Amar Sangbad
ঢাকা শুক্রবার, ০১ মার্চ, ২০২৪,

চরফ্যাশনে মাহরাম নারীকে বিয়ে নিয়ে চাঞ্চল্য

চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি

চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি

জুন ৪, ২০২৩, ০১:৩৫ এএম


চরফ্যাশনে মাহরাম নারীকে বিয়ে নিয়ে চাঞ্চল্য

ইসলামি শরিয়তে নিষিদ্ধ একটি বিবাহ নিয়ে চাঞ্চল্য ও সামাজিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলায়। সম্প্রতি মাহরাম হওয়া সত্ত্বেও চল্লিশোর্ধ এক নারীকে বিয়ে করেন তারই সম্পর্কে নাতি ১৮ বছরের এক যুবক।

বিষয়টি নিয়ে এলাকায় অস্থিরতা বিরাজ করলেও সমাধানে দায়িত্ব নিচ্ছে না কেউ। নিরব রয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। পুলিশের পক্ষ থেকে দায় চাপানো হচ্ছে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপর। আর ইসলামিক ফাউন্ডেশন বলছে এটি তাদের কাজ নয়।

শরিয়তের বিধান হলো দাদার বিবাহকৃত কোনো নারীকে (সৎ দাদী হলেও) বিয়ে করা বৈধ হবে না, কারণ দাদার স্ত্রী মাহরামের অন্তর্ভুক্ত। 

পবিত্র কুরআনের সূরা নিসার ২২ নং আয়াতে এমনটাই বলা হয়েছে। যা  তাফসীরে মাযহারী (সূরা নিসা অংশ) ২/৫৪; আহকামুল জাসসাস ২/১১২; বাদায়েউস সানায়ে ২/৫৩৫; আলবাহরুর রায়েক ৩/৯৪; ফাতহুল কাদীর ৩/১২০; রদ্দুল মুহতার ৩/২৮ অংশে তাফসিরসহ ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

জানাগেছে, উপজেলার  হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নে সংঘটিত এই বিবাহ নিয়ে স্হানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর নেট দুনিয়ায় পক্ষে বিপক্ষে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।  স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা বলছেন, হারাম কাজের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে ধর্মীয় বিধানের বিপরীত এধরণের বিবাহ আরও সংঘটিত হওয়ার আশংকা রয়েছে। একই সাথে এটি নিয়ে যেকোন সময় সামাজিক অস্থিরতা ও সংঘাত সৃষ্টি হতে পারে।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান বাজার ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী ক্বারী আবু বকর সিদ্দিক বলেন, হারাম বিবাহ পড়ানো কাজী ও স্বাক্ষী এবং দাতি- নাতিকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির পাশাপাশি তওবা পড়িয়ে নাজায়েজ বিবাহ বাতিল করতে হবে।

চরফ্যাশন বারের সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট তরিকুল ইসলাম বলেন, এটি বেআইনি বিবাহ হয়েছে। নিশ্চই তারা কোর্টে দাদী- নাতির পরিচয় গোপন করেছে। আদালত তাদের পরিচয় অবগত থাকলে কোর্ট-ম্যারেজ করা সম্ভব হতো না। ইসলামে নিষিদ্ধ কোন বিষয় আদালত সমর্থন করবে না।

সচেতন নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও আলেম উলামাদেরকে হারাম বিবাহরোধে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে জোড় দাবি জানানো হচ্ছে।

জানতে চাইলে শশিভূষণ থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান বলেন, ‘ইসলামিক ফাউণ্ডেশন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেন, তারা চাইলে এই ব্যাপারে আইনগত সহায়তা দিবো।’

আমার সংবাদের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হল ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক (ভোলা জেলা) এম মাকসুদুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমি অবগত আছি। তবে এ বিষয়ে চাইলেই আমরা কোন ব্যবস্থা নিতে পারি না। কারণ এটি আমার কর্মপরিধির মধ্যে পরে না। তবে কেউ অভিযোগ করলে প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশনার আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি মনে করেন, স্পর্শকাতর বিষয় হওয়ায় পুলিশের পক্ষ থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ওপর দায় চাপানো হচ্ছে।

আরএস

Link copied!