ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

প্রিয়াঙ্কা-অক্ষয় সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে মুখ খুললেন পরিচালক সুনীল দর্ষন

বিনোদন ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

ডিসেম্বর ৪, ২০২৫, ১১:৩৫ পিএম

প্রিয়াঙ্কা-অক্ষয় সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে মুখ খুললেন পরিচালক সুনীল দর্ষন

বলিউডে তারকাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক, গুঞ্জন ও পর্দার বাইরে জটিলতার গল্প নতুন নয়। তবে সেই পুরোনো আলোচিত রহস্যগুলোর একটি, অক্ষয় কুমার ও প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার সম্পর্ক ঘিরে তৈরি বিতর্ক, আবারও সামনে এল পরিচালক ও প্রযোজক সুনীল দর্শনের বক্তব্যে। 

সম্প্রতি তিনি একটি সাক্ষাৎকারে প্রকাশ করলেন, ব্যক্তিগত টানাপোড়েন কীভাবে তার চলচ্চিত্রের কাস্টিং বদলে দিয়েছিল এবং কেন তিনি শেষ পর্যন্ত অক্ষয়কে বাদ দিয়ে প্রিয়ঙ্কাকেই রাখার সিদ্ধান্ত নেন।

সুনীল দর্শন জানান, অক্ষয় কুমার ও প্রিয়ঙ্কা চোপড়া প্রথমদিকে এক সঙ্গে কাজ করতে কোনো সমস্যা অনুভব করতেন না। তারা আন্দাজ, মুঝসে শাদি কারোগি ও ওয়াক্ত: রেস এগেইনস্ট টাইম এর মতো জনপ্রিয় ছবিতে অভিনয় করেন। দুজনের পর্দায় রসায়ন দর্শকের কাছে এতটাই বিশ্বাসযোগ্য ছিল যে, বাস্তব জীবনেও তাদের মধ্যে ‘কিছু একটা’ চলছে, এমন জোরালো গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।

দর্শন বললেন, "তারা দু’জন বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই কাজ করছিল। এইতরাজ ছবিতেও তারা অসাধারণ পারফর্ম করে। প্রিয়ঙ্কা প্রথমে ছবিটিতে খল চরিত্র করতে চাইছিল না। সে আমার কাছে এসে বলেছিল তাকে ‘ভ্যাম্প’ চরিত্র দেওয়া হয়েছে। পরে স্ক্রিপ্ট দেখে বুঝলাম, ছবির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র তো এটাই। ওকে আমি নিজেই সই করতে বলেছি।"

সব ঠিকঠাক চললেও ২০০৫ সালের ‘বরসাত’ ছবির শুটিংয়ের সময় পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করে। ছবিটি মূলত অক্ষয়, প্রিয়ঙ্কা ও ক্যাটরিনা কাইফকে নিয়ে তৈরি হওয়ার কথা ছিল। দর্শন জানান, ছবির শিরোনাম সঙ্গীতও শুট হয়ে গিয়েছিল অক্ষয় ও প্রিয়ঙ্কাকে নিয়ে। কিন্তু এরপরই ঘটে অঘটন। পর্দার আড়ালে বেশ কিছু 'দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা' ঘটতে থাকে, যা পরিচালককে বড় সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে।

দর্শনের ভাষায়, "এমন কিছু ঘটেছিল যা বুঝিয়ে দিল, তাদের দু’জনকে নিয়ে আমি আর ছবিটা এগোতে পারব না। আমাকে একজনকে বেছে নিতে হতো। অনেক ভেবে বুঝলাম, যদি কোনো ভুল হয়ে থাকে, তবে নারী শিল্পী কেন তার জন্য ভুগবে? তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম—আমি প্রিয়ঙ্কাকেই রাখব।" তিনি আরও বলেন, "এটা আমার জন্য খুব কষ্টের ছিল। কারণ আমি ইতোমধ্যে ছবির অনেক অংশ শুট করে ফেলেছিলাম। কিন্তু সব বাদ দিতে হয়েছিল।"

পরিস্থিতি যখন অচলাবস্থায়, তখন এক বন্ধুর পরামর্শে দর্শন নতুন নায়ক হিসেবে ববি দেওলকে বেছে নেন। সেই সময় ববি দেওলের কর্মজীবন তেমন ভালো যাচ্ছিল না, তাই চুক্তিতে শর্ত জুড়ে দেন ববি অন্য কোনো ছবির শুটিং করতে পারবেন না ‘বরসাত’ শেষ না হওয়া পর্যন্ত। 

এদিকে ক্যাটরিনা কাইফও আলোচনার মধ্যে ছবিটি ছেড়ে দেন। তার পরিবর্তে যুক্ত হন বিপাশা বসু। শেষ পর্যন্ত ছবিটি মুক্তি পায় তবে অক্ষয় কুমার ছাড়াই।

‘বরসাত’–এর শুটিং ভেঙে যাওয়ার পর আর কখনোই প্রিয়ঙ্কা চোপড়া ও অক্ষয় কুমার এক সঙ্গে কাজ করেননি। অথচ তার আগে মাত্র কয়েক বছরে পরপর চারটি সফল ছবিতে তারা জুটি গড়েছিলেন, আন্দাজ (২০০৩), এইতরাজ (২০০৪), মুঝসে শাদি কারোগি (২০০৪), ওয়াক্ত রেস এগেইনস্ট টাইম (২০০৫)। দর্শকের কাছে তাদের জুটি ছিল অত্যন্ত জনপ্রিয়, কিন্তু ব্যক্তিগত সমস্যাই তাঁদের পর্দার রসায়নের ইতি টেনে দেয় বলে মনে করা হয়।

সাক্ষাৎকারে দর্শন বলেন, "ওয়াক্ত ওয়াক্ত কি বাত হোতি হ্যায়", সময় সব বদলে দেয়। তখন যা ঘটেছিল, তা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক। কিন্তু আমার অবস্থান ছিল পরিষ্কার—কারো ভুলের জন্য একজন নারী শিল্পীর কর্মজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়। তার মতে, চলচ্চিত্র নির্মাণ শুধু পেশাগত নয়, মানবিক সিদ্ধান্তও বটে এবং সেই জায়গা থেকেই তিনি অক্ষয়ের পরিবর্তে প্রিয়ঙ্কাকে বেছে নেন।

অক্ষয় কুমার ও প্রিয়ঙ্কা চোপড়ার মধ্যকার সম্ভাব্য সম্পর্কের গুঞ্জন বলিউডে বহু বছর ধরেই ঘুরে বেড়াচ্ছে। শোনা যায়, অক্ষয়ের স্ত্রী টুইংকেল খান্না এই গুঞ্জনে বিরক্ত হন এবং পরবর্তীতে নাকি অক্ষয়কে প্রিয়ঙ্কার সঙ্গে আর কোনো কাজ না করার সিদ্ধান্তে বাধ্য করেন। 

যদিও এ বিষয়ে কেউই প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। তবে দর্শনের বক্তব্য সেই পুরোনো বিতর্ককে আবারও নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।

আজ প্রিয়ঙ্কা চোপড়া আন্তর্জাতিক তারকা; হলিউডে দৃঢ় অবস্থান গড়ে তুলেছেন। অক্ষয় কুমারও বলিউডে নিজের অবস্থান অটুট রেখেছেন। দুই তারকাই পৃথকভাবে সফল কর্মজীবন চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে তাদের জুটিকে নিয়ে সিনেমা-প্রেমীদের আগ্রহ এখনো কমেনি। সুনীল দর্শনের সাম্প্রতিক মন্তব্যে আবারও সামনে এসেছে সেই সময়কার অজানা অধ্যায় যা বলিউডের পর্দার পেছনের বাস্তবতার একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে।

ইএইচ

Link copied!