বুড়িচং (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
অক্টোবর ৫, ২০২৫, ০৫:৩৭ পিএম
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বাকশীমুল গ্রামে ২০০৫ সালে তৎকালীন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেনের প্রভাব খাটিয়ে তার বাড়ির পাশেই সেতুটি নির্মাণ করা হয়।
সেতুটি উপজেলার বাকশীমূল গ্রাম দিয়ে প্রবাহিত ঘুঙ্গুর নদীর উপর নির্মিত এক অদ্ভুত সেতু। ২০ বছর ধরে এটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। কিন্তু দুই দশক পেরিয়ে গেলেও সেতুটি দিয়ে কোনো যানবাহন চলাচল করেনি।
ফলে, প্রকল্পে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও গ্রামীণ মানুষের কোনো উপকার হয়নি। বরং এটি এখন এলাকাবাসীর জন্য জনদুর্ভোগ ও ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাস্তা থেকে প্রায় ১৫ ফুট উঁচুতে নির্মিত এই সেতুর একপাশে সিঁড়ি থাকলেও অপর প্রান্তে ওঠানামার কোনো সুযোগ নেই। ফলে সেতুটি ব্যবহার করতে হলে স্থানীয়দের বস্তা বা অন্যান্য অস্থায়ী উপায়ের সাহায্য নিতে হয়। তাই স্থানীয়রা একে “অদ্ভুত সেতু” নামে ডাকেন।
সেতুটি নির্মাণের সময় বলা হয়েছিল, নদী পারাপারে এটি হবে স্থানীয় জনগণের জন্য বড় সহায়ক। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি; বরং দীর্ঘ ২০ বছর ধরে এটি অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে।
স্থানীয় কৃষক আবদুল কুদ্দুস বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম এই সেতু হলে বাজারে যাতায়াত সহজ হবে। ফসল মাঠ থেকে সরাসরি গাড়িতে তোলা যাবে। কিন্তু ২০ বছরেও কোনো গাড়ি চলল না। আমাদের কষ্ট যেমন ছিল, তেমনি রয়ে গেছে।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হানিফ জানান, “এলাকায় শাকসবজি ও ফসল বাজারে নিতে অনেকটা ঘুরে যেতে হয়। এতে অনেক ঝামেলা হয়। সেতুটা যদি সংস্কার করে দুই পাশে সংযোগ সড়ক তৈরি করা যায়, তাহলে পুরো গ্রামের মানুষ উপকৃত হবে।”
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, কোনো ধরনের সমীক্ষা ও সঠিক পরিকল্পনা ছাড়াই বিপুল অর্থ ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। যার ফলে ২০ বছরেও এটির কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। বরং বর্তমানে এটি অপচয় হওয়া সরকারি অর্থের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখনোও যদি সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা যায়, তবে এটি এলাকাবাসীর জন্য এক বিশাল সুফল বয়ে আনবে। এতে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। গ্রামীণ মানুষের দাবি, সরকারের উচিত দ্রুত সেতুটি সংস্কার ও সংযোগ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া। তা না হলে অকার্যকর এই সেতু আরও বহু বছর ধরে স্থানীয়দের দুর্ভোগের কারণ হয়ে থাকবে।
বুড়িচং উপজেলা প্রকৌশলী আলিফ আহমেদ অক্ষর জানান, “সেতুটি নির্মাণের সময় স্থানীয়রা সংযোগ সড়কের জায়গা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে জায়গা না দেওয়ায় সংযোগ সড়ক আর নির্মাণ সম্ভব হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে স্থানীয়রা যদি জায়গা দেন, তবে নতুন করে সংযোগ সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারের মাধ্যমে সেতুটি চালু করা সম্ভব। এতে এলাকাবাসীর উপকার হবে।”
ইএইচ