Amar Sangbad
ঢাকা বুধবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৪,

বড় ভাইয়ের হামলা-মামলায় নি:স্ব ছোট ভাই

মো. মামুন মিয়া, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

মো. মামুন মিয়া, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

অক্টোবর ১, ২০২২, ০৮:৫৩ পিএম


বড় ভাইয়ের হামলা-মামলায় নি:স্ব ছোট ভাই

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার রাজরা গ্রামের মেহেদী হাসান মিঠুর জমি দখলে নিতে একে একে সাতটি মামলা করেছে বড়ভাই আবুল হাসনাত রাসেল। শুধু একাধিক মামলাই নয়, বাড়িঘর ভাংচুর সহ একাধিকবার হামলার অভিযোগও করেন ভুক্তভোগী মিঠু।

বাড়িঘর ভাংচুর ও হামলার অভিযোগে হরিরামপুর থানায় একাধিক সাধারণ ডায়েরি ও লিখিত অভিযোগ করলেও পুলিশ অজানা কারণে এখনো কোন ব্যবস্থা নেয়নি বলে জানায় মিঠু ও তার স্ত্রী নার্গিস আক্তার।

মিঠু ও তার পরিবার জানায়, জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমান দুই ভাই। দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে দুই ভাইয়ের যৌথ প্রচেষ্টায় ঢাকার তুরাগ থানা ও নিউ মার্কেট এলাকায় আনুমানিক প্রায় ৫ কোটি টাকার সম্পত্তি ক্রয় করেন। এরপর ২০১৩ সালে তাদের পিতা মারা যাওয়ার পর বেড়িয়ে আসে বড় ভাই আবুল হাসনাত রাসেলের ভয়াবহ রূপ। সব সম্পত্তি একা দখলে নিতে ছোট ভাই মেহেদী হাসান মিঠুর নামে পর পর সাতটি মামলা করেছেন। এছাড়া মিঠুর একমাত্র আয়ের উৎস পৈত্রিক বাড়িতে ভাড়া দেওয়া ঘরটি গত ২৬ সেপ্টেম্বর তারিখে ভেঙ্গে দেয়। আগের দিন হরিরামপুর থানার এসআই মাসুদ ভাড়াটিয়াদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে চলে যেতে বলেন। পরদিন ৮/১০ জন সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোকের সহযোগিতায় ঘরটি ভেঙ্গে দেয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মিঠুর স্ত্রী নার্গিস আক্তার হরিরামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করলেও পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয়নি।

ভুক্তভোগী মিঠুর ভাবি নার্গিস আক্তারের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ সেপ্টেম্বর আনুমানিক সকাল ১০টায় আবুল হাসনাত রাসেল তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে এসে দিনে দুপুরে তার টিনের ঘর ভেঙ্গে দেয়। যার মূল্য আনুমানিক ২ লক্ষ টাকা। এছাড়া ঘরের ভেতরে থাকা ৩০ হাজার টাকা মূল্যের জিনিসপত্র ভেঙ্গে ফেলে। একইসাথে আরেকটি ঘরের পিছন সাইটের বেড়া ভেঙে একজোড়া কানের দুল ও একটি স্বর্ণের চেইন লুট করে নিয়ে যায়। যার মূল্য আনুমানিক এক লক্ষ ৪০ হাজার টাকা।

ভুক্তভোগী মেহেদী হাসান মিঠু কান্না জড়ানো কন্ঠে বলেন, আমার বড় ভাই সম্পত্তির লোভে আমাকে নিঃস্ব করে দিয়েছেন। হরিরামপুর থানার এস আই মাসুদের সহযোগিতায় সন্ত্রাসী বাহিনীসহ রাজার কলতা গ্রামের মিস্ত্রী আলাউদ্দিন, আব্দুল কাদেরের ছেলে আজাদ ও বিশাল মিয়ার ছেলে জাহিদুল ইসলামকে নিয়ে এসে আমার ঘরের ভাড়াটিয়াকে নামিয়ে দিয়ে ঘর ভেঙ্গে নিয়ে গেছে। আমি পুলিশের কাছে একাধিক অভিযোগ করলেও অজানা কারণে পুলিশ আমাকে কোন সহযোগিতা করছে না। আমি সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরার পর আমার বড় ভাই ষড়যন্ত্র করে আমার নামে ৭টি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দেয়। এখন আমি কি করবো কোথায় যাবো কিছু বুঝতে পারছি না।

অভিযুক্ত আবুল হাসনাত রাসেলের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এস আই মাসুদ রানা বলেন, আবুল হাসনাত রাসেল থানায় অভিযোগ করেন তার ভাড়াটিয়া বাসা ভাড়া দিচ্ছে না। আমার কাছে লিখিত অভিযোগ আছে। তবে ভারাটিয়াকে ভয় দেখানোর বিষয়টি সত্য নয়।

হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ মিজানুর রহমান বলেন, এরা দুই ভাই পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিচ্ছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এসএম

Link copied!