ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ইমাম নির্বাচন: যোগ্যতা, নৈতিকতা ও শরীয়তের বিধান

আমার সংবাদ ধর্ম ডেস্ক

আমার সংবাদ ধর্ম ডেস্ক

ডিসেম্বর ৮, ২০২৫, ০৪:২০ পিএম

ইমাম নির্বাচন: যোগ্যতা, নৈতিকতা ও শরীয়তের বিধান

ইসলামে ইমামত একটি মর্যাদাপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। মসজিদে জামায়াত পরিচালনা থেকে শুরু করে সমাজের ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিক দিকনির্দেশনা ও আদর্শিক নেতৃত্ব, সবকিছুতেই ইমামের ভূমিকা অপরিসীম। তাই শরীয়ত ইমাম নির্বাচনে কিছু স্পষ্ট শর্ত ও নীতিমালা নির্ধারণ করেছে। এসব বিধান মানা হলে মসজিদের শান্তি, শৃঙ্খলা এবং সমাজে ধর্মীয় অনুশাসন বজায় থাকে। 

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন এলাকায় মসজিদ পরিচালনা কমিটি নতুন করে গঠন হওয়ার ফলে ইমাম নির্বাচন ইস্যুতে সচেতনতা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞ আলেমরা বলছেন, ইমাম নির্বাচন ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় নয়, বরং শরীয়তের নির্ধারিত মানদণ্ড মেনে সিদ্ধান্ত নেওয়া আবশ্যক।

ইমাম মানে নেতা, যিনি সামনে দাঁড়িয়ে নামাজ পরিচালনা করেন এবং মুসল্লিদের ধর্মীয় আচরণে পথ দেখান। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমাদের কেউ কুরআন তিলাওয়াতে দক্ষ হলে সে ইমাম হবে। এই হাদিস ইমামতের মূল যোগ্যতার ওপর আলোকপাত করে। 

অর্থাৎ যার জ্ঞান বেশি, তার নেতৃত্বের অধিকার বেশি। শরীয়ত অনুযায়ী ইমাম নির্বাচন শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক কাজ নয়, এটি একটি ইবাদত। তাই এ ক্ষেত্রে সতর্কতা, ঈমানদারিত্ব ও জ্ঞানের মর্যাদা সর্বাধিক গুরুত্ব পায়।

ইসলামী শরীয়তে ইমাম নির্বাচনে কয়েকটি নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে। আলেমদের মতে কোন ব্যক্তিকে ইমাম হিসেবে মনোনীত করার আগে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো যাচাই করা জরুরি, কুরআন তিলাওয়াতে দক্ষতা। ইমামের জন্য সর্বপ্রথম শর্ত হলো সঠিকভাবে কুরআন তিলাওয়াত জানা। সহিহ উচ্চারণ তাজবিদ, সুরাহ কিরাত, আরবি শব্দের সঠিক মাখরাজ জানা অত্যন্ত জরুরি। 

কারণ ইমাম ভুল পড়লে পুরো জামায়াতের নামাজে বিঘ্ন ঘটে। সুন্নাহ ও ফিকহ বিষয়ে জ্ঞান। ইমামকে শুধু তিলাওয়াত জানা যথেষ্ট নয়, তার সুন্নাহ, নামাজের বিধান বিধি, অজু গোসলের মাসআলা, ইমামত ও মুকতাদির দায়িত্বসহ মৌলিক ফিকহ জানা আবশ্যক।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, ইমাম হলেন মসজিদের প্রশ্ন উত্তরের প্রথম ভরসাস্থল, যারা ধর্মীয় সিদ্ধান্ত দেন তাদের জ্ঞানভিত্তি সুদৃঢ় হওয়া চাই। নৈতিকতা ও চরিত্রে উত্তম হওয়া। শরীয়ত ইমামের নৈতিক মানকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। তাকে হতে হবে আমানতদার, সৎ, পরহেজগার, পাপাচার থেকে দূরে থাকা ব্যক্তি। সমাজে ইমামের চরিত্র অসচ্ছ হলে মসজিদের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হয়। 

প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ ও পুরুষ হওয়া। ইমাম অবশ্যই প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম পুরুষ হতে হবে। ছোট শিশু, উন্মাদ, মাদকাসক্ত বা ফাসেক অপরাধী ব্যক্তিকে ইমাম করা শরীয়তসম্মত নয়। উচ্চ নৈতিক অবস্থান ও জনসমর্থন। যদি কোনো মসজিদে একাধিক যোগ্য প্রার্থী থাকে, তবে যিনি বেশি জ্ঞানী, বেশি পরহেজগার এবং যার প্রতি মুসল্লিদের আস্থা বেশি, তাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

মসজিদ সাধারণত পরিচালনা কমিটির অধীনে চলে। তবে ইমাম নিয়োগে শরীয়ত নির্দেশ দেয়, সিদ্ধান্ত আলেমদের পরামর্শ ও কুরআন সুন্নাহর মানদণ্ড অনুযায়ী হবে। ব্যক্তি বা দলের পক্ষপাতিত্ব চলবে না। গ্রাম বা এলাকার যে ব্যক্তিকে অধিকাংশ মুসল্লি যোগ্য বলে মনে করেন, তাকে মনোনীত করা। কোন ব্যক্তি জোরপূর্বক, দলীয় শক্তি বা অর্থের মাধ্যমে ইমাম হতে পারবেন না। ইসলাম নিষ্ঠা, যোগ্যতা ও নৈতিকতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে।

যদি কোনো ইমাম শরীয়তবিরোধী কাজ করেন, যেমন ইচ্ছাকৃতভাবে কুরআনের ভুল তিলাওয়াত, সুন্নাহবিরোধী আচরণ, অনৈতিক লেনদেন, ধর্মীয় বিষয় বিকৃত করা, তবে তদন্তের পর তাকে অপসারণ করা যায়। তবে ব্যক্তিগত শত্রুতা বা সামান্য মতানৈক্যের ভিত্তিতে ইমাম অপসারণ করা নিষেধ। শরীয়ত নির্দেশ দেয়, সিদ্ধান্ত স্বচ্ছ হতে হবে। কমিটিতে আলেমের উপস্থিতি থাকা উচিত। অপসারণের পূর্বে ইমামকে ব্যাখ্যার সুযোগ দিতে হবে।

বিশেষজ্ঞ আলেমরা বলেন, ইমাম নির্বাচনকে প্রশাসনিক বিষয় নয়, ধর্মীয় দায়িত্ব হিসেবে দেখা জরুরি। তাই মসজিদ কমিটির করণীয়, যোগ্যতা যাচাই করে নিয়োগ করা। ইমামকে যথাযথ সম্মান প্রদান। নিয়মিত বেতন ও সম্মানী নিশ্চিত করা। মসজিদের পরিবেশকে ইবাদত উপযোগী রাখা। ধর্মীয় শিক্ষা কার্যক্রমে ইমামকে সহযোগিতা করা।

ইমামের কাজ শুধু নামাজ পরিচালনাই নয়। তার দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে, মুসল্লিদের ধর্মীয় শিক্ষা প্রদান। শিশু কিশোরদের কুরআন ও ইসলামি নীতি শেখানো। জুমা ও ওয়াজে ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা। সমাজে নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা। বিবাহ, জানাজা ও দোয়া পরিচালনা করা। বিবাদ মীমাংসায় শরীয়তসম্মত পরামর্শ প্রদান। 

একজন দক্ষ ইমামের নেতৃত্বে একটি সমাজ আলোকিত হতে পারে। ইমাম নির্বাচন একটি গুরুতর বিষয়, যা ব্যক্তিগত পছন্দ অপছন্দের ঊর্ধ্বে। শরীয়তের নির্দেশ অনুযায়ী যোগ্য, নৈতিক, পরহেজগার ও জ্ঞানবান ব্যক্তিকেই ইমাম হিসেবে মনোনীত করা ইসলামের শিক্ষা। 

একটি সমাজে মসজিদ হলো শান্তির কেন্দ্র, আর ইমাম সেই কেন্দ্রের প্রধান নেতৃত্ব। তাই সঠিক ইমাম নির্বাচন করলে সমাজে নৈতিকতা, ঐক্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠা পায়, ভুল নির্বাচন হলে সৃষ্টি হয় বিভেদ ও অসন্তোষ। এজন্য প্রত্যেক মসজিদ কমিটি, মুসল্লি ও সমাজের মানুষের উচিত শরীয়তের বিধান মেনে ইমাম নির্বাচন করা এবং ইসলামের আদর্শ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকা।

জেএইচআর

Link copied!