Amar Sangbad
ঢাকা মঙ্গলবার, ১৭ মে, ২০২২, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

বিএনপির সংলাপের প্রস্তুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

মে ৯, ২০২২, ০১:১১ এএম


বিএনপির সংলাপের প্রস্তুতি

হাইকমান্ডের নির্দেশে আঁকা হচ্ছে সংলাপের রোডম্যাপ থাকবে সব দল সংসদ ভেঙে দেয়া, রাজবন্দিদের মুক্তিসহ ১৩-১৪টি দাবি থাকছে সংলাপে ভালো ফল দেখলে আন্দোলন কর্মসূচির ব্যাপারেও ছাড় দেয়া হবে সংলাপ ইস্যুতে খালেদার মুক্তি আন্দোলনের ছকও বাদ পড়তে পারে সংলাপ নয় রাজপথেই সব দাবি আদায় চায় তৃণমূলের বড় অংশ

ভোটে যেতে পুরোনো রূপে সংলাপের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। জামায়াতকে বাদ দিয়ে ডান-বাম সব দলের নেতাদের নিয়ে সংলাপে বসতে আগাম খসড়া তৈরি করা হচ্ছে। সরকারের পদত্যাগ ছাড়া মুখেমুখে নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা থাকলেও বেলাশেষে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দলীয় সব ধরনের প্রস্তুতি তৈরি করে রাখছে। 

দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশে আঁকা হচ্ছে সংলাপের রোডম্যাপ। একাদশ সংসদ নির্বাচনেও খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে বিএনপি সংলাপ ও নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু ড. কামাল হোসেনকে সাথে নিয়ে গণভবনে শেখ হাসিনার সাথে সাড়ে তিন ঘণ্টা সংলাপ করে দলটি। বিএনপির রাজনৈতিক ডিগবাজি দেখে তখন তৃণমূল নেতারাও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। 

সংলাপে শেখ হাসিনার আশ্বাসে আলোচনার টেবিল থেকে এসে ড. কামাল হোসেন বলেছিলেন, ‘ভালো আলোচনা হয়েছে, আলোচনা ফলপ্রসূ হবে এবং জনগণের প্রত্যাশায় নির্বাচন হবে।’ ড. কামালের এই বক্তব্যে তখন বিএনপির রাজনৈতিক মাঠে অনেক প্রভাব পড়ে। সামনে থেকে যারা ভূমিকা পালন করার প্রস্তুতি রেখেছিল তারা চুপ হয়ে যায়।

এবারো অতীতের মতো পুরোনো রূপে সংলাপে বসতে বিএনপির ঘরে প্রস্তুতি চলছে। তবে সংলাপ ইস্যু নিয়ে বিএনপিতে এখন থেকেই সন্তোষ-অসন্তোষের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। দলের বড় অংশই চাচ্ছে কোনো সংলাপ নয় রাজপথেই সব দাবি আদায় করতে। 

দলটির নির্ভরযোগ্য সূত্রের ভাষ্য, সংলাপে যদি ভালো ফলাফলের ইঙ্গিত থাকে তাহলে আন্দোলন এবং কর্মসূচির ব্যাপারেও বিএনপিও ছাড় দেবে। সরকারকে চাপে রাখার জন্য পূর্বপরিপকল্পিত যে কর্মসূচি থাকবে তা থেকেও পিছু হটবে। নির্বাচন ইস্যুতে খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন নিয়ে যে ছক আছে তাও বাদ দিয়ে দেবে দলটি। 

আগামী জাতীয় নির্বাচনে যেকোনো উপায়ে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান নিশ্চিত করতে যেকোনো পথকে গ্রহণ করতে প্রস্তুত রয়েছে দলটি। দলটির হাইকমান্ডের কাছে এ নিয়ে রয়েছে লন্ডন বার্তাও। তারেকপন্থিদের বড় অংশই শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতার আসনের দিকে নজর রেখেছে বলে দলটির একাংশের দাবি। 

বিএনপির সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছেন, সংলাপের জন্য বিএনপি বেশ কিছু দাবি যুক্ত করছে। শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না। সরকারের পদত্যাগ নিশ্চিত করতে হবে। সংসদ ভেঙে দিয়ে একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ তৈরি করতে হবে। রাজনীতিতে প্রভাবশালী ও অভিজ্ঞ নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন, বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে থাকা মামলা প্রত্যাহার। 

সভা-সমাবেশের অনুমতি দিতে হবে, কোনো ধরনের বাধা দেয়া যাবে না। বন্দি নেতাদের দ্বাদশ নির্বাচনের আগেই মুক্তি দিতে হবে। বিশেষ করে সব রাজনৈতিক মামলা বিশেষ ক্ষমতাবলে প্রত্যাহার করতে হবে। সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, সাজা বাতিল করে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে, বিদেশ যেতে দিতে হবে নিঃশর্তভাবে। তারেক রহমান দেশে আসতে কোনো ধরনের বাধা দেয়া যাবে না।   

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এবার রমজানে ঢাকাসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় অর্ধশত ইফতার মাহফিলে ভার্চুয়ালি অংশ নেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রতিটি পোগ্রামেই তিনি নেতাকর্মীদের ভোটের মাঠে থাকার প্রস্তুতি কথা বলেন। জনগণের অধিকার আদায়ে মাঠে থাকতে নির্দেশনা দেন। যেকোনো উপায়ে ভোটের ফলাফল ঘরে তুলতে নেতাকর্মীদের সব ধরনের প্রস্তুতির কথা বলেন। 

ঢাকা মহানগরের বিএপির এক নেতা জানান, আগামী নির্বাচনে ভোটের মাঠে থাকতে জনগণের দাবি আদায়ের জন্য অবশ্যই বিএনপির বার্তা থাকবে। বিএনপি ভোটের মাঠ ছাড়বে না। ভোটের প্রস্তুতি নিতে, মাঠে থাকতে তারেক রহমান ভার্চুয়ালি আলোচনায় তা জানিয়েছেন। তারেক রহমান মাঠপর্যায়ের নেতাদের যুগপৎ আন্দোলনে শামিল হতে বলেছেন।

নির্বাচনের আগ মুহূর্তে আবারো আলোচনা ও সংলাপের কথা শুনছেন জানিয়ে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘ভোট এলেই সংলাপের বিষয় আসে। আবারো সেগুলো শুনছি। তবে বিএনপি সংলাপে যাবে কি-না আর গেলেই বা কিভাবে যাবেন এটি তিনি জানেন না বলে জানান। জোটগত কিংবা ঐক্য নিয়ে বিএনপি সংলাপে বসলে সেখানে কোন বিষয়গুলো থাকবে তা আগেই স্পষ্ট করতে হবে।’

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমরা একটা যুগপৎ আন্দোলনের কথা বলছি। একটা ঐক্যের কথা বলেছি। সেই আলোকে আমরা একটা প্লাটফর্ম দাঁড় করানোর চেষ্টা করছি। আমরা আশা করছি সেখানে একটা বৃহৎ রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ থাকবে। সংলাপ কিংবা আলোচনা যেটিই বলি তার মাধ্যমে সমাধান আসবে। আমরা এবার আর তাড়াহুড়ো করব না। আমরা যা কিছুই করি তার আগ থেকেই প্রস্তুতি থাকবে। আশা করছি আন্দোলনের পথ ধরেই ঐক্য হবে। তার মাধ্যমে জনগণের দাবি আদায় হবে।’ 

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ বিষয়ে আমার সংবাদকে বলেন, ‘দেশের সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে যুগপৎ আন্দোলনে থাকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এবার নতুন একটা প্লাটফর্ম থাকবে। যেখানেই সবাই ঐক্যমত থাকবে। আন্দোলনের পাশাপাশি আলোচনা কিংবা সংলাপের অংশও থাকতে পারে। আমরা আলোচনার পথটা তৈরি করতে চাই আপাতত। যে সব রাজনৈতিক দলগুলো রাজপথে ভূমিকা পালন করে তাদের যুক্তির দাবি থাকতে আমরা সবাইকে স্বাগত জানাব।’