Amar Sangbad
ঢাকা রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১০ আশ্বিন ১৪২৯

নয়নাভিরাম বালিয়াতলীতে ভ্রমণ

খায়রুল বাশার আশিক

খায়রুল বাশার আশিক

আগস্ট ২২, ২০২২, ০৪:২১ পিএম


নয়নাভিরাম বালিয়াতলীতে ভ্রমণ

সৌন্দর্যের লীলাভূমি বালিয়াতলী। নয়নাভিরাম দৃশ্য মিলবে বরগুনা সদর উপজেলার নয় নম্বর এম বালিয়াতলী ইউনিয়নে। সুদীর্ঘ পায়রা, বিষখালী ও বলেশ্বর নদীর জলমোহনা যেখানে সমুদ্রে মিলেছে। এ প্রকৃতির পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে নান্দনিক সৌন্দর্য। সেখানে দূর পথ পাড়ি দিয়ে উন্মুক্ত বাতাস এসে জড়িয়ে ধরে। যেন বাতাসের ছন্দ মনের সঙ্গে পাঞ্জা ধরে। মন ও প্রকৃতি একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে, কে কাকে কতটা ভালোবাসতে পারে। এ যেন মনকে রঙিন সুতায় বেঁধে ঘুড়ির মতো উড়িয়ে দেওয়ার অনুভূতি।

নোনা জল আর কাদামাটি এখানে পরম যত্নে লালন করেছে হাজারো ছৌলা, কেওড়া, গেওয়া ও গরান গাছ। মানুষের পরিবারের মতোই, এ প্রকৃতি-পরিবারেও একটি মিল রয়েছে। দেখলে মনে হবে, কোনো অভিজ্ঞ বাবার মতো এখানের মাটি আটকে রাখছে সেই ম্যানগ্রোভ গাছগুলোকে। নিজ বুকের উপরে বাবা যেন সযত্নে বড় করে তুলছে সন্তানদের।

দেশের ৭১০ কিলোমিটার সমুদ্রের একটি অংশ বালিয়াতলী। উন্মুক্ত জলসীমায় গড়ে ওঠা এই প্রকৃতি রক্ষণাবেক্ষণ করছে বাংলাদেশ বন বিভাগ বরগুনা রেঞ্জ। এখানে রয়েছে চার হাজার হেক্টর বনভূমি। বন-নদীর অবাধ মিলনে সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বনাঞ্চল। বালিয়াতলীর মোহনা পর্যটন কেন্দ্র (স্থানীয় নাম ছুনবুনিয়া) থেকে নিশানবাড়িয়া পর্যন্ত সবটাই সৌন্দর্যে ঠাসা। এর মধ্যে গোড়া পদ্মা ও মোহনা পয়েন্টে সৃষ্টি হয়েছে পর্যটন সম্ভাবনা।


রয়েছে প্রাণ-প্রকৃতির অবাধ বিচরণ। জল ও স্থলে রয়েছে হরেক প্রাণীর বাস। পাখি, শৃগাল, শূকর, বেজি, কাঠবিড়ালি, গুইশাপ, কাকড়াসহ নানা প্রাণীর দেখা মিলবে এখানে। বনের মধ্য দিয়ে হেটে দক্ষিণের শেষ প্রান্তে এগোলেই চোখে পড়বে বিস্তীর্ণ জলরাশি। সেখানে দাঁড়ালে দেখা মিলবে সমুদ্রগামী অসংখ্য ট্রলার। এ জনপদের জেলেদের সমুদ্রে যাতায়াতের প্রবেশদ্বার এটি।

এ বনাঞ্চলের খুব কাছেই রয়েছে রাখাইনদের বসবাস। স্থানীয়দের ভাষায় সে জায়গার নাম ‘পাড়া’। বন ঘুরে ফেরার পথে অবশ্যই পর্যটকেরা দেখে আসতে পারবে রাখাইনদের এই বসতপাড়া।


যাতায়াত

ঢাকা থেকে বিকেল ৫টায় বরগুনার লঞ্চ ছেড়ে যায়। লঞ্চে জনপ্রতি ডেক ভাড়া ৩০০ টাকা। ডাবল কেবিন ২২০০ টাকা। সিঙ্গেল কেবিন ১২০০ টাকা। গাবতলী বা সায়েদাবাদ থেকে বাসে গেলে ভাড়া লাগবে জনপ্রতি ৫০০-৬০০ টাকা। সকাল ৮টার মধ্যে এসব লঞ্চ বা বাস বরগুনা পৌঁছাবে। সেখানে পৌঁছেই হোটেল নিন। ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে পড়ুন ভ্রমণে। বরগুনা প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে আটোরিকশা রিজার্ভ করে যাওয়া যাবে বালিয়াতলীর কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে। ছয় থেকে সাতজন যাওয়া যাবে একটি অটোতে। রিজার্ভ নিলে ভাড়া লাগবে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। জনপ্রতি হিসেবে লাগবে ৫০ থেকে ৬০ টাকা।


থাকা-খাওয়া ও প্রয়োজন

এই কেন্দ্রটি এখনও ভ্রমণ কেন্দ্র হিসেবে ততটা পরিচিত হয়ে ওঠেনি। তাই থাকার মতো কোনো হোটেল বা রিসোর্ট নেই বালিয়াতলীতে। ফলে আপনাকে থাকতে হবে বরগুনা শহরে আবাসিক হোটেল, ডাক বাংলো, এনজিও রেস্ট হাউসে। তবে ভ্রমণ কেন্দ্রে স্থানীয় ছোট ছোট রেস্টুরেন্ট ও স্থানীয়দের বাড়িতে পারিবারিক পরিবেশে অল্প টাকায় খাওয়ার ব্যবস্থা করে নিতে পারবেন। আর হ্যাঁ, এখানে স্থানীয় নদনদীর তাজা মাছ আর মোটা চালের ভাত খাবেন। আপনি তৃপ্তি পাবেন। রাত ৮টার মধ্যে বরগুনা শহরে চলে আসুন। এ শহরের আলাই পট্টির মিষ্টি ও রুটি খেতে ভুলবেন না যেন। বরগুনায় রাত কাটানোর পরদিন বিকেল ৩টার লঞ্চে বা ৭টার বাসে ফিরতে পারেন ঢাকা। তাই এই দিন দুপুর পর্যন্ত সময় কাটাতে পারেন ভ্রমণে। জলতরণীতে ঘুরতে পারেন খাকদোন নদীর বুকে। যেতে পারেন পাথরঘাটার হরিণঘাটাও।

আমারসংবাদ/আরইউ

Link copied!