Amar Sangbad
ঢাকা মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৪,

ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে কালিহাতীর গ্রামীণ জনপদ

কালিহাতী (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

কালিহাতী (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

মার্চ ৩১, ২০২৪, ০৩:৫৬ পিএম


ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে কালিহাতীর গ্রামীণ জনপদ

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার পৌলী এলেংজানী নদীর দক্ষিণাংশে পাড়ঘেঁষে রাতের আধারে অবৈধভাবে বালু কেটে বিক্রি করছে একটি মহল।

এলেঙ্গা পৌরসভা বিভিন্ন ইউনিয়নের কাঁচা-পাকা রাস্তা বালুবাহী ট্রাকের চাপে ধসে যাচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ উপজেলার সীমানায় থাকা পৌলী এলেংজানী নদী থেকে মহেলার দক্ষিণাংশে বালুখেকোরা বেকু দিয়ে নদীর চর কেটে বালু কালিহাতী উপজেলা এবং সদর উপজেলাসহ সেখান থেকে রাতে ট্রাকে করে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত তিন বছরে আগে মহেলার দক্ষিণাংশে রাস্তায় বালুবাহী ট্রাকের চাপায় মারা গেছেন একজন। তখন এলাকাবাসী ট্রাক চলাচলের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেন।

স্থানীয়রা বলছেন, কালিহাতীর সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারী ইউনিয়নের প্রতিটি রাস্তা কোটি কোটি টাকা খরচ করে উন্নয়ন করে দিয়েছেন। সেই রাস্তা এখন বালুর ট্রাকের চাপে ক্ষতবিক্ষত হয়ে যাচ্ছে।

খবর নিয়ে জানা গেছে, পৌলী নদীর বালু উঠিয়ে যারা ব্যবসা করছেন তারা এলাকায় প্রভাবশালী। সরকারদলীয় পরিচয় দিয়ে থাকেন। এ কারণে রাস্তাঘাটের ক্ষতি হলেও তাদের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস করে না কেউ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এলেঙ্গা পৌরসভার পৌলী নদীর দক্ষিণ পাশে মহেলার অংশে একাধিক ভেকু দিয়ে সেখান থেকে ব্যবসায়ীরা ড্রাম ট্রাকে ভরে বালু বিভিন্ন এলাকায় পাঠাচ্ছে। বালুর গাড়ির দাপটে রাস্তার বিভিন্ন অংশ নষ্ট হচ্ছে। অভিযোগ করেছেন নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকেই।

স্থানীয়রা বলেছেন, এখানে বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত আছেন আলম কমিশনারের নেতৃত্বে ফজল, তোফাজ্জল, মাফিজুল ও সাদ্দাম।

ফটিকজানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি আল- মামুন, এবং সহ-সভাপতি আব্দুল হাই জানান, স্কুলের সামনে দিয়ে বিশাল বড় বড় বালুর গাড়ি চলাচলের কারণে উড়ন্ত বালু স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীর নাকে-মুখে প্রবেশ করছে ও অনেক সময় শিক্ষার্থীদের চলাচলের সমস্যা হচ্ছে।

এলেঙ্গা পৌর ভূমি নায়েব কামরুজ্জামান জানান, গত বুধবারে আমরা অভিযান করে বন্ধ করে দিয়েছিলাম। আবারও কেউ বালু কেটে বিক্রি করলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কালিহাতী উপজেলা প্রকৌশলী আরিফ হোসেন জানান, গ্রামীণ রাস্তাগুলোতে সর্বোচ্চ ১০ টনের অধিক ওজন বহন করা যাবে না। সেখানে ড্রাম ট্রাকগুলো ৩০ টন মালামাল নেওয়ার কারণে রাস্তা নষ্ট হচ্ছে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক বলেন, আমি বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিব।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহাদাত হুসেইন জানান, পৌলী নদী বালু বিক্রির বন্ধ করার জন্য নায়েব এসিল্যান্ডকে বলা হয়েছে।

টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. কায়ছারুল ইসলাম জানান, গত এক মাসে বেশ কয়েকটা স্পটে জেল জরিমানা করা হয়েছে। যদি এমন কেউ নদী থেকে বালু কেটে বিক্রি করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইএইচ

Link copied!