ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬
ব্যারিস্টার ফুয়াদ

বাহাত্তরের সংবিধান কাঠামোগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ

আবু তাহের 

আবু তাহের 

এপ্রিল ২, ২০২৬, ০১:৩৪ পিএম

বাহাত্তরের সংবিধান কাঠামোগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ
ফাইল ছবি

১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়নের প্রক্রিয়া, এর কাঠামো এবং বিষয়বস্তু তিন ক্ষেত্রেই গুরুতর সংকট রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তিনি বলেন, এই সংবিধান জনগণের সরাসরি ম্যান্ডেট ছাড়াই প্রণয়ন করা হয়েছিল, যা এর বৈধতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন তৈরি করে আসছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত “গণঅভ্যুত্থানের আলোকে জনরায় বাস্তবায়নে গড়িমসি: সরকারের দায় ও জবাবদিহিতা” শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিলের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে একটি স্বাধীন, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্পষ্ট অঙ্গীকার ছিল। যেখানে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারকে রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু স্বাধীনতার পর যে সংবিধান প্রণয়ন করা হয়, তার সঙ্গে সেই ঘোষণাপত্রের চেতনার উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় লাখো মানুষ যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে যুদ্ধ করেছে, স্বাধীনতার পর তারা সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন কতটুকু পেয়েছে সেটাই আজ মূল প্রশ্ন।

সংবিধানের কাঠামোগত সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়নকারী গণপরিষদের সদস্যরা মূলত ১৯৭০ সালের পাকিস্তানের নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধি ছিলেন। তাদের নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল পাকিস্তানের সংবিধান ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা। সেই প্রেক্ষাপটে তারা নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের জন্য কতটা উপযুক্ত ছিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, নতুন রাষ্ট্রের জন্য আলাদা গণপরিষদ নির্বাচন আয়োজন করা যেত অথবা সংবিধানের খসড়া জনগণের অনুমোদনের জন্য গণভোটে দেওয়া যেত। কিন্তু এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, সংবিধান প্রণয়ন কমিটির রিপোর্ট ১৯৭২ সালের নভেম্বর মাসে জমা দেওয়ার পরও জনগণের মতামত নেওয়ার সুযোগ ছিল। এমনকি ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও সংবিধানের পক্ষে আলাদা গণসমর্থন নেওয়া যেত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, “যে সংবিধানের পক্ষে জনগণের সরাসরি ম্যান্ডেট নেওয়া হয়নি, সেটিকে জনগণের সংবিধান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।”

সংবিধানের বিষয়বস্তুর সমালোচনা করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে তিনটি মূলনীতির কথা বলা হলেও ১৯৭২ সালের সংবিধানে চারটি রাষ্ট্রীয় মূলনীতি যুক্ত করা হয়, যা জনগণের কাছে পূর্বপরিচিত ছিল না।

তার মতে, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রকে একসাথে রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে নির্ধারণ করা সে সময়ের বাস্তবতায় সাংঘর্ষিক ছিল। একই সঙ্গে জাতিগত পরিচয়ের প্রশ্নেও সংবিধানের কিছু বিষয় নিয়ে তিনি আপত্তি জানান।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পরবর্তী রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ, বিশেষ করে ১৯৭৫ সালের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে একদলীয় শাসনব্যবস্থা চালু করা এবং রাজনৈতিক দলসমূহের কার্যক্রম সীমিত করার বিষয়গুলোও মুক্তিযুদ্ধের গণতান্ত্রিক চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল বলে তিনি মনে করেন।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, স্বাধীনতার পর বিভিন্ন নীতি ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে মানুষের মধ্যে যে বঞ্চনা ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তা সময়ের সঙ্গে পুঞ্জীভূত হয়েছে এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যেও এর প্রভাব পড়েছে।

তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের সময় যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্র পরিচালনায় যে বাস্তবতা দেখা গেছে এই ব্যবধান থেকেই অনেক প্রশ্ন ও অসন্তোষের জন্ম হয়েছে।”

সেমিনারে অন্যান্য বক্তারাও দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতন্ত্র, নির্বাচন ব্যবস্থা এবং জনগণের প্রত্যাশা নিয়ে আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে ছাত্রনেতা, আইনজীবী, গবেষক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

এএন

Link copied!