Amar Sangbad
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৪,

শান্তিগঞ্জে পানিশূন্য পিয়াইন নদী কর্মহীন ৯০০ শ্রমিক

শান্তিগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

শান্তিগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

জুন ৯, ২০২৩, ০৯:০৯ পিএম


শান্তিগঞ্জে পানিশূন্য পিয়াইন নদী কর্মহীন ৯০০ শ্রমিক

শান্তিগঞ্জ উপজেলার মুরাদপুর গ্রামের বুক চিরে বয়ে চলেছে পিয়াইন নদী। এই নদীর দুই কূলের ডাঙাতে অথবা নদীন অল্প পানিতে বাঁধা বা অর্ধ নিমগ্ন অবস্থায় পরে আছে তিন শতাধিক যাত্রীবাহী নৌকা।

জৈষ্ঠ্যের এমন দিনে বজরা, ছইয়া, ছাদখোলা ইত্যাদি নৌকা যাত্রী নিয়ে পাথারিয়া বাজার থেকে ভাটিপাড়া-বাংলা বাজার রুট আর হাওরের বুকে দাপিয়ে বেড়ানোর কথা থাকলেও এখন নৌকাগুলো শুকনোয় পড়ে আছে। নৌকার কাঠ শুকিয়ে যাচ্ছে জৈষ্ঠ্যের দাবদাহে।

এতে যেমন কষ্ট আর দুর্ভোগ বাড়ছে এসব এলাকার যাত্রী সাধারণের তেমনি কর্মহীন হয়ে আছেন ভাটিপাড়া, মুরাদপুর, আলীনগরসহ এসব এলাকার প্রায় ৯ শতাধিক নৌকা শ্রমিক। দুর্দিনে সময় পার করতে হচ্ছে এসব শ্রমিক পরিবারকেও। এলাকায় কোনো কাজ না থাকায় মুরাদপুরের একাধিক নৌকা শ্রমিক জীবন ও জীবিকার তাগিদে সপরিবারে পাড়ি জমিয়েছেন সিলেটসহ রাজধানী ঢাকায়।

হাওর-নদীতে পানি না থাকায় এই এলাকায় এখনো নৌকা চলাচল শুরু হয়নি। নৌকায় চলাচল করতে না পারায় বাধ্য হয়েই যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে মোটরসাইকেলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাফেরা করতে হচ্ছে সড়ক পথে। পাথারিয়া-ভাটিপাড়া-আলীনগরের সড়কপথকে মৃত্যুর ফাঁদ বললেও ভুল হবে না। প্রায় প্রতিদিনই এ সড়কে ছোট বড় দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয়রা জানান, অন্য বছর বৈশাখ মাস থেকেই আমরা নৌকায় চলাচল করতে পারি। পাথারিয়া বাজার থেকে প্রায় ৩শ নৌকা চলে ভাটিপাড়া, মুরাদপুর, বাংলাবাজার ও আলীনগরসহ এই সমস্ত এলাকায়। প্রতিটি নৌকায় ৩জন করে নৌকা শ্রমিক থাকেন। দিন শেষে নৌকার খরচপাতি শেষে ১৫শ থেকে ২ হাজার টাকা উপার্জন করে বাড়ি ফিরেন তারা। এই উপার্জনে ভালোভাবেই চলতো তাদের সংসার।

কিন্তু এ বছর পানি না হওয়ায় জৈষ্ঠ্য মাসের শেষ সময়েও হাওর বা নদীতে নৌকা ভাসানো যায়নি। এতে চালচলের ক্ষেত্রে স্থানীয়রাই বেশি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। তারা জানান, শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া বাজার থেকে ভাটিপাড়া বাজার, মধুরাপুর (মর্দাপুর) বাজার, বাংলা বাজার, মুরাদপুর বাজার, আলীনগরের ঘাটসহ প্রায় ১০/১৫টি ঘাটে যাত্রী নিয়ে যায় নৌকাগুলো।

এসব জায়গা থেকে অনেক যাত্রী আসেন পাথারিয়া। যাত্রী প্রতি ভাড়া দিতে হয় ২০ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা। মালামাল বহনেও অনেক সুবিধা পাওয়া যায়। কিন্তু বর্তমানে ভাটিপাড়া-মুরাদপুরে যেতে চলে যাত্রী প্রতি ১শ টাকারও বেশি খরচ হচ্ছে। এছাড়া, প্রতিটি মোটরসাইকেলে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে চালকসহ ৩/৪জন যাত্রী নিয়ে চলাচল করে। রাস্তার অবস্থাও একেবারে বেহাল; বলে বুঝানোর মতো না।

কর্মহীন হয়ে সপরিবারে বাড়ি ছেড়েছেন মুরাদপুর গ্রামের এমন তিনজন নৌকা শ্রমিক হলেন মৃত রাহাত উল্লাহর ছেলে গোলাপ নূর, ইজাজুল ইসলামের ছেলে ফয়জুল হক এবং অপর শ্রমিক আবুল হাসান। মুঠোফোনে কথা হয় আবুল হাসানের সাথে।

তিনি জানান, আমি একজন নৌকা শ্রমিক। বছরের ছয়মাস নৌকায় যাত্রীবহন করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকি। আমার নিজস্ব নৌকা না থাকায় প্রতিবছর ছয়মাস চুক্তিতে নৌকা ভাড়ায় আনি। এ বছরও ৭০ হাজার টাকায় নৌকা ভাড়া করেছি। স্থানীয় ব্যাংক থেকে কিস্তি তুলে, ধারদেনা করে নৌকা নিয়েছিলাম। এখনো নদী-হাওরে পানি আসেনি।

পিয়াইন নদীতে নৌকা ডুবিয়ে পরিবার নিয়ে সিলেটে আছি। দিনমজুরি করে কোনো রকমে চলছি। আমাদের দুঃখের শেষ নাই| আমার মতো আরো অনেকেই আছেন।

নৌকা শ্রমিক আবদুল মতিন বলেন, আমরা সাধারণ শ্রমিক। সারা বছরে আমাদের একটা লক্ষ থাকে বর্ষা মৌসুমে কিছু আয় রোজগার করে সুখে-শান্তিতে বছর কাটাবো। কিন্তু এ বছর তা হচ্ছে না। জৈষ্ঠ্যমাসও প্রায় শেষ। এখনো নদীতে পানি আসেনি। আমরা এখন একদম বেকার সময় কাটাচ্ছি। খুব কষ্টে দিনাতিপাত করছি।

শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, তারা যদি বেকার হওয়া শ্রমিকদের নামের তালিকা আমাদের দেন তাহলে আমরা কিছু একটা করার চেষ্টা করবো।

এইচআর

Link copied!