হোছাইন মুহাম্মদ তারেক, ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ)
অক্টোবর ২০, ২০২৫, ০৩:২৬ পিএম
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার নাউরীপাড়া বাজিতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতিদিন চলছে যেন এক ভয়াবহ বেঁচে থাকার লড়াই। ফাটা কলাম, খসে পড়া পলেস্তারা, ছাদ থেকে পানিঝরা—সবকিছু মিলিয়ে ভবনটি এখন পরিণত হয়েছে এক মৃত্যুফাঁদে। অথচ এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেই চলছে পাঠদান।
১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি একসময় ছিল এলাকার শিক্ষার অন্যতম কেন্দ্র। বর্তমানে ১৯৯০ ও ২০০৮ সালে নির্মিত দুটি জরাজীর্ণ ভবনের পাঁচটি কক্ষে গাদাগাদি করে পড়াশোনা করছে ১৫৪ জন শিক্ষার্থী।
ভবনের দেয়াল ও ছাদের ফাটল ধরে বেরিয়ে এসেছে রড, যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের ভয় প্রতিদিনের সঙ্গী। তারা আশঙ্কায় থাকে, ছাদ থেকে যদি হঠাৎ কিছু পড়ে যায়! কেউ কেউ মাথায় বই বা ব্যাগ রেখে ক্লাস করে।
এক শিক্ষার্থী জানায়, “মাঝে মাঝে ছাদ থেকে বালু পড়ে। আমরা ভয় পাই, কিন্তু স্যার বলেন, ক্লাস করতে।”
শিক্ষকরাও জানেন বিপদের কথা, কিন্তু বিকল্প ভবন না থাকায় বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান করছেন।
এক শিক্ষক বলেন, “জানি, ভবনটি ভেঙে পড়লে বড় দুর্ঘটনা ঘটবে, কিন্তু শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বন্ধ রাখতে পারি না।”
বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথটিও অনিরাপদ। স্কুলে প্রবেশের কোনো নির্দিষ্ট রাস্তা নেই। দুই পাশে পুকুর, মাঝখানে সরু ভাঙা পাড় দিয়ে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত করতে হয়। এতে প্রতিদিনই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রধান শিক্ষক আব্দুস সাত্তার বলেন, “২০১৮ সালে যোগদানের পর থেকেই নতুন ভবনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বহুবার আবেদন করেছি। কিন্তু কোনো ফল মেলেনি। ঝুঁকি নিয়েই ক্লাস চালিয়ে যাচ্ছি।”
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ আহমেদ বলেন, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না। দ্রুত পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় অভিভাবকরা বলেন, “স্কুলটি এখন শিশুদের জন্য ‘শিক্ষালয়’ নয়, বরং এক ‘ভয়ের ঘর’। অবিলম্বে নতুন ভবন নির্মাণ করে শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ শেখার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।”
ইএইচ