আমার সংবাদ ডেস্ক
সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৫, ০৪:২৭ পিএম
মুখে খাওয়ার জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি বা ওরাল কন্ট্রাসেপ্টিভ পিল আজকের দিনে নারীর জন্মনিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতিগুলোর একটি। তবে এর ব্যবহার শুরু হয়েছে মাত্র এক শতাব্দীরও কম সময় আগে। ১৯৬০ সালের ৯ মে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA) প্রথমবারের মতো পিল ব্যবহারের অনুমোদন দেয়। এরপরের ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে এ পদ্ধতি শুধু জন্মনিয়ন্ত্রণ নয়, বরং গাইনোকলজি সংক্রান্ত নানা সমস্যার সমাধানেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এই বড়ি শুধুমাত্র নারীদের জন্য তৈরি।
এতে সাধারণত এস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন নামক হরমোন থাকে।
প্রধান কাজ হলো ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু নিঃসরণ (ওভুলেশন) বন্ধ রাখা এবং মাসিক চক্র নিয়ন্ত্রণ করা।
সঠিকভাবে নিয়মিত সেবন করলে এটি প্রায় ৯৯% কার্যকর।
কম্বাইন্ড ওরাল পিল (সবচেয়ে প্রচলিত, এস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন মিশ্রণ)
প্রোজেস্টেরন অনলি পিল বা মিনিপিল
ইমার্জেন্সি পিল (বিশেষ পরিস্থিতিতে ব্যবহার)
পিল খেলে মোটা হয়ে যায়?
গবেষণায় প্রমাণ মেলেনি। কিছু ক্ষেত্রে শরীরে জলীয় পদার্থ জমে সাময়িকভাবে ওজন বাড়তে পারে, তবে তা কয়েক মাস পর স্বাভাবিক হয়ে যায়। আধুনিক (তৃতীয় ও চতুর্থ প্রজন্মের) পিলে এ সমস্যা প্রায় নেই বললেই চলে।
মুড সুইং হয়?
কিছু নারীর ক্ষেত্রে মেজাজ পরিবর্তনের প্রবণতা দেখা দেয়। কারণ, পিল মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস-এ প্রভাব ফেলতে পারে। তবে বর্তমানে স্বল্পমাত্রার পিলে এ প্রভাব অনেক কম।
পিরিয়ড অনিয়মিত হবে?
বাস্তবে উল্টো— অনেক সময় অনিয়মিত বা অতিরিক্ত রক্তস্রাব, তলপেটে ব্যথা, এন্ডোমেট্রিওসিস, সিস্ট ইত্যাদির চিকিৎসায় পিল ব্যবহার করা হয়। তবে দীর্ঘদিন একটানা সেবনের পরিবর্তে বিরতি দিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।
সন্তান জন্মদানের সক্ষমতা কমে যায়?
ভুল ধারণা। পিল বন্ধ করার পর সাময়িকভাবে পিরিয়ড দেরি হতে পারে, কিন্তু প্রজনন ক্ষমতা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
সাধারণ পিল: নিয়মিত সেবন করা হয়, যৌনসম্পর্ক হোক বা না হোক।
ইমার্জেন্সি পিল: অরক্ষিত যৌনমিলন বা বিশেষ পরিস্থিতিতে গর্ভধারণ ঠেকাতে ব্যবহৃত হয়। সাধারণত ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সেবন করতে হয়।
৪০ বছরের বেশি বয়সী নারী
অনিয়মিত যোনিপথে রক্তক্ষরণ
উচ্চ কোলেস্টেরল, রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ
স্তন ক্যানসার, লিভারের জটিলতা, জন্ডিস, হৃদরোগ বা স্ট্রোকের ইতিহাস থাকলে
বড় কোনো অস্ত্রোপচারের আগে
জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি শুধু গর্ভনিরোধ নয়, বরং নারীর নানা স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধানেও কার্যকর। তবে এটি সঠিকভাবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে ব্যবহার করা জরুরি। ভুল ধারণার চেয়ে বৈজ্ঞানিক তথ্য ও চিকিৎসকের নির্দেশনাই হওয়া উচিত আসল ভরসা।