Amar Sangbad
ঢাকা রবিবার, ১৯ মে, ২০২৪,

গণতন্ত্র সম্মেলনে দাওয়াত না পাওয়া দুঃখজনক: মির্জা ফখরুল

মো. মাসুম বিল্লাহ

ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৩, ০৪:৪৩ পিএম


গণতন্ত্র সম্মেলনে দাওয়াত না পাওয়া দুঃখজনক: মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আজকে বাংলাদেশ গণতন্ত্র সম্মেলনের দাওয়াত পাচ্ছে না। এটা আমাদের জন্য দুঃখজনক। এই সরকার বাংলাদেশের গণতন্ত্রের সবকিছু ধ্বংস করে দিয়েছে। আজকে বলতে দ্বিধা নাই আওয়ামী লীগ একটি সন্ত্রাসী দল। সেটা এখন পুরো বিশ্বের কাছে প্রমাণিত হয়েছে। আমাদের সোজা কথা এ সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে আমরা আর যাব না।

শুক্রবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে গোপীবাগে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচি পূর্বক বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন ।

ফখরুল বলেন,আমরা পায়ে হেঁটে পথযাত্রায় মানুষকে বার্তা দিয়ে যাব । আর সময় নেই রাজপথে নেমে আসতে হবে।  অনেক হয়েছে এই সরকার বিনা ভোট মানুষের উপর নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন চালের দাম বাড়ছে ডিম কিনেও খেতে পারছে না। নিত্যপণ্যের জিনিসের দাম বেড়ে গেছে। কোথাও কোনো শান্তি নেই । দেশের জনগণ গরিব হচ্ছে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা ধনী হচ্ছে। এই সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করেছে র্যাবকে ব্যবহার করেছিল তাদেরকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এখন তারা পুলিশকে ব্যবহার করছে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের আন্দোলনের দশজন নেতাকর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। রাত হলে পুলিশ পাড়া পাড়ায় আমাদের নেতাকর্মীদের আটক করছে। তবুও তারা আমাদের ধমাতে পারছে না। কারণ বিএনপি ক্ষমতা যাওয়ার রাজনীতি করছে না জনগণের অধিকার আদায়ের রাজনীতি করছে না।

মির্জা ফখরুল বলেন,আওয়ামী লীগ এখন আমাদের আন্দোলনকে ভয় পায়। এখনো সময় আছে সরে যান। এ সরকারের পদত্যাগের দাবি এখন সারা বাংলাদেশের ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনের সব সময় দেশের জনগণ জয়ী হয়েছে এবারও জয়ী হবে।

তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে এ সংবিধান দিয়ে দেশ পরিচালিত হতে পারে না। আমাদের ২৭ দফায় বলেছি এর সংবিধান সংশোধনের কথা। সকল মানুষের অংশগ্রহণের নির্বাচনের জন্য আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথা বলেছি। চোরের একটা সীমা আছে এ সরকারের সব কিছু ছাড়িয়ে গেছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আজকে আন্দোলন একটি পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। আমরা গত কয়েক মাস ধরে রাস্তায় আন্দোলন করছি। বাংলাদেশের মানুষ তীব্র আন্দোলনের মাধ্যমে এই ফ্যাসিস্ট সরকারকে বিদায়। করতে হবে।

তিনি আরো বলেন,বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলো ঢাকায় এসে বার্তা দিয়ে যাচ্ছে। তারা গণতন্ত্রের অধিকারের কথা বলে যাচ্ছে না। তারা বাংলাদেশকে স্নকৃতি দিচ্ছে না। বাংলাদেশ আজ গণতন্ত্র সম্মলেনে যাওয়ার সুযোগ দিচ্ছে না। তাই আমাদের রাস্তায় সিদ্ধান্ত হবে ।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আমার আপনার জনগণের কথা এক এই সরকারের পদত্যাগ। আমরা এ সরকারের অধীনে নির্বাচন করব না। কারো ভোট কাউকে দিতে দেবো না। সরকার যদি জনগণের শক্তিকে বিশ্বাস করে তাহলে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দেবে। আমরা জোর করে ক্ষমতায় আসতে চাই না। গণতান্ত্রিক উপায়ে একটা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা যেতে চাই। আমাদের দাবি এবং জনগণ দাবি এক আমাদের দাবির সাথে জনগণের দাবির কোন অমিল নেই। জনগণের দাবির কাছে কোন ফ্যাসিবাদে শক্তি টিকে থাকতে পারে না। এ সরকার দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়ে শেষ প্রান্তে নিয়ে গেছে। আজকে ব্যবসারে ব্যবসা করতে পারছে না ব্যাংক টাকা দিচ্ছে না। ব্যাংকের সব টাকা শেখ হাসিনা ও তার অনুগত ব্যক্তিদের কাছে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম বলেন, আওয়ামী লীগ মাঝে মাঝে বিএনপিকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করে। এখন আবার শুরু হয়েছে পুলিশের বাণিজ্য। প্রতিটি প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে তা শুরু হয়েছে। মনে রাখবেন অতীতে শেখ হাসিনার নির্দেশে কাজ করে র্যাবের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আসে। আসা করি পুলিশ মনে রাখবেন। আসামি হাসিনা হয়নি র্যাব হয়েছে। এবার নিষেধাজ্ঞা পুলিশ ও খাবে। সরকারের বিদায় পর্যন্ত বিএনপি ঘরে ফিরে যাব না । ওবায়দুল কাদের অনেক কথাই বলেন,তিনি ভুয়া,ভুয়া, ভুয়া।এই সরকার ভুয়া। জোর করে এই সরকার আবারও সপ্ন দেখছে এটি সফল হবে না। আমাদের পদযাত্রা যদি কেউ থামাতে আসে তাহলে চাপা পড়ে মারা যাবে। আওয়ামী লীগ শান্তির সমাবেশের কথা বলে আমাদের সমাবেশে হামলা করে। পুলিশকে বলবো তাদেরকে থামান।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, আমরা অতীতে অনেক বক্তব্য দিয়েছি অনেক সমাবেশ করেছি কিন্তু এই সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হচ্ছে না। এই পদ যাত্রার মাধ্যমে আমরা দেশের মানুষকে জানিয়ে দিতে চাই বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আন্দোলন করছে না। বিএনপির রাজপথে মিছিল করছে আন্দোলন করছে জনগণের অধিকারের জন্য।

প্রতিবেশী দেশের সাথে সরকার আঁতাত করে একটা দেশকে ধ্বংসের প্রান্তে নিয়ে গেছে। তার উদাহরণ আদানি গ্রুপ। তারা কিছু দিক বা না দিক তাদের কোটি কোটি টাকা দিয়ে দিতে হবে। এ সরকার থাকা অবস্থায় মানুষের মুক্তি মিলবে না। এজন্য চাই খালেদা জিয়ার মুক্তি ,তারেক রহমানের দেশে ফিরে আসা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন। এবার আমরা অন্য কোন সরকারের অধীনে নির্বাচন করব না। একটা দেশ এসে বলে গেল আমলীগকে সমর্থন দেবে। তাদেরকে বলব আওয়ামী লীগকে নয় দেশের জনককে সমর্থন দেন।

এবি

Link copied!