ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সম্ভাবনার আরেক নাম নবাবগঞ্জের দীঘিপাড়া কয়লা খনি

অলিউর রহমান মিরাজ, নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর)

অলিউর রহমান মিরাজ, নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর)

অক্টোবর ৩, ২০২৫, ০৩:৪২ পিএম

সম্ভাবনার আরেক নাম নবাবগঞ্জের দীঘিপাড়া কয়লা খনি

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির পর এবার নবাবগঞ্জের দীঘিপাড়া খনি থেকে কয়লা উত্তোলনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। 

ইতোমধ্যেই কয়লা উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং এখন চলছে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ।

দীঘিপাড়া খনি থেকে কয়লা উত্তোলনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডকে। 

প্রতিষ্ঠানটির হিসাব অনুযায়ী, সম্ভাবনাময় দীঘিপাড়া কয়লা খনিতে প্রায় ৮৬৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন কয়লা মজুদ রয়েছে। এটি উত্তোলন করা গেলে ১ হাজার ৫শ’ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে।

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুজ্জামান বলেন, “দীঘিপাড়া কয়লা খনি চালু করতে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। তবে সেখানের কয়লার মান পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই খনির উন্নয়ন এবং কয়লা উত্তোলনের নকশা ও পরিকল্পনা শুরু করা হবে। প্রাথমিকভাবে খনির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য ১২০ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে, এরপরই খনি উন্নয়নের কাজ শুরু করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, খনি উন্নয়নে মোট কতটুকু অর্থ প্রয়োজন তা সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর জানা যাবে। কারণ সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য ল্যাবরেটরি সার্ভিস, কোল্ড অ্যানালাইসিস করার পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি দেশে নেই। এজন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক কোম্পানি ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করার পরিকল্পনা করছে।

এক প্রশ্নের জবাবে মো. আমিনুজ্জামান বলেন, “ভূ-গর্ভস্থ (আন্ডারগ্রাউন্ড) পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করলে খনির পুরো কয়লা উত্তোলন করা সম্ভব হয় না। তবে দীঘিপাড়া কয়লা খনিতে যে পরিমাণ কয়লা মজুদ রয়েছে, তার অর্ধেক উত্তোলন করা গেলেই তা দিয়ে দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব।”

তিনি আরও জানান, ধারণা করা হচ্ছে, এই খনি থেকে বাৎসরিক ৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন কয়লা উত্তোলন করা সম্ভব, যা দিয়ে ১ হাজার ৫শ’ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু রাখা যাবে।

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির মহাব্যবস্থাপক (মাইনিং) প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহমেদ বলেন, “বড়পুকুরিয়ায় যারা কাজ করেন, তাদের অভিজ্ঞতা দিয়ে দীঘিপাড়া কয়লা খনি বাস্তবায়ন ও উৎপাদনে সাফল্য আসবে। দেশের অন্যান্য কয়লা খনির দায়িত্বপ্রাপ্তরা এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশের জ্বালানি ঘাটতি পূরণে অবদান রাখতে পারবেন।”

পেট্রোবাংলার হিসাব অনুযায়ী, দেশে এ পর্যন্ত ৫টি কয়লা খনিতে মোট ৩ হাজার ৫৬৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন কয়লা মজুদ রয়েছে। এর মধ্যে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়ায় ৩৯০ মিলিয়ন মেট্রিক টন, ফুলবাড়ীয়ায় ৫৭২ মিলিয়ন মেট্রিক টন, নবাবগঞ্জের দীঘিপাড়ায় ৮৬৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন, রংপুরের খালাসপীরে ৬৮৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন এবং জয়পুরহাটের জামালগঞ্জে ১ হাজার ৫৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন কয়লা মজুদ রয়েছে। ২০০৫ সালে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে বাণিজ্যিকভাবে কয়লা উত্তোলন শুরু হয়। বাকি চারটি খনির মধ্যে জামালগঞ্জ থেকে গ্যাস এবং দীঘিপাড়া খনি থেকে কয়লা উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

দীঘিপাড়া খনি থেকে উত্তোলিত কয়লার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হলে পাশাপাশি দুটি জেলার শিল্প কারখানাও চালু রাখা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

ইতিমধ্যে কয়লা খনিগুলো পরিদর্শন করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। কমিটির সভাপতি তাজুল ইসলাম এমপি বলেন, “দীঘিপাড়ায় প্রচুর কয়লা মজুদ রয়েছে, যা দিয়ে দেশের জ্বালানি নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা সম্ভব।”

ইএইচ

Link copied!