আরিফ হোসেন, বরিশাল
মার্চ ২৮, ২০২৬, ০৬:৫১ পিএম
ঈদ ও মহান স্বাধীনতা দিবসের ছুটি শেষ। তাই দক্ষিণাঞ্চলবাসী এবার কর্মস্থলমুখী, জনস্রোতে তিল ধারণের ঠাঁই নেই দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বরিশাল নদীবন্দরসহ দক্ষিণের সব নৌ ও বাস টার্মিনালগুলোতে।
বরিশাল নদীবন্দরের টার্মিনাল থেকে ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে টার্মিনাল ত্যাগ করছে ঢাকা-বরিশাল রুটের লঞ্চগুলো। তবে নৌযানে পরিস্থিতি সামলানো সম্ভব হচ্ছে না।
বৃহস্পতিবার থেকে বড় মাপের ১৪টি নৌযান অর্ধলাখের বেশি যাত্রী নিয়ে বরিশাল বন্দর ত্যাগ করেছে। শুক্রবারও ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী নিয়ে লঞ্চগুলো বরিশাল থেকে ছেড়ে গেছে এবং আজ শনিবার প্রচুর ভিড় রয়েছে লঞ্চ টার্মিনালে।
যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোববার সব অফিস ও আদালত ঈদের ছুটির পরে পুরো দমে খুলছে। তাই নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগ দিতে ঢাকামুখী হচ্ছে মানুষ।
জেলা প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএ ঝুঁকি এড়াতে যাত্রী বোঝাই নৌযানগুলোকে নির্ধারিত সময়ের আগেই টার্মিনাল ত্যাগে বাধ্য করছেন। তবে এসব কিছুর পরও রাষ্ট্রীয় নৌ বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের জন্য কোনো নিরাপদ স্টিমার সার্ভিসের ব্যবস্থা করতে পারেনি। ফলে দুর্ভোগ বেড়েছে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের।
বরিশালের মতো এ অঞ্চলের অন্য দুটি নদীবন্দরেও একই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। ঈদের টানা সাত দিনের ছুটি শেষে সরকারি-বেসরকারী দপ্তর সোমবার থেকে খুললেও তিন দিনের অতিরিক্ত ছুটির কারণে বেশিরভাগ শ্রমজীবী মানুষ ঢাকায় ফিরেননি। ফলে শুক্রবার থেকে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন, যার ফলে কোনো যানবাহনেই তিলের মতো জায়গা নেই।
অনুরূপ দৃশ্য বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালসহ এ অঞ্চলের সব বাস টার্মিনালেও দেখা গেছে। প্রতিদিন শুধু বরিশাল বাস টার্মিনাল থেকে প্রায় ৩০০-৫০০ যাত্রীবাহী বাস ঢাকায় যায়, তবে কাউন্টারে টিকেট পাওয়া যাচ্ছে না। উত্তবঙ্গমুখী অন্যান্য রুটের বাসেও টিকেট বিক্রি শেষ হয়ে গেছে।
শুধুমাত্র বিআরটিসি বরিশাল-ঢাকা সহ অন্যান্য রুটের কাউন্টারে দিনের টিকেট পাওয়া গেলেও খোলা আকাশের নিচে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে আছে নারী, পুরুষ ও শিশু যাত্রীরা।
পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের দাবি, শনিবার পর্যন্ত কর্মস্থলমুখী মূল জনস্রোত অব্যাহত থাকবে এবং আগামী সপ্তাহ জুড়েও পরিবহন সেক্টরে যাত্রী চাপ থাকবে। তবে বাড়তি যানবাহনে শ্রমজীবী ও কর্মজীবী মানুষের ভিড় সামলানো সম্ভব হচ্ছে না। এমনকি কোনো নৌযানে পা রাখার মত পরিস্থিতি নেই গত তিন দিন ধরে।
এএন