জাহিন হাসান রাহাত, ঢাকা
মার্চ ৩১, ২০২৬, ০৯:৪৪ পিএম
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা দেয়। তবে সঠিক সময়ে টিকা না নিলে যেকোনো বয়সের মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। চিকিৎসকরা জানান, হাম থেকে অনেক সময় নিউমোনিয়া বা মস্তিষ্কের প্রদাহের মতো জটিলতা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
হাম হলো এক ধরনের ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, যা 'মরবিলিভাইরাস' নামক ভাইরাসের কারণে হয়। এটি প্রধানত শ্বাসতন্ত্রে আক্রমণ করে এবং পরে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রধান লক্ষণ হলো তীব্র জ্বর এবং শরীরে লালচে দানাদার র্যাশ বা ফুসকুড়ি।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, এটি কেবল সাধারণ কোনো চর্মরোগ নয়, বরং একটি পদ্ধতিগত সংক্রমণ। সাধারণত শৈশবে এই রোগটি বেশি দেখা গেলেও যারা টিকার আওতায় আসেননি, তাদের ঝুঁকি সব সময় বেশি থাকে।
হাম হওয়ার প্রধান কারণ হলো ভাইরাসের সংক্রমণ। আক্রান্ত ব্যক্তির নাক বা মুখ থেকে নির্গত তরল বা ড্রপলেটের মাধ্যমে এই ভাইরাসটি অন্য সুস্থ মানুষের দেহে প্রবেশ করে। যারা হামের টিকা গ্রহণ করেননি, তারা খুব সহজেই এই ভাইরাসে আক্রান্ত হন।
চিকিৎসকদের মতে, শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকলে বা অপুষ্টিজনিত সমস্যা থাকলে হামের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে ভিটামিন-এ এর অভাব থাকলে এই রোগের তীব্রতা ও জটিলতা আরও বেশি হতে পারে।
হাম প্রধানত বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তি যখন কথা বলেন, হাঁচি বা কাশি দেন, তখন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণা বাতাসে ভেসে বেড়ায়। সুস্থ ব্যক্তি সেই বাতাস গ্রহণ করলে ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
এই ভাইরাসটি বাতাসের কোনো তলে প্রায় ২ ঘণ্টা পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত তোয়ালে, গ্লাস বা অন্য কোনো জিনিস ব্যবহারের মাধ্যমেও সংক্রমণ ছড়াতে পারে। একজন আক্রান্ত ব্যক্তি উপসর্গ দেখা দেওয়ার ৪ দিন আগে থেকে ভাইরাসটি ছড়াতে সক্ষম।
হামের প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে তীব্র জ্বর, চোখ লাল হওয়া, সর্দি ও কাশি। আক্রান্ত হওয়ার কয়েক দিন পর মুখের ভেতরে ছোট সাদা দাগ দেখা দেয় এবং পরে সারা শরীরে লালচে র্যাশ ছড়িয়ে পড়ে।
হাম প্রতিরোধের একমাত্র ও প্রধান উপায় হলো টিকা (MR Vaccine) গ্রহণ করা। শিশুদের সঠিক সময়ে টিকার ডোজ নিশ্চিত করার পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখা জরুরি। এ সময় প্রচুর তরল খাবার ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ভিটামিন গ্রহণ করতে হবে।
জেএইচআর