ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

উগ্র রাজনীতির নতুন সমীকরণ

রাজীন আহমেদ পঙ্কজ

রাজীন আহমেদ পঙ্কজ

মার্চ ১৮, ২০২৬, ০৩:২৮ পিএম

উগ্র রাজনীতির নতুন সমীকরণ

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। কিন্তু একটি প্রশ্ন আজও রয়ে গেছে-রাষ্ট্র কি সত্যিই বদলেছে, নাকি শুধু ক্ষমতার চেয়ার বদলেছে?

কারণ বাস্তবতা হলো, ধর্ষণ, নারী নির্যাতন ও বিচারহীনতার ভয়াবহতা থামেনি। বরং সাম্প্রতিক সময়ের বহু ঘটনায় রাজনৈতিক প্রভাব, দলীয় পরিচয় এবং ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হলো-এই অভিযোগগুলোর অনেকগুলোতেই বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নাম এসেছে সংবাদমাধ্যম, মামলা ও মানবাধিকার প্রতিবেদনে।

Human Rights Support Society (HRSS)-এর ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়, বছরে অন্তত ৮২৮টি ধর্ষণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৪৭৪ জন শিশু। একই প্রতিবেদনে রাজনৈতিক সহিংসতা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে নারী নিরাপত্তাহীনতার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

কিন্তু শুধু পরিসংখ্যান নয়মসংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত নির্দিষ্ট ঘটনাগুলো আরও ভয়ংকর বাস্তবতা তুলে ধরে।

নোয়াখালীতে সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতা আবদুল কাদের “সালিশ” বসিয়ে অভিযুক্তকে মাত্র ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও বেত্রাঘাতের মাধ্যমে “মীমাংসা” করার চেষ্টা করেন বলে The Daily Star রিপোর্ট করে। পরে ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় মামলা করে।

লালমনিরহাটে বিএনপি নেতা গোলাম কিবরিয়া রিপন এক এনজিও কর্মীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার হন। পরে দল তাকে বহিষ্কার করে। কিন্তু প্রশ্ন হলো- অভিযোগ ওঠার আগে পর্যন্ত তিনি রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে কীভাবে অবস্থান ধরে রেখেছিলেন?

খাগড়াছড়িতে এক আদিবাসী হিন্দু কিশোরীকে গণধর্ষণের ঘটনায় বিএনপি-ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশিত হয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে।

কুমিল্লার মুরাদনগরে হিন্দু নারী ধর্ষণের ঘটনাকে ঘিরেও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়। বিএনপি “ষড়যন্ত্র”র অভিযোগ তুললেও, প্রশ্ন থেকে যায় কেন ধর্ষণের ঘটনার পরও ভুক্তভোগীর বিচার নিশ্চিতের চেয়ে রাজনৈতিক ইমেজ রক্ষার লড়াই বেশি দেখা যায়?

এসব ঘটনা একত্রে বাংলাদেশের ভয়াবহ এক বাস্তবতা সামনে আনে ধর্ষণ এখন শুধু অপরাধ নয়; বহু ক্ষেত্রে এটি রাজনৈতিক ক্ষমতা, প্রভাব ও বিচারহীনতার সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে গেছে।

যখন ধর্ষক জানে তার “দল” আছে, যখন স্থানীয় নেতা মামলা চাপা দিতে পারে,যখন ভুক্তভোগী পরিবার ভয় পায় রাজনৈতিক প্রতিশোধকে-তখন রাষ্ট্রের আইন কার্যত দুর্বল হয়ে পড়ে।

সবচেয়ে বড় লজ্জার বিষয় হলো, বাংলাদেশে এখনো অনেক নারী থানায় যেতে ভয় পায়। কারণ তারা জানে—ধর্ষণের পর তাদের লড়াই শুধু অপরাধীর বিরুদ্ধে না; সামাজিক অপমান, রাজনৈতিক চাপ, প্রশাসনিক উদাসীনতা এবং বিচারহীনতার বিরুদ্ধেও।

Link copied!