আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মে ১৩, ২০২৬, ০৬:০৮ পিএম
টানা তিন দিন বাড়ার পর বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমেছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আসন্ন চীন সফর এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে চলমান অনিশ্চয়তার প্রভাবে বাজারে এই দরপতন দেখা গেছে।
বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১.২২ ডলার কমে ১০৬.৫৫ ডলারে নেমেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১.১৬ ডলার কমে প্রতি ব্যারেল ১০১.২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত মঙ্গলবারও তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল।
বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বেইজিংয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ইরান থেকে তেল আমদানিতে চীন বর্তমানে শীর্ষ দেশ হওয়ায় এই বৈঠকের ওপর তেলের বাজারের গতিপ্রকৃতি অনেকটা নির্ভর করছে। যদিও ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, ইরানের সাথে সমস্যা সমাধানে চীনের সহায়তা তার অপরিহার্য নয়, তবে স্থায়ী শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা এখনো ক্ষীণ বলে তিনি স্বীকার করেছেন।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা তৈরি হয়। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইউরেশিয়া গ্রুপ ধারণা করছে, উৎপাদন কমে যাওয়া এবং সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার ফলে বছরের বাকি সময় তেলের দাম ৮০ ডলারের ওপরে থাকতে পারে। তেলের এই উচ্চমূল্যের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা দেশটির অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
জেএইচআর