community-bank-bangladesh
Amar Sangbad
ঢাকা শনিবার, ২২ জুন, ২০২৪,

নাটোরে বড়শি দিয়ে মাছ ধরার উৎসব

বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি

বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি

মে ২৫, ২০২৪, ০৩:০৯ পিএম


নাটোরে বড়শি দিয়ে মাছ ধরার উৎসব

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় উৎসবমুখর পরিবেশে হয়ে গেল টিকিট কেটে পুকুরে ছিপ দিয়ে মাছ শিকারের উৎসব।

শুক্রবার উপজেলার দয়ারামপুর ইউনিয়নের হাটগোবিন্দপুর এলাকার ফজলুর রহমানের পুকুরে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে এই মাছ শিকারের উৎসব।

ওই এলাকায় দীর্ঘদিন পরে এ ধরনের আয়োজন হওয়ায় তা দেখতে পুকুর পাড়ে এসে ভিড় করেছিলেন স্থানীয় ও অন্যান্য এলাকার শিশুসহ নারী-পুরুষ।

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা, রাজশাহী, বগুড়া নওগাঁসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ২৬টি সিটে ৭৮ জন মাছ শিকারি বাহারী রঙের ছিপ দিয়ে মাছ শিকার করছেন। প্রতিটি সিট ১৫ হাজার টাকা হারে কিনেছেন তারা।

মাছ শিকার দেখতে আসা রাজশাহী চারঘাট এলাকার লালন ফিশিংজোনের স্বত্বাধীকার আসাদুজ্জামান লালন জানান, এই এলাকায় মৎস্য শিকারের কথা শুনে তিনিও মাছ শিকার দেখতে এসেছেন। এরকম মৎস্য শিকারের আয়োজন দেখে তিনি খুবই মুগ্ধ। তিনি তার নিজের পুকুরেও এমন আয়োজন করেন কিন্তু ফজলু সাহেবের আয়োজন তার কাছে অনেক ভালো লেগেছে।

সুদূর ঢাকার শান্তিনগর এলাকা থেকে মাছ শিকারে আসা ৪৭ বছরের আলাউদ্দিন আলী জানান, তিনি এই প্রথম আটজনের দল নিয়ে ঢাকার বাহিরে মাছ শিকার করতে এসেছিলেন।

তিনি বলেন, সুন্দর মনোরম পরিবেশে মাছ শিকার করেছেন এবং বেশ কিছু মাছও পেয়েছেন তারা। তারা যে মাছগুলো পেয়েছেন সেগুলোর ওজন ১ কেজি ৪শত গ্রাম থেকে ৫-৭ কেজি। তিনি নিজের ছিপেও ৩ থেকে ৪ কেজি ওজনের ওজনের রুই, কালবাবুস, মৃগেলসহ বেশ কয়েকটি মাছ ধরেছেন। এর আগেও তিনি অনেক জায়গায় মাছ শিকার করেছেন কিন্তু এরকম সুন্দর পরিবেশ কখনও দেখেননি। তিনি মালিক পক্ষকে এই আয়োজনে করার জন্য ধন্যবাদ জানান।

মাছ শিকার দেখতে আসা বাগাতিপাড়া পৌর এলাকার রাশেদুল কবির নান্নু বলেন, তিনিও একজন ছোটখাট মাছ শিকারি। কোথাও মাছ শিকার হলে ঘরে বসে থাকতে পারেনা না।

বাগাতিপাড়া উপজেলার মৎস্য শিকার প্রেমী আল মামুন জানান, তিনি দূর দূরান্তে মাছ শিকারে গিয়েছেন, তবে আজকের খেলাটা অনেক ভালো লেগেছে। আয়োজকদের আয়োজনটি অত্যন্ত ভালো ছিল। যে পরিমাণের টাকা দিয়ে টিকিট ক্রয় করেছেন তার চেয়ে বেশি মাছ পেয়েছেন। এত সুন্দর আয়োজন করার জন্য তিনি আয়োজককে ধন্যবাদ জানান।

দয়রামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুব ইসলাম মিঠু মাছ শিকার দেখতে এসে জানান, বাগাতিপাড়া ছোট উপজেলা তেমন কোন বড় পুকুর নেই এছাড়াও এই উপজেলা পুকুর কাটা সরকারিভাবে নিষেধ। তারপরও ছোট খাটো যে পুকুরগুলো রয়েছে সেগুলোতে অনেক দূর দুরন্ত থেকে মৎস্য শিকারে আসেন শিকারিরা। সেগুলো দেখতে আমাদের এলাকার অনেকেই আসেন, তিনিও এসেছিলেন কারণ বড়শি দিয়ে মাছ শিকার দেখতে তার অনেক ভালো লাগে।

পুকুর মালিক ফজলুর রহমান জানান, বিভিন্ন এলাকার মৎস্য শিকারিদের সাথে যোগাযোগ করে এবারই প্রথম টিকিটের মাধ্যমে মাছ ধরার আয়োজন করা হয়েছে। তার এই ৮ বিঘার পুকুরে রুই, কাতলা, মৃগেল, কালবাবুস মাছ আছে। সর্বোচ্চ ৯ কেজি ওজনের মাছ তার পুকুরে রয়েছে। অনেকেই বড় বড় মাছ পেয়েছেন। মৎস্যশিকারিরা তার পুকুরে এসে দারুণ খুশি। এক মাস পর পর এই আয়োজন করবেন বলে জানান তিনি।

ইএইচ

Link copied!