঙ্গন মেরামত না করে নতুন মাটি দিয়ে নতুনভাবে কৃষকের ফসলী জমি ও বিলের জায়গার উপর দিয়ে ১৫শ ফুট দুরত্বে কোটি টাকা লুটপাটের উদ্দেশ্যে বাধ নির্মান করা হচ্ছে। এই বাধ নির্মানের জন্য পাউবো কিংবা উপজেলা প্রশাসন কখনও আমাদের সাথে আলাপ আলোচনা করেনি। পিআইসিতে কাদের নাম অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে তাও জানানো হয়নি। পূর্বের বাঁধের উপর দিয়ে বাধ নির্মাণ করা না হলে হাওরের পুরো ফসল ও আশপাশের বাড়ীঘর হুমকির মধ্যে রয়েছে। অনিয়মের মাধ্যমে বাধঁ নির্মান বন্ধ করার দাবী জানিয়ে জেলা প্রশাসক মহোদয়কে জানানোর পরও কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়নি। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আলী আহমদের মাধ্যমে নামে বেনামে ১৬-২০টি পিআইসি দেয়া হয়েছে। এসব পিআইসিতে প্রকৃত কৃষকদের রাখা হয়নি। বিএনপি ও জামায়াতের নেতাদের প্রাধান্য দিয়ে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে পিআইসি দেয়া হয়েছে। পুরো জেলা জুড়েই হাওরের ফসল রক্ষা বাধঁ নিয়ে অনিয়ম দুর্নীতি চিত্র দেখা গেছে কিন্তু কেউ কোনো কথা বলছে না।

নির্ধারিত সময়ে ফসলরক্ষা বেড়িবাঁধের কাজ শুরু না হওয়ার প্রতিবাদে সুনামগঞ্জে মানববন্ধন করেছে হাওর বাঁচাও আন্দোলন সুনামগঞ্জ জেলা কমিটি। সোমবার (২১ জানুয়ারি) দুপুর ১২ টায় শহরের ট্রাফিক পয়েন্টে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, গত ১৫ ডিসেম্বর বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করার কথা থাকলেও এখনো পর্যন্ত অনেক হাওরে বাঁধের কাজ শুরু হয়নি। ২৮ ফেব্রুয়ারি বাঁধনির্মান কাজ শেষ করার বাধ্যবাদকতা থাকলেও কর্তপক্ষের উদাসীনতায় কাজ শুরু না হওয়া গেল বছরের মতো ঝুঁকিতে রয়েছে বোরো ফসল। বন্যার অজুহাত দেখি এবার দ্বিগুন বরাদ্দ ও প্রকল্প বাড়ানো হলেও ফসলের সুরক্ষায় কাজের কাজ হচ্ছে না। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় এবারও যদি হাওর ডুবির ঘটনা ঘটে কৃষকদের সাথে নিয়ে আন্দোলনের ডাক দেয়ার হুশিয়ারী প্রদান করা হয় সংগঠনের নেতারা।

হাওর বাচাঁও সুনামগঞ্জ বাচাঁও আন্দোলনের সদর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মিলন আহমদ জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের যোগসাজসে হাওর পাড়ের প্রকৃত কৃষকদের সম্পৃক্ত না করে স্থানীয় দালাল ও লুটেরা প্রকৃতির লোকদের দিয়ে পিআইসি গঠন করা হয়েছে। এসব পিআইসি কখনও অকাল বন্যার কবল থেকে হাওরের ফসল রক্ষা করা সম্ভব নয়। পিআইসি গঠনে স্বচ্ছতা ও কৃষকদের সর্ম্পৃক্ত করে পুনরায় পিআইসি গঠনের মাধ্যমে হাওরের ফসল রক্ষা বাধ নির্মান করা হউক। হাওরের ফসল রক্ষা বাধ নির্মানে চলতি বছর ২শ কোটি টাকার বেশী বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। অথচ অনেক বাধ অক্ষত থাকলেও সেখানে বরাদ্দ দ্বিগুন করা হয়েছে। হাওরের ফসল রক্ষা বাধঁ নিয়ে পাউবো ও উপজেলা প্রশাসনের অনিয়ম দুর্নীতির শেষ কোথায় কেউ বলতে পারেন না।

সংগঠনের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক মিলনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক বিজন সেন রায়, জেলা কমিটির সভাপতি ইয়াকুব বখত বাহলুল, সহভাপতি আলী হায়দর ,উপদেষ্টা রমেন্দ্র কুমার দে মিন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক একে কুদরত পাশা, জেলা কমিটির দপ্তর সম্পাদক দুলাল মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদনুর আহমদে, রুহুল আমীন, প্রভাষক মামুন আহমদ প্রমুখ।

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হাওর বাঁচাও কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি সুকেন্দু সেন, যুগ্ম সম্পাদক নির্মল ভট্টাচার্য, শীলা বসু, আনোয়ারুল হক, এরশাদ মিয়া, ইসমাইল আলী, চন্দন রায়, রবিন্দ্র দেব প্রমুখ।

এবার সুনামগঞ্জের ১২ উপজেলায় বোরো ফসলের সুরকায় ২০৮ কোটি টাকা বরাদ্দে ১১০১টি প্রকল্পে ৭৫৯ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করার কথা। জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড এই বাঁধ নির্মান কাজ তদারকি করছে৷

আরএস
    
 

Link copied!