মহসিন তালুকদার, মাদারীপুর
এপ্রিল ২৭, ২০২৬, ০৬:০৭ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির গ্রামের বাড়িতে গিয়ে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক।
সোমবার দুপুরে সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চরগোবিন্দপুর গ্রামে বৃষ্টির স্বজনদের খোঁজখবর নিতে যান তিনি।
মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মিজ্ মর্জিনা আক্তার ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াদিয়া শাবাব বৃষ্টির বাড়িতে গিয়ে শোকাতুর পরিবেশের মুখোমুখি হন। বৃষ্টির বাবা জহির উদ্দিন আকন বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করায় তাঁর সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলেন জেলা প্রশাসক।
তিনি শোকসন্তপ্ত পিতাকে সান্ত্বনা দেন এবং যেকোনো প্রয়োজনে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন। বৃষ্টির বাবা মেয়ের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারি সহযোগিতার অনুরোধ জানালে জেলা প্রশাসক যথাযথ ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দেন।
নিহত নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি ছিলেন একজন অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী। তিনি মিরপুর নাহার একাডেমি হাইস্কুল থেকে এসএসসি ও শহীদ বীর উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জন করেন।
এরপর নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং বুয়েটে স্নাতকোত্তর চলাকালীন ফুল স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যান। ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে তিনি ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি করছিলেন।
গত ১৬ এপ্রিল ক্যাম্পাস এলাকা থেকে বৃষ্টি ও তাঁর সহপাঠী জামিল আহমেদ লিমন নিখোঁজ হন। গত শুক্রবার ফ্লোরিডার ট্যাম্পা এলাকা থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তাঁদের রুমমেট হিশাম সালেহ আবুঘারবেইহকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বৃষ্টির লাশের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার হলেও ডিএনএ পরীক্ষা ও ময়নাতদন্তের আনুষ্ঠানিক রিপোর্ট এখনো অপেক্ষমান।
এ সময় জেলা প্রশাসকের সাথে উপস্থিত ছিলেন বৃষ্টির চাচা দানিয়াল আকন, ওবায়দুর রহমান, খোয়াজপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান ও ইউপি সদস্য বাদল ব্যাপারীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। বৃষ্টির বাবা জহির উদ্দিন জানান, জেলা প্রশাসন পাশে দাঁড়ানোয় তাঁরা কিছুটা সান্ত্বনা পেয়েছেন, এখন কেবল মেয়ের মরদেহ ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন।
জেএইচআর