Amar Sangbad
ঢাকা মঙ্গলবার, ০৫ জুলাই, ২০২২, ২১ আষাঢ় ১৪২৯

একমাত্র শেখ হাসিনাই বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য: শেখ পরশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

মে ১৬, ২০২২, ০৮:০২ পিএম


একমাত্র শেখ হাসিনাই বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য: শেখ পরশ

যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ বলেছেন, ২০০৭ সালে ১/১১ সময়ে এক সেনা কর্মকর্তা আমাকে প্রশ্ন করেছিলেন, “কেন শেখ হাসিনা অপরিহার্য আওয়ামী লীগ এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে?” আজকে ঐ প্রশ্নের উত্তর শেখের বেটী দিয়ে দিয়েছেন কেন তিনি অপরিহার্য বাংলাদেশের জন্য। নেত্রী তাঁর কর্মের মাধ্যমে ঐ প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, একমাত্র শেখ হাসিনাই অপরিহার্য বাংলাদেশের জন্য। শেখ হাসিনার কোন বিকল্প নাই। বিএনপি-জামাত সরকার এদেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছিল ৫ বার, আর শেখ হাসিনার সরকার দুর্নীতি দমন কমিশনকে স্বাধীন করেছে, শক্তিশালী করেছে। আজকে একটা মেসেজ ক্লিয়ার দুর্নীতিবাজ যেই হোক, কারোর রক্ষা নাই। আজকে দলীয় নেতা-কর্মী বলেন, আর প্রশাসনিক আমলা বলেন দুর্নীতি করলে শাস্তি পেতেই হবে। বিএনপি-জামাত সরকার এদেশে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটিয়েছিল, আর শেখ হাসিনা সরকার জঙ্গিবাদ এদেশ থেকে নির্মূল করে দিয়েছে

সোমবার (১৬ মে) রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে যুবলীগের উদ্যোগে আলোচনা সভা, দৃষ্টি প্রতিবন্ধি, বাক প্রতিবন্ধি, শ্রবণ প্রতিবন্ধি ও শারীরিক প্রতিবন্ধিদের মাঝে শাড়ী, লুঙ্গি, হুইল চেয়ার ও সাদা ছড়ি বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন- আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, বীর বিক্রম, সম্মানিত অতিথি ছিলেন, ঢাকা মহানগ দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ হুমায়ুন কবির। সঞ্চালনায় –ছিলেন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ মাইনুল হোসেন খান নিখিল।

যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ বলেন- ১৯৮১ সালের ১৭ এপ্রিল স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেছিলেন বলে এদেশের মানুষ, আমরা প্রকৃত দেশপ্রেমী এবং আদর্শিক নেতৃত্ব ফিরে পেয়েছি। দীর্ঘ ৬ বছর শরণার্থী ও নির্বাসনের জীবন কাটিয়ে, সকল ভয়কে উপেক্ষা করে, এদেশের মানুষকে ভালোবেসে তাদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে মাথায় কাফন বেঁধে তিনি দেশে ফিরে এসেছিলেন সেই যন্ত্রণাবিদ্ধ বর্ষায়। ভেবে দেখুন, সামরিক শাসনামলে তাঁর স্বদেশে ফেরা ছিল কতটা সাহসী সিদ্ধান্ত। ২৩ বছর তাঁর পিতা, আমাদের জাতির পিতা এদেশের দুঃখী মানুষকে ভালবেসে যৌবনের ১৫টি বছর সংগ্রাম করেছেন, জেল, জুলুম অত্যাচার সহ্য করেছেন। সেই ভালবাসার মূল্য দিতে এদেশের মানুষও বঙ্গবন্ধুকে পাল্টা ভালবেসে তাঁর ডাকে মুক্তির সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল ১৯৭১ সালে, ৩০ লক্ষ মানুষ জীবন দিয়েছিল, আমাদের মায়েরা ইজ্জত দিয়েছিল। সেই ভালবাসার ঋণ বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গবন্ধুকন্যা ধারাবাহিকভাবে দুই প্রজন্ম ধরে শোধ করে যাচ্ছেন। 

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথ থেকে আমাদের নেত্রী কখনো বিচ্যুত হন নাই। বরঞ্চ বঙ্গবন্ধুর সামাজিক ন্যায় বিচার এবং ন্যায় পরায়ণ সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই শেখ হাসিনা দেশের প্রচলিত আইনের মাধ্যমে জাতির পিতা হত্যার বিচার সম্পন্ন করে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেছেন। আজকে শেখ হাসিনার ত্যাগ ও তিতিক্ষার ফলে বাংলাদেশ শুধুমাত্র একটা উন্নয়নশীল দেশই নয়, একটা মর্যাদাশীল দেশও বটে। শেখ হাসিনা একজন আত্মপ্রত্যয়ী, মানবতাবাদী ও দূরদর্শী নেতৃত্ব হিসাবে আজকে নিজেকে সারাবিশ্বে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। 

বিএনপি-জামাতের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন-ক্ষমতার লোভে এই সকল অপরাজনীতি বন্ধ করেন। আপনারা যদি দেশকে ভালবাসেন, আপনাদের উচিৎ গঠনমূলক বিরোধিতা করে এদেশকে আরও শক্তিশালী করা। কই কোন জাতীয় সংকটে আপনাদেরতো জনগণের পাশে দেখলাম না। যখন দেখলেন সরকারের মেয়াদ শেষের দিকে, তখন ক্ষমতার লোভে অন্ধ হয়ে একটা কার্যকরী এবং গণতান্ত্রিক সরকার উচ্ছেদের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলেন। তা আবার কিভাবে? বিদেশিদের সাথে সন্ধি করে, এদেশের টাকা বিদেশে পাচার করে, লবিং করে। কি দাবি আপনাদের? নিরপেক্ষ-নির্দলীয় সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে? তার মানে হচ্ছে অগণতান্ত্রিক এবং অসাংবিধানিক পন্থা আপনাদের পছন্দ, আমরা জানি। আপনাদের চাচ্ছেন যে আমরা একটা গণতান্ত্রিক পন্থায় একটা অসাংবিধানিক এবং অরাজনৈতিক সরকারের হাতে অন্তবর্তীকালে ক্ষমতা হস্তান্তর করি। কিন্তু কেন? কিসের জন্য? যাতে আপনারা ষড়যন্ত্রেরে ফাঁদ পাততে পারেন সেই জন্য? আপনারা সুবিধাবাদী উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য? এই হচ্ছে আপনাদের চরিত্র এবং এই হচ্ছে আপনাদের দেশপ্রেম। এদেশের নতুন প্রজন্ম এত বোকা না, কিছু মনে করবেন না, এই প্রজন্ম আসলেই আপনাদের বিশ্বাস করতে পারে না। আপনারা যে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চাচ্ছেন সেটা এই ডিজিটাল বাংলাদেশের আধুনিক যুবসামজ বোঝে। তাই এখনো সময় আছে, রাজনীতির গুনগত মান উন্নয়নের দিকে ধ্যান দেন, এমনিতেই কোন একদিন হয়তোবা তাঁর শুফল পাবেন। 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম বলেন-১৯৮১ সালের ১৭ মে এই ঢাকা শহরে ঝড়বৃষ্টি উপেক্ষা করে জনতার ঢল নেমেছিল বঙ্গবন্ধুকন্যাকে বরণ করে নেওয়ার জন্য। সে দিন স্লোগান ছিল “হাসিনা তোমায় কথা দিলাম মুজিব হত্যার বদলা নেবো।” নদী পার হয়ে, পাহাড় ডিঙ্গিয়ে একাকার হয়েছিল গোটা ঢাকার শহর। তিনি সেদিন বলেছিলেন-সব হারিয়ে আমি আপনাদের মাঝে ফিরে এসেছি। আমি এই বাংলার মেহনতি মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণে কাজ করে যাবো। আজও তিনি তাঁর ওয়াদা ও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি।

তিনি বিএনপি-নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন-জিয়াউর রহমান একজন খুনি, এই বিএনপি একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। এই সন্ত্রাসী সংগঠন আবারও নানামুখী ষড়যন্ত্র শুরে করেছে। তারা শেখ হাসিনার সরকার পতন না ঘটিয়ে ঘরে ফিরে যাবে না। আজকের এই সভা থেকে বলতে চাই-যদি আবারও আগুন সন্ত্রাসী করেন, পিছন দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করেন, দেশের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন তাহলে আপনাদেরকে ঘর থেকেই বের হতে দেওয়া হবে না।

সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে আলহাজ্ব মোঃ হুমায়ুন কবীর যুবলীগের নেতা-কর্মীদের প্রসংশা করে বলেন-এই করোনার মহামারিতে যখন অনেকে ঘরে বসে ছিলেন, করোনায় মৃত ব্যক্তির দাফন/সৎকার করার লোক ছিল না, তখন যুবলীগের নেতা-কর্মীরা নিজেদের জীবনের মায়া ত্যাগ করে তাদের দাফন/কাফন করেছে। ফ্রি-অ্যাম্বুলেন্স সেবা দিয়েছে, তারা সত্যিকারের মানবতার পরিচয় দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন-বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর এই বাংলার মাটিতে যেন সেই হত্যার বিচার না হয় সে জন্য তিনি ইনডেমনিটি আইন করেছিলেন। শুধু তাই নয় বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা যেন দেশে আসতে না পারে সেজন্য নানা ধরণের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালের ১৭ মে সকল রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে এই বাংলার মাটিতে ফিরে এসেছিলেন। যার ফলে এদেশের মানুষ আজ অধিকার ফিরে পেয়েছে। গণতন্ত্র ফিরে পেয়েছে।

সঞ্চালকের বক্তব্যে যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ মাইনুল হোসেন খান নিখিল বলেন-খেটে খাওয়া মানুষের নেত্রী, গণতন্ত্রের মানসকন্যা রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা স্বদেশে ফিরে এসেছিলেন বলেই আমরা অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হয়েছি, বাঙালি জাতি বিশ্বের বুকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন-যারা কথায় কথায় সরকার পতনের কথা বলে সরকারকে হুমকি দেয় তাদেরকে বলতে চাই শুধু ঢাকার শহর নয় সারা বাংলাদেশের কোথাও বিএনপি-জামাতকে মাঠে নামতে দিবে না যুবলীগের নেতা-কর্মীরা।

এসময় যুবলীগের কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতাসহ কয়েক শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

আআ/ইএফ