ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

১ লাখ টাকা ভাতার নিশ্চয়তায় নতুন যুদ্ধের প্রস্তুতি অ্যাথলেটদের

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ক্রীড়া প্রতিবেদক

মার্চ ৩০, ২০২৬, ০৪:৪০ পিএম

১ লাখ টাকা ভাতার নিশ্চয়তায় নতুন যুদ্ধের প্রস্তুতি অ্যাথলেটদের
আজ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ক্রীড়াবিদদের ক্রীড়া কার্ড ও ক্রীড়া ভাতা তুলে দেওয়া হয়। ছবি: পিএমও

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন এখন আর কেবল মাঠের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই; এই লড়াই এখন অস্তিত্বের এবং পেশাদারিত্বের। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে আজ থেকে শুরু হওয়া ১ লাখ টাকার মাসিক ভাতা কার্যক্রম দেশের ১২৯ জন শীর্ষ ক্রীড়াবিদকে দিয়েছে এক অনন্য আর্থিক সুরক্ষা। এই উদ্যোগের ফলে খেলোয়াড়দের মধ্যে যেমন স্বস্তি ফিরেছে, তেমনি তৈরি হয়েছে এক সুস্থ ও কঠিন প্রতিযোগিতার আবহ। খেলোয়াড়রা বলছেন, এখন লড়াইটা হবে নিজেদের মধ্যে, টিকে থাকার আর নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার।

সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) আয়োজিত অনুষ্ঠানে ১২৯ জন ক্রীড়াবিদকে বিশেষ ‘ক্রীড়া কার্ড’ ও ভাতার চেক তুলে দেন সরকারপ্রধান। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এটি কেবল শুরু। এপ্রিল মাস থেকে পর্যায়ক্রমে ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে এই নিয়মিত বেতনকাঠামোর আওতায় নিয়ে আসা হবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গত এক বছরে যারা দেশের জন্য গৌরব বয়ে এনেছেন, তাদের আলাদাভাবে আর্থিক পুরস্কারে ভূষিত করেন প্রধানমন্ত্রী।

সরকারের এই পদক্ষেপে সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছেন মাঠের সেনানীরা। ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে টেবিল টেনিসে রুপাজয়ী খই খই সাই মারমার মতে, এই ভাতা কেবল টাকা নয়, এটি একটি চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, এখন নিজেদের মধ্যেই প্রতিযোগিতা বাড়বে। যারা তালিকায় আছি, তাদের পারফরম্যান্স ধরে রাখার চাপ থাকবে। আবার যারা বাইরে আছে, তারা চাইবে ভালো খেলে এই ভাতার আওতায় আসতে। এই লড়াইটা আমাদের উন্নতির জন্য ইতিবাচক।

সাবেক দ্রুততম মানব মোহাম্মদ ইসমাইল তুলে ধরেন অ্যাথলেটদের যাপিত জীবনের কঠিন বাস্তবতার কথা। তিনি বলেন, একজন অ্যাথলেটের ফিটনেস আর পুষ্টির পেছনেই মাসে অন্তত ৩০-৪০ হাজার টাকা লাগে। আগে আমাদের সবসময় টাকার দুশ্চিন্তা করতে হতো। এখন সেই চিন্তা দূর হলো। এখন আর অভাবের কারণে কাউকে খেলা ছাড়তে হবে না; সবার লক্ষ্য থাকবে শুধু মাঠের পারফরম্যান্স।

আর্চারিতে সোনাজয়ী হিমু বাছাড় মনে করেন, এই বেতন কাঠামো নতুন প্রজন্মের কাছে খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে জনপ্রিয় করবে। তিনি বলেন, ভবিষ্যত যেখানে নেই, সেখানে কেউ আসতে চায় না। এখন যেহেতু ভালো বেতনের নিশ্চয়তা আছে, পাইপলাইনে থাকা জুনিয়ররা আমাদের সঙ্গে পাল্লা দেবে। এতে সামগ্রিকভাবে দেশের খেলার মান বাড়বে।

একই প্রতিধ্বনি শোনা গেল জাতীয় ব্যাডমিন্টন তারকা আল-আমিন জুমার কণ্ঠেও। তিনি বলেন, আগে পরিবার থেকে খেলাধুলায় বাধা আসত আর্থিক অনিশ্চয়তার ভয়ে। এখন সেই দেয়াল ভেঙে যাবে। তরুণরা এখন ব্যাডমিন্টন বা অন্য খেলাকে ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে সাহস পাবে। তবে আমার জায়গা ধরে রাখা এখন আগের চেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিং হবে।

ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, ১ লাখ টাকার এই ভাতা খেলোয়াড়দের মানসিক চাপ অনেক কমিয়ে দেবে। সাধারণত বাংলাদেশের অ্যাথলেটরা ক্যারিয়ারের শুরুতেই পরিবারের ভরণপোষণ আর প্রশিক্ষণের খরচ নিয়ে দ্বন্দ্বে ভোগেন। এই ভাতার ফলে তারা এখন উন্নত ডায়েট, ব্যক্তিগত সরঞ্জাম এবং আধুনিক জিম সুবিধা নিশ্চিত করতে পারবেন। তবে এই অর্থ যাতে যথাযথভাবে কাজে লাগানো হয়, তার জন্য ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিবিড় তদারকি প্রয়োজন বলেও মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য

অনুষ্ঠানে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানান, সরকার ক্রীড়াবিদদের সামাজিক মর্যাদা ও আর্থিক সচ্ছলতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, আমরা চাই একজন খেলোয়াড় যখন মাঠে নামবেন, তখন যেন তাঁর মাথায় সংসারের অভাবের চিন্তা না থাকে। এই কার্ডের মাধ্যমে তাঁরা আরও বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা পাবেন।

আজকের এই দিনটি বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে একটি রেড-লেটার ডে বা স্মরণীয় দিন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সাহসী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ কেবল ১২৯ জন অ্যাথলেটের ভাগ্য বদলায়নি, বরং কয়েক হাজার উদীয়মান ক্রীড়াবিদের চোখে আগামীর স্বপ্ন এঁকে দিয়েছে। এখন সময় খেলোয়াড়দের; মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে এই আস্থার প্রতিদান দেওয়ার।

এএন

Link copied!