Amar Sangbad
ঢাকা বুধবার, ০৬ জুলাই, ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯

ফরিদপুরে দিনে দিনে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম, কয়েকদিনেই দ্বিগুণ 

এন কে বি নয়ন, ফরিদপুর

এন কে বি নয়ন, ফরিদপুর

মে ১৭, ২০২২, ০৫:২৭ পিএম


ফরিদপুরে দিনে দিনে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম, কয়েকদিনেই দ্বিগুণ 

ফরিদপুরে চলতি মৌসুমে পেঁয়াজের বেশ ভালো ফলন হয়েছে। মৌসুমের মাঝামাঝিতেও ন্যায্যদাম পাচ্ছিলেন না ফরিদপুরের পেঁয়াজ চাষিরা। পেঁয়াজ বিক্রি করে খরচের টাকা উঠাই দুষ্কর হয়ে পড়ে কৃষকদের। কিন্তু ফরিদপুরে হঠাৎ বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। জেলা উপজেলার বিভিন্ন হাটে-বাজারে দিনে দিনে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। এপ্রিল মাসের শেষ দিকেও কৃষকদের যে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হয় প্রতি মন ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়। সেই পেঁয়াজ মাত্র ১০ থেকে ১৫ দিনের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে প্রতি মন ১২০০ থেকে ১৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৬ থেকে ৩৭ টাকা। 

কৃষকদের ভাষ্য, পেঁয়াজ মৌসুমের শেষ দিক পর্যন্ত সংরক্ষণের জায়গার অভাব, শ্রমিকদের মজুরি ও সাংসারিক খরচ মেটাতে তাৎক্ষণিক কম দামে তাদের পেঁয়াজ বিক্রি করে ফেলতে হয়েছে। এই সময় তারা লাভবান হতে পারেন না। পরে দাম বাড়লেও এর সুফল পায় ফড়িয়া ও মধ্যস্বত্বভোগীরা। আমদানি বন্ধের কারনে ফরিদপুরে কয়েকদিনের ব্যবধানে পেঁয়াজ মন প্রতি ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। চলমান বাজার দর পেলেই মুটামুটি খুশি কৃষককূল। তবে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধের অজুহাতে সয়াবিন তেলের মতো পেঁয়াজের দর নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ও কারসাজির বিষয়ে এখনি প্রশাসনের কঠোর নজরদারি বাড়াতে মত দিয়েছেন সাধারণ কৃষকেরা।

জেলার বেশ কয়েকটি উপজেলার বিভিন্ন হাটে-বাজার ও দোকান ঘুরে দেখা গেছে, পাইকারি বাজারে প্রতি মন পেঁয়াজ ১২০০ ও ১২৬০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ গত কয়েকদিন আগেও এর দাম ছিল প্রতি মন সর্বোচ্চ ৮০০ টাকা। ভারত থেকে আমদানি বন্ধের কারনে হঠাৎ দাম বেড়েছে বলে ব্যবসায়ীদের দাবী।

ভাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা সোহাগ মাতুব্বর আমার সংবাদকে বলেন, প্রতিদিনই বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। হঠাৎ পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। কৃষকরা দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় পেঁয়াজ ছেড়ে দিচ্ছে। আর অসাধু ব্যবসায়ী, মধ্যস্বত্বভোগী ও অধিক মুনাফা লোভীরা এই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে। মজুতদারি করে সময় মতো কারসাজির মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অধিক মুনাফা লুটবে।

মধুখালী উপজেলার সদরের পাইকারি বাজারের বড় ব্যবসায়ী মোঃ আলম আমার সংবাদকে বলেন, ফরিদপুরে এবার পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে।কৃষকের ঘরে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ আছে। আমদানি বন্ধের কারন ছাড়াও সাধারণ কৃষকেরা বাজারে কম তুলছে যার কারনে কয়েকদিনের ব্যবধানে ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা প্রতি মন পেঁয়াজে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বর্তমানে বাজারটা ভালো আছে। কৃষকরা সরাসরি এই মূল্যটা পেয়ে বেশ খুশি আছে। তবে অন্যান্য বারের মতো এবার পেঁয়াজ নিয়ে কারসাজি করার সুযোগ নেই। 

এ ব্যাপারে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ফরিদপুরের সভাপতি শেখ ফয়েজ আহমেদ বলেন, সয়াবিন তেলের পর পেঁয়াজ নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা অবৈধ সিন্ডিকেট গড়ে তুলতে পারে। অবৈধভাবে মজুদ করে বাজারে অযথা যাতে দাম বাড়াতে না পারে সে জন্য প্রশাসনের কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে। এ ব্যপারে তিনি প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন। 

এ বিষয়ে জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সোহেল শেখ আমার সংবাদকে বলেন, পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ঠিক। অবৈধভাবে মজুদদারি, বাজারে সংকট সৃষ্টি করে অধিক মুনাফালোভি ব্যবসায়ীদের প্রতি আমাদের কঠোর নজরদারি রয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে প্রতিদিনই বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আমরা যথেষ্ট সজাগ রয়েছি। 

এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ রেজাউল করিম আমার সংবাদকে বলেন, পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেলেও কৃষক সরাসরি লাভবান হচ্ছেন। চলতি বাজার দরে বিশেষ করে কৃষক খুশি। তবে অসাধু ব্যবসায়ীদের ব্যপারে আমরা সজাগ রয়েছি। প্রতিদিনই আমাদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন হাটে-বাজারে মনিটরিং করা হচ্ছে। কোন প্রকার কারসাজি, অবৈধ ও অনিয়মের প্রমান পেলেই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ সব ক্ষেত্রে কোন প্রকার ছাড় নেই। 

এ বিষয়ে ফরিদপুরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ ড. হজরত আলী আমার সংবাদকে বলেন, এ বছর আবহাওয়া পেঁয়াজ চাষের জন্য ভালো ছিলো। ফরিদপুরে পেঁয়াজের উৎপাদন খুবই ভালো হয়েছে। এবার জেলায় পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪০ হাজার ৩৬০ হেক্টর। চলতি বছরে মোট ৪০ হাজার ৭৯ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। 

তিনি বলেন, বাজার দরের বিষয়টি আমাদের হাতে নেই। বর্তমানে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। 

আমারসংবাদ/কেএস