কলমাকান্দা (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি
অক্টোবর ২৪, ২০২৫, ০৩:৩৭ পিএম
একটি সেতুর অভাবে দীর্ঘ বছর ধরেই ভোগান্তিতে ছিল এলাকার মানুষ ও পর্যটকরা। পরে সেখানে নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। কিন্তু সেই সেতুতেই উঠতে এখন ভয় পাচ্ছে মানুষ। এক কোটি টাকার ওপরে ব্যয়ে নির্মিত পাকা সেতুর একপাশে নেই সংযোগ সড়ক।
সেতুটি নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলার সীমান্ত বর্ডার সড়কের চেংগ্নী গোপালবাড়ি গ্রামে যাওয়ার রাস্তার একটি খালের ওপর অবস্থিত।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, সেতুর সংযোগ সড়কে মাটি না দিয়েই কাজ বন্ধ করে রেখেছে। এখন সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করা যাচ্ছে না। তবে বিকল্প রাস্তা না থাকায় প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে স্থানীয় লোকজন ও পর্যটকরা। এখন ঠিকাদারের কোনো খোঁজখবর নেই।
কলমাকান্দা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তের বর্ডার পাকা সড়কের চেংগ্নী স্থান হতে বর্ডারে রাস্তা শেষ হয়েছে। এর মধ্যে একটি খালের ওপর ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের পাকা সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাস্তবায়নের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আদিত্য এন্টারপ্রাইজ, নিউটাউন, নেত্রকোনা। যার ব্যয় ধরা হয়েছে এক কোটি ১৪ লাখ ৩৩ হাজার ৩২১ টাকা। এর মধ্যে কাজ শুরু হয় গত বছরের ১০ জুনে। মেয়াদ শেষ হবে চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল। তবে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান আবারও মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছে বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি সেতুতে গিয়ে দেখা গেছে, সেতুর একপাশে সম্পূর্ণ মাটি না দেওয়ায় নামতে কষ্ট হচ্ছে লোকজনের। এছাড়াও ছোট দুটি মাটি ঠেকানোর গাইডওয়াল ভেঙে পড়েছে। বিকল্প মাটির সড়কটি কেটে ফেলেছে ঠিকাদার। ভোগান্তিতে চলাচল করছে সাধারণ মানুষ ও মোটরসাইকেল, এবং স্কুল-কলেজে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা।
স্থানীয় চেংগ্নী গ্রামের বৃদ্ধা শাফিয়া খাতুন বলেন, “ব্রিজ থেকে কিছুটা দূরে তার ছেলে মুদি দোকানদার। বাড়ি থেকে প্রতিদিন দু'বেলার খাবার নিয়ে যান তিনি। ব্রিজের ওপর দিয়ে ছাড়া আর কোনো রাস্তা নেই। তবুও পা টিপে টিপে নামতে হচ্ছে তাকে।”
সীমান্তের আদিবাসী সম্প্রদায়ের সভাপতি প্রণব হাজং বলেন, “কাজ ফেলে চলে গেছে ঠিকাদার। মাটি ঠিকমতো ফেলেনি ব্রিজের পাশে। অনেক সময় ভয়ে নামতে হয় সেতুর ওপর থেকে। এছাড়া বিকল্প রাস্তাটাও কেটে ফেলছে। ঠিকাদারের কন্ট্রাক্টর কামাল মিয়াকে ফোন দিলে উল্টোপাল্টা বলে। এই রাস্তা দিয়ে স্কুল-কলেজ, মন্দির, গির্জা ও পর্যটকদের আসা-যাওয়া করতে হয়। রাস্তার এই অবস্থার কারণে বর্তমানে পর্যটক আসেন না এখানে।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কামাল মিয়া বলেন, “চারপাশে কোনো মাটি নেই। তবুও চেষ্টা করছি দ্রুতই কাজ শেষ করার। আমাকে ফোন দিলে কি হবে, মাটি না পেলে?”
কলমাকান্দা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম বলেন, “ব্রিজের কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। এখনো কিছু বাকি আছে, দ্রুত কাজ শেষ করতে ঠিকাদারকে বলা হয়েছে।”
ইএইচ